ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬,  ১৪ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

হাতিয়ায় চর দখল নিয়ে গোলাগুলি, নিহত পাঁচ


  • আপলোড সময় : মঙ্গলবার ২৩ ডিসেম্বর, ২০২৫ সময় : ৬:৩০ পিএম

নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার জাগলার চরে জমি দখলকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের গোলাগুলিতে অন্তত পাঁচজন নিহত এবং আরও ৮ থেকে ১০ জন আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে একজনের নাম পরিচয় পাওয়া গেছে, বাকিদের এখনও শনাক্ত করা যায়নি। মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার সুখচর ইউনিয়নের ৭ ও ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সীমান্তবর্তী জাগলার চর এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

নিহত আলাউদ্দিন (৪০) সুখচর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের চর আমান উল্যাহ গ্রামের ছেরাং বাড়ির মহিউদ্দিনের ছেলে। হাতিয়া থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল আলম এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

স্থানীয় সূত্র জানায়, জাগলার চরের জমি এখনও সরকারিভাবে কাউকে বন্দোবস্ত দেওয়া হয়নি। গত ৫ আগস্টের পর জাহাজমারা ইউনিয়নের কোপা সামছু বাহিনী ওই চরের বেশ কিছু জমি বিক্রি করে। এরপর সুখচর ইউনিয়নের আলাউদ্দিন বাহিনী জমির দখল নিতে উদ্যত হয়। তারা আরও কিছু জমি বিক্রি করে। দুই পক্ষ আলাদাভাবে জমি বিক্রির চেষ্টা চালাতে থাকে।

অভিযোগ রয়েছে, চর দখলের সঙ্গে যুক্ত ডাকাত আলাউদ্দিনের সঙ্গে সুখচর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি বেলায়েত হোসেন সেলিম, আওয়ামী লীগ নেতা নিজাম মেম্বার ও বিএনপি নেতা নবীর ঘনিষ্ঠতা রয়েছে। তাদের সহযোগিতায় আলাউদ্দিন বাহিনী কোপা সামছু বাহিনীকে চর থেকে বিতাড়িত করে জমি দখল করে।

দুটি পক্ষের মধ্যে একাধিকবার বিরোধ ও উত্তেজনা তৈরি হয়। মঙ্গলবার সকালে জমি দখলকে কেন্দ্র করে কোপা সামছু ও আলাউদ্দিন গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয় এবং দুই পক্ষের মধ্যে বন্দুকযুদ্ধ হয়। এতে আলাউদ্দিনসহ চারজন গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন। পরে আলাউদ্দিনকে উদ্ধার করে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। অপর চারজনের মরদেহ ঘটনাস্থলেই পড়ে ছিল।

স্থানীয়দের ধারণা, সংঘর্ষে তিন বাহিনী — ফরিদ কমান্ডার, শামসু বাহিনী ও আলাউদ্দিন বাহিনী — পরস্পরের সঙ্গে গোলাগুলি করেছে। এতে সামসু বাহিনীর প্রধান সামসুদ্দিন ও আলাউদ্দিন বাহিনীর প্রধান আলাউদ্দিন নিহত হয়েছেন। তবে ফরিদ ডাকাত তার বাহিনী নিয়ে পালিয়ে গেছে।

বাসিন্দারা অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে চর এলাকায় উশৃঙ্খলা বিরাজ করছে। সংঘর্ষের সময় বাড়িঘর পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে এবং বাহিনীগুলো লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। দুর্গম চরাঞ্চল হওয়ায় হতাহতের সংখ্যা বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা হাছান উদ্দিন জানান, দ্বন্দ্বের মূল কারণ চর দখল নিয়ে তিন বাহিনীর সংঘর্ষ। এতে দুই প্রধান নিহত হলেও ফরিদ ডাকাত পালিয়ে গেছে।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে সুখচর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি বেলায়েত হোসেন সেলিমের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. সাইফুল আলম জানান, নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে একটি মরদেহ রাখা আছে এবং চারটি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। দুর্গম চরাঞ্চলের কারণে পুলিশ বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছে। ময়নাতদন্তের মাধ্যমে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।

আকাশজমিন / আরআর 


এ সম্পর্কিত আরো খবর