এসটিসির দখল থেকে দক্ষিণ ইয়েমেনের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শহর পুনরুদ্ধারের দাবি করেছে সৌদি আরব-সমর্থিত ইয়েমেন সরকার। জাতিসংঘ স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারের প্রেসিডেন্সিয়াল লিডারশিপ কাউন্সিলের প্রধান রাশাদ আল-আলিমি বলেছেন, সৌদি আরবের সহায়তায় সরকারি বাহিনীর হোমল্যান্ড শিল্ড ইউনিট সংযুক্ত আরব আমিরাত-সমর্থিত বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন সাউদার্ন ট্রানজিশনাল কাউন্সিল (এসটিসি)-এর কাছ থেকে হাদরামাউত ও আল-মাহরা প্রদেশ পুনরুদ্ধার করেছে।
সরকারি ভাষ্য অনুযায়ী, সৌদি সীমান্তসংলগ্ন এই দুটি প্রদেশ পুনর্দখলে হোমল্যান্ড শিল্ড বাহিনী গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য অর্জন করেছে। ইয়েমেন সরকারের দাবি, দেশটির সবচেয়ে বড় গভর্নরেট হাদরামাউতের সব জেলা বর্তমানে সরকারি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। একইভাবে আল-মাহরা প্রদেশেও এসটিসি বাহিনী সরে যাওয়ার পর সরকারি বাহিনী প্রদেশটির নয়টি জেলার নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সম্প্রতি দক্ষিণ ইয়েমেনে চলমান উত্তেজনার মধ্যে এসব এলাকা পুনরুদ্ধার কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। হাদরামাউত ও আল-মাহরা—এই দুই প্রদেশ মিলিয়ে ইয়েমেনের প্রায় অর্ধেক ভূখণ্ড এবং এগুলোর সঙ্গে সৌদি আরবের দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে। ফলে এই অঞ্চলগুলোর নিয়ন্ত্রণ শুধু অভ্যন্তরীণ রাজনীতিই নয়, আঞ্চলিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
অন্যদিকে এসটিসি পক্ষ জানিয়েছে, সৌদি-সমর্থিত বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে তাদের বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সংগঠনটির এক কর্মকর্তা জানান, শুক্রবার থেকে শুরু হওয়া সংঘর্ষে অন্তত ৮০ জন এসটিসি যোদ্ধা নিহত হয়েছেন। একই সময়ে অন্তত ১৫২ জন আহত এবং ১৩০ জনকে আটক করা হয়েছে বলেও দাবি করা হয়।
এসটিসির এক সামরিক কর্মকর্তা জানান, মুকাল্লার পশ্চিমাঞ্চলের বারশিদ এলাকায় তাদের একটি শিবিরে সৌদি যুদ্ধবিমান তীব্র বিমান হামলা চালিয়েছে। তবে চলমান উত্তেজনার মধ্যেও সৌদি আরবের মধ্যস্থতায় সংলাপের প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়েছে এসটিসি। তারা রাজনৈতিক সমাধানের পথ খোলা রাখার কথাও জানিয়েছে।
ডিসেম্বরের শুরুতে এসটিসি বাহিনী হাদরামাউত ও আল-মাহরা দখল করায় দেশজুড়ে নজিরবিহীন উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এরই ধারাবাহিকতায় সাম্প্রতিক এই সংঘর্ষ এবং পাল্টা অভিযানে দক্ষিণ ইয়েমেনের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
এ পরিস্থিতির প্রভাব পড়েছে বেসামরিক যোগাযোগ ব্যবস্থায়ও। কয়েক দিন বন্ধ থাকার পর এডেন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে কিছু ফ্লাইট পুনরায় চালু হয়েছে। তবে বিমানবন্দর বন্ধ থাকার দায় নিয়ে ইয়েমেন সরকার ও এসটিসি একে অপরকে দোষারোপ করছে।
এ ছাড়া ইয়েমেনের যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস জানিয়েছে, ভারত মহাসাগরে অবস্থিত ইয়েমেনের সোকোত্রা দ্বীপে যাতায়াতকারী ফ্লাইট বন্ধ অথবা অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে তারা তথ্য পেয়েছে। সামগ্রিকভাবে ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলে চলমান এই সংঘাত দেশটির রাজনৈতিক ও সামরিক সংকটকে আরও গভীর করে তুলছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।