অনলাইন রিপোর্টার
তুরস্কে এক ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনায় লিবিয়ার সেনাপ্রধান মোহাম্মদ আলী আহমেদ আল-হাদ্দাদ নিহত হয়েছেন। আঙ্কারা থেকে উড্ডয়নের কিছু সময় পর তাকে বহনকারী বিমানটি বিধ্বস্ত হয়। লিবিয়ার আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের প্রধানমন্ত্রী আবদুলহামিদ দিবেইবাহ এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী দিবেইবাহ এক বিবৃতিতে বলেন, তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় এক সরকারি সফর শেষে ফেরার পথে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। তিনি এই ঘটনাকে জাতির জন্য এবং সামরিক প্রতিষ্ঠানের জন্য এক ‘বিরাট ক্ষতি’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
বিমানে সেনাপ্রধান আল-হাদ্দাদ ছাড়াও আরও চারজন আরোহী ছিলেন। তারা হলেন- লিবিয়ার স্থলবাহিনীর কমান্ডার, সামরিক উৎপাদন কর্তৃপক্ষের পরিচালক, সেনাপ্রধানের একজন উপদেষ্টা এবং তার দফতরের একজন আলোকচিত্রী। দুর্ঘটনায় বিমানে থাকা পাঁচজনের সবাই প্রাণ হারিয়েছেন।
তুরস্কে ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন উত্তর আফ্রিকার দেশ লিবিয়ার সেনাপ্রধান জেনারেল মোহাম্মদ আলী আহমেদ আল-হাদ্দাদ। সামরিক ও নিরাপত্তা সহযোগিতা জোরদারের লক্ষ্যে তুরস্ক সফরে থাকা অবস্থায় আঙ্কারা থেকে ত্রিপোলিগামী একটি বিজনেস জেট বিধ্বস্ত হলে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। লিবিয়ার প্রধানমন্ত্রী নিহতের তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারা থেকে উড্ডয়ন করা একটি ফ্যালকন–৫০ বিজনেস জেটে জেনারেল মোহাম্মদ আলী আহমেদ আল-হাদ্দাদসহ মোট পাঁচজন আরোহী ছিলেন। বিমান দুর্ঘটনায় তাদের সবাই নিহত হন। তুরস্কের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলি ইয়ারলিকায়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জানান, স্থানীয় সময় রাত ৮টা ৫২ মিনিটে বিমানটির সঙ্গে এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, আঙ্কারার বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়নের প্রায় ৪২ মিনিট পর বিমানটির সঙ্গে যোগাযোগ হারিয়ে যায়। যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার কিছুক্ষণ আগেই বিমানটি জরুরি অবতরণের অনুরোধ জানিয়েছিল বলে জানান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। পরে আঙ্কারার দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে বিমানটির ধ্বংসাবশেষ উদ্ধার করা হয়।
পরবর্তী এক পোস্টে আলি ইয়ারলিকায়া জানান, আঙ্কারার হাইমানা জেলার কেসিককাভাক গ্রামের কাছে পুলিশ সদস্যরা বিমানটির ধ্বংসাবশেষ শনাক্ত করেন। তিনি বলেন, দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে ইতোমধ্যে তদন্ত শুরু হয়েছে এবং তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে জনসাধারণকে জানানো হবে।
এদিকে লিবিয়ার আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার গভর্নমেন্ট অব ন্যাশনাল ইউনিটির (জিএনইউ) প্রধানমন্ত্রী আবদুল হামিদ দবেইবা এক বিবৃতিতে জেনারেল হাদ্দাদসহ কয়েকজন শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি এই ঘটনাকে লিবিয়ার জন্য ‘একটি বড় ক্ষতি’ হিসেবে উল্লেখ করেন।
প্রধানমন্ত্রী আবদুল হামিদ দবেইবা বলেন, লিবিয়া এমন সব মানুষের মৃত্যুতে শোকাহত, যারা নিষ্ঠা, পেশাদারিত্ব ও আন্তরিকতার সঙ্গে দেশের সেবা করে যাচ্ছিলেন। তিনি নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান এবং এই কঠিন সময়ে তাদের পাশে থাকার অঙ্গীকার করেন।
লিবিয়ার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দুই দেশের মধ্যে সামরিক ও নিরাপত্তা সহযোগিতা আরও জোরদার করার লক্ষ্যে আলোচনা করতে জেনারেল হাদ্দাদ ও তার সফরসঙ্গীরা তুরস্কে অবস্থান করছিলেন। সফর শেষে তারা ত্রিপোলিতে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, এমন সময় এই দুর্ঘটনা ঘটে।
উল্লেখ্য, ২০১৯ সালে তুরস্ক লিবিয়ার পূর্বাঞ্চল থেকে আসা বাহিনীর বিরুদ্ধে সামরিক হস্তক্ষেপ করে ত্রিপোলিভিত্তিক আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে রক্ষা করে। ওই সময় থেকেই তুরস্ক লিবিয়ায় একটি প্রভাবশালী শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। এরপর থেকে দুই দেশের মধ্যে রাজনৈতিক, সামরিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক ক্রমেই ঘনিষ্ঠ হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, লিবিয়ার সেনাপ্রধানের আকস্মিক মৃত্যু দেশটির সামরিক নেতৃত্বে বড় ধরনের শূন্যতা তৈরি করতে পারে। একই সঙ্গে তুরস্ক-লিবিয়া সামরিক সহযোগিতার ভবিষ্যৎ গতিপথেও এই দুর্ঘটনার প্রভাব পড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আকাশজমিন / আরআর