শনিবার (৩ জানুয়ারি) মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই কার্যক্রম শেষে বিভিন্ন আসনে এসব সিদ্ধান্ত জানান রিটার্নিং কর্মকর্তারা। নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ে যাচাই-বাছাই শেষে এসব প্রার্থীর মনোনয়নপত্রে কোনো আইনগত বা বিধিগত ত্রুটি না থাকায় তা বৈধ ঘোষণা করা হয়।
ঢাকা-৬ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেনের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে বৈধ ঘোষণা করেন ঢাকা জেলা প্রশাসক ও সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তা। শনিবার সকালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। এ সময় সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং প্রার্থীর প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।
অন্যদিকে ঢাকা-১৩ আসনে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয় নির্বাচনি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে। রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. ইউনুচ আলী প্রার্থীদের উপস্থিতিতে যাচাই-বাছাই শেষে সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন। তিনি জানান, ঢাকা-১৩ আসনে মোট ১১ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন। যাচাই-বাছাই শেষে এর মধ্যে ছয়টি মনোনয়নপত্র বৈধ এবং পাঁচটি মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে।
ঢাকা-১৩ আসনে বৈধ ঘোষিত ছয়জন প্রার্থী হলেন—স্বতন্ত্র প্রার্থী সোহেল রানা, খেলাফত মজলিসের মামুনুল হক, বিএনপির প্রার্থী ববি হাজ্জাজ, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মুরাদ হোসেন, বাংলাদেশ মাইনরিটি জনতা পার্টির মো. শাহাবুদ্দিন এবং ইনসানিয়াত বিপ্লবের ফাতেমা আক্তার মুনিয়া।
একই সঙ্গে যাচাই-বাছাইয়ে বাতিল হওয়া পাঁচজন প্রার্থী হলেন—স্বতন্ত্র প্রার্থী শেখ মো. রবিউল ইসলাম, গণ অধিকার পরিষদের মিজানুর রহমান, বাংলাদেশ মুসলিম লীগের শাহরিয়ার ইফতেখার, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের মো. খালেকুজ্জামান এবং আমজনতার দলের প্রার্থী রাজু আহমেদ। রিটার্নিং কর্মকর্তা জানান, মনোনয়নপত্রে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের ঘাটতি ও বিধি অনুযায়ী শর্ত পূরণ না করায় এসব মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে।
এদিকে ঠাকুরগাঁও-১ (সদর) আসন থেকে বিএনপির মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছিলেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শনিবার সকালে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে তার মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা ইশরাত ফারজানা। যাচাই-বাছাই শেষে সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
উল্লেখ্য, এর আগে গত বছরের ৩ নভেম্বর রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৩৭ আসনে বিএনপির প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ঘোষিত ওই তালিকায় ঠাকুরগাঁও-১ আসনে তার নিজের নামও অন্তর্ভুক্ত ছিল।
ঠাকুরগাঁও-১ আসনে এবার প্রতিদ্বন্দ্বিতা আরও বহুমাত্রিক রূপ নিয়েছে। যাচাই-বাছাই শেষে ওই আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মনোনীত প্রার্থী খাদেমুল ইসলামের মনোনয়নপত্রও বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। ফলে এ আসনে একাধিক রাজনৈতিক দলের প্রার্থীর মধ্যে সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতা হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
নির্বাচন কমিশন ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল দায়ের করা যাবে আগামী ৫ জানুয়ারি থেকে ৯ জানুয়ারি পর্যন্ত। আপিল শুনানি ও নিষ্পত্তি হবে ১০ জানুয়ারি থেকে ১৮ জানুয়ারির মধ্যে। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে ২০ জানুয়ারি। এরপর ২১ জানুয়ারি চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ এবং প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে।
চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের পর ২২ জানুয়ারি থেকে আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী প্রচারণা শুরু হবে, যা চলবে ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে সাতটা পর্যন্ত। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে ভোটগ্রহণ। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্যে সার্বিক প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
আকাশজমিন / আরআর