অনলাইন রিপোর্টার
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান বিন হাদি, ঢাকা মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আজিজুর রহমান মুছাব্বির এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থী এস এম শাহরিয়ার আলম সাম্য হত্যার বিচার নিয়ে আবেগঘন প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এসব হত্যাকাণ্ডের বিচার এ দেশের মাটিতেই হতে হবে বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া ওই পোস্টে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন। তিনি লেখেন, সেদিন তিনি স্ত্রীসহ ঢাকা এয়ারপোর্টে নামার পর এক তরুণ দম্পতি তার কাছে এগিয়ে আসেন। তরুণটি আবেগভরা কণ্ঠে বলেন, ‘স্যার, আপনারা ক্ষমতায় এলে, জাস্টিস ফর হাদি।’
ফেসবুক পোস্টে বিএনপির মহাসচিব লেখেন, এই কথাগুলো তার হৃদয়কে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, শরিফ ওসমান বিন হাদি ছিলেন একদম তরুণ, যিনি গণতন্ত্রের পক্ষে ছিলেন এবং নির্বাচন নিয়ে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনার সঙ্গে প্রচারণা চালাচ্ছিলেন। এমন একজন তরুণকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে, যা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তার পোস্টে আরও লেখেন, ‘একটি ছেলে, একদম তরুণ, যে ছিল গণতন্ত্রের পক্ষে, নির্বাচন নিয়ে কী উচ্ছ্বাস, প্রচারণা চালাচ্ছিল, তাকে এভাবে হত্যা করা হলো।’ তিনি প্রশ্ন তোলেন, রাষ্ট্র ও সমাজ কি এই হত্যাকাণ্ডগুলো উপেক্ষা করতে পারে? তার মতে, এসব হত্যার বিচার না হলে দেশে ন্যায়বিচার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়।
তিনি আজিজুর রহমান মুছাব্বির এবং এস এম শাহরিয়ার আলম সাম্যের নাম উল্লেখ করে বলেন, এসব তরুণের হত্যাকাণ্ড শুধু কয়েকটি পরিবারের ক্ষতি নয়, বরং এটি পুরো সমাজের জন্য গভীর ক্ষতি। মির্জা ফখরুলের ভাষায়, ‘মুছাব্বির, সাম্য—প্রতিটি হত্যার বিচার হতে হবে এ মাটিতে।’ তিনি এই বিচার নিশ্চিত করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে বলেন, ‘ইনশাআল্লাহ।’
বিএনপির মহাসচিবের এই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে। অনেকেই তার পোস্টে সমর্থন জানিয়ে মন্তব্য করেছেন এবং নিহতদের বিচার দ্রুত নিশ্চিত করার দাবি তুলেছেন। রাজনৈতিক অঙ্গনে এ বক্তব্যকে চলমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দীর্ঘদিন ধরেই দেশে বিচারহীনতার সংস্কৃতির সমালোচনা করে আসছেন। তার মতে, রাজনৈতিক মতাদর্শ বা অবস্থান যাই হোক না কেন, প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা ছাড়া গণতন্ত্র টেকসই হতে পারে না বলেও তিনি বারবার উল্লেখ করে আসছেন।
এই পোস্টের মাধ্যমে তিনি আবারও স্পষ্ট করে দিলেন, বিএনপি ক্ষমতায় এলে রাজনৈতিক সহিংসতা ও হত্যাকাণ্ডের বিচার প্রশ্নে কোনো আপস করা হবে না। তার বক্তব্য অনুযায়ী, যারা গণতন্ত্র, ভোটাধিকার ও ন্যায্য সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্য জীবন দিয়েছেন, তাদের রক্তের দায় এ দেশের মাটিতেই বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিষ্পত্তি করতে হবে।
আকাশজমিন / আরআর