ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬,  ১৪ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

শাহবাগে যানচলাচল বন্ধ, ধীরগতিতে চলছে গাড়ি


  • আপলোড সময় : সোমবার ২৯ ডিসেম্বর, ২০২৫ সময় : ৪:৩১ পিএম

শাহবাগ মোড়ে যানচলাচল বন্ধ থাকায় রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এই এলাকায় তীব্র যানজট ও ধীরগতির পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরিফ ওসমান হাদির হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) দুপুর থেকে শাহবাগ মোড়ে জমায়েত শুরু করেন ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীরা। এর ফলে এই মুহূর্তে শাহবাগ মোড় দিয়ে সব ধরনের সাধারণ যান চলাচল বন্ধ রয়েছে।

দুপুরে শাহবাগ এলাকা ঘুরে দেখা যায়, জনগণের ভোগান্তি কমাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে ডাইভারশনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। শাহবাগে আসা প্রতিটি সড়কের বাম পাশ দিয়ে গাড়িগুলো ঘুরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। সায়েন্সল্যাব দিক থেকে আসা যানবাহন শাহবাগ মোড়ে এসে বাম দিকে মোড় নিয়ে ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড় পর্যন্ত গিয়ে ইউটার্ন নিয়ে পুনরায় শাহবাগ মোড়ে ফিরে মৎস্য ভবনের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। একইভাবে চারুকলা, কাঁটাবন ও টিএসসি দিক থেকেও যানবাহনগুলো বাম পাশ দিয়ে ঘুরে গন্তব্যে পৌঁছানোর চেষ্টা করছে।

তবে জরুরি সেবা নির্বিঘ্ন রাখতে শাহবাগ মোড়ে অ্যাম্বুলেন্সসহ জরুরি যানবাহনগুলোকে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে। এর বাইরে সাধারণ যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ থাকায় আশপাশের সড়কগুলোতে দীর্ঘ যানজট তৈরি হয়েছে। ডাইভারশনের কারণে অনেক যাত্রীকে গন্তব্যে পৌঁছাতে স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে বেশি সময় ব্যয় করতে হচ্ছে।

দুপুর ২টা থেকে ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীরা শাহবাগ মোড়ে অবস্থান নেন। তারা দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়, কওমি ও আলিয়া মাদ্রাসা, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী এবং সচেতন জনগণকে শাহবাগে এসে কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে শাহবাগ মোড়ে জমায়েতের পরিসর বাড়তে থাকে এবং বিভিন্ন স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে এলাকা।

সমাবেশ থেকে ইনকিলাব মঞ্চের পক্ষ থেকে চার দফা দাবি উত্থাপন করা হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে— খুনি, খুনের পরিকল্পনাকারী, খুনে সহায়তাকারী, পলায়নে সহযোগী ও আশ্রয়দাতাসহ পুরো খুনি চক্রের বিচারকার্য আগামী ২৪ দিনের মধ্যে সম্পন্ন করা। এছাড়া বাংলাদেশে অবস্থানরত সকল ভারতীয়দের ওয়ার্ক পারমিট বাতিলের দাবি জানানো হয়।

সমাবেশে আরও দাবি করা হয়, ভারত যদি তার অভ্যন্তরে আশ্রয় নেওয়া খুনিদের ফেরত দিতে অস্বীকৃতি জানায়, তাহলে ভারতের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আদালতে মামলা দায়ের করতে হবে। একই সঙ্গে সিভিল মিলিটারি ইন্টেলিজেন্সের মধ্যে লুকিয়ে থাকা ফ্যাসিস্টের দোসরদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তার ও বিচারের মুখোমুখি করার দাবিও জানানো হয়।

এদিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে শাহবাগ ও আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে ডাইভারশন ব্যবস্থাপনায় কাজ করছেন। আন্দোলন চলাকালীন সময় পর্যন্ত শাহবাগ মোড়ে যান চলাচল বন্ধ থাকবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

আকাশজমিন / আরআর 


এ সম্পর্কিত আরো খবর