আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের ফক্স নিউজ-এর ‘স্পেশাল রিপোর্ট উইথ ব্রেট বায়ার’ অনুষ্ঠানে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে স্পষ্ট জানিয়েছেন, ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীদের ফাঁসি দেয়ার কোনো পরিকল্পনা নেই। তিনি বলেন, “ফাঁসি দেয়ার কোনো পরিকল্পনাই আমাদের নেই। ফাঁসির প্রশ্নই আসে না। বিষয়টি সম্পূর্ণ অবান্তর।”
এই মন্তব্য আসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের তেহরানকে কেন্দ্র করে তীব্র হুঁশিয়ারির পরিপ্রেক্ষিতে। মঙ্গলবার ট্রাম্প সিবিএস নিউজকে বলেছেন, “যদি তারা বিক্ষোভকারীদের ফাঁসি দেওয়া শুরু করে, তবে এমন কিছু দেখবেন যা ভাবতেও পারবেন না। আমরা অত্যন্ত কঠোর পদক্ষেপ নেব।” তবে আরাঘচি জানিয়েছেন, তাঁর কাছে আসা তথ্য অনুযায়ী ইরানে বিক্ষোভ দমনে হত্যাকাণ্ডের মাত্রা কমছে এবং বর্তমানে বড় কোনো মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার পরিকল্পনা নেই।
ইরানে সম্প্রতি সরকারবিরোধী বিক্ষোভের উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে। সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক দুর্দশা ও বর্তমান শাসনব্যবস্থার বিরুদ্ধে অসন্তোষের কারণে এই বিক্ষোভে ব্যাপক জনগণ অংশগ্রহণ করছে। ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর এটি ইরানের ধর্মীয় নেতৃত্বের জন্য সবচেয়ে বড় পরীক্ষা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আরাঘচির মন্তব্য আন্তর্জাতিক চাপ মোকাবেলায় কৌশলী অবস্থান প্রকাশ করছে। নরওয়ে ভিত্তিক সংস্থা ইরান হিউম্যান রাইটস সোসাইটি জানায়, ইরানে ফাঁসি কার্যকরণ নতুন ঘটনা নয়, তবে বর্তমান রাজনৈতিক অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে এটি বিশেষভাবে নজরকাড়া।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সম্পর্ক গত বছর ইসরায়েলের সঙ্গে ১২ দিনের যুদ্ধ এবং জুনে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার পর থেকে উত্তেজনাপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। ট্রাম্পের সামরিক হুমকি ও তেহরানের কঠোর দমননীতি মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিকে এক অচেনা অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলেছে।
এর আগে মার্কিন কর্মকর্তারা ইরানের রাজনৈতিক অবস্থান ও মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। বিশেষত বিক্ষোভ দমনে নিহতদের সংখ্যা ও ফাঁসির সম্ভাবনা নিয়ে আন্তর্জাতিক চাপ তেহরানকে মোকাবিলা করতে বাধ্য করছে। এই প্রেক্ষাপটে আরাঘচির মন্তব্যকে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা শান্তিপ্রিয় ও কূটনৈতিক বার্তা হিসেবে দেখছেন।
বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরানি সরকার বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে সংলাপের জন্য কিছু কৌশল গ্রহণ করতে পারে, যাতে দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় থাকে। আরাঘচির বক্তব্য আশা প্রকাশ করছে যে, বড় কোনো শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হবে না এবং পরিস্থিতি শান্তিপূর্ণভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে।
সারসংক্ষেপে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন, বিক্ষোভকারীদের ফাঁসি দেয়ার কোনো পরিকল্পনা নেই। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি ও আন্তর্জাতিক চাপের মধ্যেও তেহরান বড় কোনো মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার প্রস্তুতি নিচ্ছে না।
আকাশজমিন / আরআর