হাইকোর্ট বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অবসরের তিন বছর পূর্ণ না করা পর্যন্ত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবেন না বলে রায় দিয়েছেন। বিচারপতি নাইমা হায়দার ও বিচারপতি কাজী জিনাত হকের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই সিদ্ধান্ত দেন।
এর আগে, ৪ ডিসেম্বর হাইকোর্ট চারটি পৃথক রিট আবেদন খারিজ করে দিয়েছে। এসব রিট আবেদনে দাবি করা হয়েছিল, অবসরের তিন বছর পার না হলে সামরিক ও বেসামরিক সরকারি কর্মকর্তাদের নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিধানটি সংবিধানের মৌলিক অধিকার ও সমঅধিকার লঙ্ঘন করে। তবে হাইকোর্ট এসব আবেদন খারিজ করে বিধানটির বৈধতা স্বীকার করে।
বিচারপতিরা রিট আবেদনের শুনানি শেষে বলেছেন, সরকারি চাকরিজীবীরা তাদের দায়িত্ব পালনের সময় ও অবসরকালীন সময়ের মধ্যে সুষ্ঠু ব্যবধান রাখা জরুরি। এই ব্যবধান নির্বাচন প্রক্রিয়ায় অবাধ প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করে এবং রাষ্ট্রের স্বার্থ রক্ষা করে।
রিট আবেদনের পক্ষে যুক্তি দেন আইনজীবীরা, ভোটে অংশ নেওয়া সংবিধানের মৌলিক অধিকার হলেও সরকারি কর্মচারীদের জন্য কিছু সীমাবদ্ধতা থাকা প্রয়োজন হতে পারে। তবে অবসরকালীন তিন বছর সময়ের বিধান অযৌক্তিক ও অনুচিত বলেও দাবি করা হয়েছিল।
হাইকোর্ট গত ২৯ নভেম্বর রিট পিটিশন ও রুলের শুনানি শেষ করেন এবং রায়ের জন্য যে কোনো সময় সিদ্ধান্ত ঘোষণা করতে পারেন বলেও জানান।
এই রায়ের ফলে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে নতুন বিধিনিষেধ আরোপিত হলো। দেশের নির্বাচনী পরিবেশে এ সিদ্ধান্তের প্রভাব নিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে আলোচনার সূত্রপাত হয়েছে।
আকাশজমিন / আরআর