ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬,  ১৪ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

মুন্সীগঞ্জ মহিলা কলেজে ক্লাস টেস্টের নামে অর্থ বাণিজ্য!


  • আপলোড সময় : বুধবার ১৪ জানুয়ারী, ২০২৬ সময় : ৬:০০ পিএম

মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি

মুন্সীগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজে একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ক্লাস টেস্টের নামে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, ২০ নম্বরের ক্লাস টেস্ট পরীক্ষার জন্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে জনপ্রতি ৩০০ টাকা করে আদায় করা হয়েছে। এতে প্রায় দেড় লাখ টাকা উত্তোলনের ঘটনা ঘটেছে বলে শিক্ষার্থীদের দাবি।

জানা যায়, ২০২৫–২৬ শিক্ষাবর্ষে কলেজটির একাদশ শ্রেণিতে মোট ৪৯৩ জন শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছেন। নিয়মিত পাঠদানের অংশ হিসেবে ক্লাস টেস্টের আয়োজন করা হলেও এর জন্য আলাদা করে কোনো ফি আদায়ের বিধান নেই বলে অভিযোগ উঠেছে। অথচ কলেজ কর্তৃপক্ষ এই পরীক্ষার জন্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে জোরপূর্বক টাকা আদায় করেছে বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা।

শিক্ষার্থীরা জানান, গত বছরের ১৫ অক্টোবর কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. আব্দুল হামিদ মোল্লা এবং ক্লাস টেস্ট পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক সহকারী অধ্যাপক মৌসুমী জাহানের স্বাক্ষরিত একটি পরীক্ষার রুটিন প্রকাশ করা হয়। ওই রুটিন অনুযায়ী গত বছরের ২ নভেম্বর থেকে ৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত ৩৫ মিনিট সময়ের ক্লাস টেস্ট পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিটি পরীক্ষার জন্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৩০০ টাকা করে নেওয়া হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, অভ্যন্তরীণ পরীক্ষার (অর্ধ-বার্ষিক ও বার্ষিক) জন্য আগে থেকেই ৭০০ টাকা করে ফি নেওয়া হয়েছে। তার পরও ক্লাস টেস্টের জন্য আলাদা করে টাকা আদায় করা সম্পূর্ণ অন্যায়। টাকা না দিলে পরীক্ষায় অংশ নিতে দেওয়া হবে না—এমন ভয় দেখানো হয়েছে বলেও তারা দাবি করেন।

এক শিক্ষার্থী বলেন, “২০ নম্বরের একটি পরীক্ষার জন্য ৩০০ টাকা নেওয়া হয়েছে। কোনো রশিদ দেওয়া হয়নি। শুধু হাতে একটি টোকেন দেওয়া হয়েছে, যেটা দেখিয়ে পরীক্ষায় বসতে হয়েছে।” শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, পড়াশোনার পাশাপাশি এভাবে বাড়তি অর্থ দিতে বাধ্য করা তাদের জন্য চরম ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আরেক শিক্ষার্থী বলেন, “এটা শিক্ষার নামে সরাসরি অর্থ বাণিজ্য। আমাদের অনেকেই নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান। এভাবে জোর করে টাকা আদায় করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।” একাধিক শিক্ষার্থীর কল রেকর্ড এই প্রতিবেদকের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে একাদশ শ্রেণির ক্লাস টেস্ট পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক সহকারী অধ্যাপক মৌসুমী জাহান বলেন, “১৪টি পরীক্ষার জন্য শিক্ষকরা একাডেমিক কাউন্সিলে আলোচনা করে রেগুলেশনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে এই টাকা নিয়েছেন।” তবে সরকারি নির্দেশনা রয়েছে কি না—এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, “একাডেমিক কাউন্সিলের সিদ্ধান্তই সরকারি নির্দেশনা।”

কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. আব্দুল হামিদ মোল্লা ফি নেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, “আমরা সকল শিক্ষকদের নিয়ে একাডেমিক কাউন্সিলের মাধ্যমে রেগুলেশন করে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি।” তবে সরকারি কোনো লিখিত নির্দেশনা রয়েছে কি না—সে বিষয়ে তিনি স্পষ্ট করে কিছু বলেননি।

এ বিষয়ে মুন্সীগঞ্জের জেলা প্রশাসক সৈয়দা নূরমহল আশরাফী বলেন, “বিষয়টি আমার জানা নেই। আপনার মাধ্যমে জানতে পারলাম। অতিরিক্ত টাকা আদায় করার কোনো সুযোগ নেই। শিক্ষার্থীরা লিখিতভাবে আমার কাছে আবেদন করলে বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”



এ সম্পর্কিত আরো খবর