ঢাকা টুডে ডেস্ক
ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরো ও তাঁর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেস যুক্তরাষ্ট্রের সেনাদের হাতে আটক হয়ে নিয়ে যাওয়ার পর দেশটির বিরোধী দলগুলোকে উৎসবমুখর দেখা যায়। এর পরের কয়েক ঘণ্টায় ভেনেজুয়েলার বিরোধীদলীয় নেত্রী ও নোবেল শান্তি বিজয়ী ২০২৫ মারিয়া কোরিনা মাচাদো জনগণকে স্বাধীনতার আহ্বান জানান।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সংবাদ সম্মেলনে মাচাদোর প্রতি আগ্রহ দেখাননি। তিনি মাচাদোর পরিবর্তে মাদুরোর অনুগত ভাইস প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজকে দায়িত্ব নিতে আগ্রহ প্রকাশ করেন। রদ্রিগেজ বর্তমানে ভেনেজুয়েলার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট।
ট্রাম্পের এমন মনোভাব প্রকাশের পর বিরোধীদলীয় চ্যানেলগুলো দিনের বেশির ভাগ সময় নীরব ছিল। রদ্রিগেজ মার্কিন নিষেধাজ্ঞার তালিকায় রয়েছেন এবং এখন পর্যন্ত ট্রাম্পের প্রস্তাব নিয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য করেননি। তিনি সম্প্রতি টেলিভিশনে বলেছিলেন, মাদুরোই ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট।
মাচাদো ২০২৪ সালের নির্বাচনে বিরোধীদলীয় প্রার্থী এদমুন্দো গোনসালেস উররুতিয়াকে অবিলম্বে প্রেসিডেন্ট নিয়োগ দিতে এবং ভেনেজুয়েলার সামরিক বাহিনীকে তাঁর প্রতি অনুগত থাকতে আহ্বান করেছিলেন। তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক উত্তরণ অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত আমাদের সতর্ক, সক্রিয় ও সংগঠিত থাকতে হবে।
তবে ট্রাম্প মাচাদোর সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করেননি। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, মাচাদো একজন খুব ভালো নারী, কিন্তু দেশের ভেতরে তাঁর সমর্থন বা সম্মান নেই।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ট্রাম্পের লক্ষ্য গণতান্ত্রিক উত্তরণ নয়, বরং অপরাধ দমন, মাদক পাচারকারীদের নৌকা ধ্বংস এবং ভেনেজুয়েলার তেলের ওপর নিয়ন্ত্রণ। ইলিয়াস ফেরার, ওরিনোকো রিসার্চের প্রতিষ্ঠাতা বলেন, এ কাজের জন্য আদর্শ গণতন্ত্রের প্রয়োজন নেই। আপনার শুধু এমন একটি সরকার দরকার, যারা আপনার অনুগত।
ডেভিড স্মাইল্ড, টুলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও ভেনেজুয়েলা বিশেষজ্ঞ জানান, ট্রাম্প প্রশাসনের কাছে গণতন্ত্র বা মাচাদোর কোনো গুরুত্ব নেই। তাঁদের পরিকল্পনায় দেশটি স্থিতিশীল, অর্থনৈতিকভাবে উৎপাদনশীল এবং মার্কিন স্বার্থের প্রতি বন্ধুত্বপূর্ণ হবে।
রদ্রিগেজের ওপর ট্রাম্পের নজর থাকলেও তিনি এখন পর্যন্ত প্রস্তাব নিয়ে সরাসরি মন্তব্য করেননি। রদ্রিগেজ বলেন, আমরা আর কখনো কারও উপনিবেশ হব না। এই সময় তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন ভেনেজুয়েলার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দিওসদাদো ক্যাবেলো।
ভেনেজুয়েলার একজন বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করে সিএনএনকে বলেন, মাদুরোকে সরিয়ে যদি রদ্রিগেজকে ক্ষমতায় রাখা হয়, তাহলে আমাদের কী লাভ? এর কোনো অর্থ খুঁজে পাচ্ছি না।
ট্রাম্প প্রশাসনের পরিকল্পনা স্পষ্ট—গণতান্ত্রিক উত্তরণ নয়, বরং এমন সরকার দরকার, যারা যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থে কাজ করবে এবং ভেনেজুয়েলার সম্পদে নিয়ন্ত্রণ রাখবে।
আকাশজমিন / আরআর