নড়াইলে বিভিন্ন এলাকা থেকে হারিয়ে যাওয়া ২৬টি মোবাইল ফোন এবং অনলাইন প্রতারণার মাধ্যমে খোয়া যাওয়া ৯২ হাজার টাকা উদ্ধার করে প্রকৃত মালিকদের কাছে ফিরিয়ে দিয়েছে জেলা পুলিশ। বিভিন্ন থানায় করা সাধারণ ডায়রির (জিডি) ভিত্তিতে নড়াইল জেলা পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেল তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় এই উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করে।
মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) সকালে নড়াইল পুলিশ সুপার কার্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) নূর-ই আলম সিদ্দিকী উদ্ধারকৃত মোবাইল ফোন ও নগদ অর্থ সংশ্লিষ্ট মালিকদের হাতে তুলে দেন। এ সময় মোবাইল ও টাকা ফিরে পেয়ে অনেক ভুক্তভোগী আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, জেলার চারটি থানায় করা সাধারণ ডায়রির তদন্তের ভিত্তিতে সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেলের একটি বিশেষ দল এই উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করে। এসআই মো. জয়নুল আবেদীন, এসআই মো. রাকিবুল হাসান ও এসআই আলী হোসেনের নেতৃত্বে টিমটি আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে হারানো মোবাইল ফোনগুলোর অবস্থান শনাক্ত করে এবং অনলাইন প্রতারণার মাধ্যমে খোয়া যাওয়া অর্থ উদ্ধার করতে সক্ষম হয়।
পুলিশ জানায়, নভেম্বর মাসে বিভিন্ন সময়ে হারিয়ে যাওয়া মোট ২৬টি মোবাইল ফোন এবং অনলাইন প্রতারণার মাধ্যমে হাতছাড়া হওয়া মোট ৯২ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত মোবাইল ফোন ও অর্থ যাচাই-বাছাই শেষে প্রকৃত মালিকদের শনাক্ত করে তাদের কাছে হস্তান্তরের ব্যবস্থা করা হয়।
মোবাইল ও অর্থ ফেরত পাওয়া ভুক্তভোগীরা জানান, হারিয়ে যাওয়ার পর তাঁরা প্রায় আশাই ছেড়ে দিয়েছিলেন। তবে জেলা পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেলের আন্তরিক প্রচেষ্টা ও দক্ষতার মাধ্যমে তাঁদের হারানো সম্পদ ফিরে পেয়ে তাঁরা অত্যন্ত আনন্দিত ও কৃতজ্ঞ। অনেকেই জেলা পুলিশের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানান।
ভুক্তভোগীরা আরও বলেন, ভবিষ্যতে কেউ মোবাইল ফোন হারালে কিংবা অনলাইন প্রতারণার শিকার হলে দেরি না করে থানায় সাধারণ ডায়রি করার মাধ্যমে সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেলের সহায়তা নেওয়া উচিত। এতে হারানো সম্পদ উদ্ধারের সম্ভাবনা অনেকটাই বেড়ে যায়।
অনুষ্ঠানে সিসিআইসি অফিসার ইনচার্জ মো. আব্দুল খালেক এবং সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেলের অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সাধারণ মানুষের হারানো মোবাইল ফোন ও প্রতারণার শিকার হয়ে খোয়া যাওয়া অর্থ উদ্ধারে সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেল নিয়মিতভাবে কাজ করে যাচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও এই কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।