বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার স্মরণে আয়োজিত নাগরিক শোকসভা শুরু হয়েছে। শুক্রবার বেলা আড়াইটার পর রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় পূর্বনির্ধারিত এই শোকসভা শুরু হয়। অনুষ্ঠান শুরুর আগেই শোকসভাস্থলে আমন্ত্রিত অতিথিদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।
দুপুরের পর থেকেই অনুষ্ঠানে অংশ নিতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অনুষ্ঠানস্থলে আসতে শুরু করেন। শোকসভায় যোগ দিয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান, তাঁর স্ত্রী জুবাইদা রহমান, মেয়ে জাইমা রহমান, খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী শামিলা রহমানসহ পরিবারের সদস্যরা। এছাড়া বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্যসহ দলের জ্যেষ্ঠ নেতারাও শোকসভায় উপস্থিত রয়েছেন।
খালেদা জিয়ার স্মরণে আয়োজিত এই নাগরিক শোকসভায় বাংলাদেশে নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকেরাও অংশ নিয়েছেন। আয়োজকদের পক্ষ থেকে আগেই আমন্ত্রিত অতিথিদের জন্য আমন্ত্রণপত্র পাঠানো হয়। শোকসভাস্থলে আমন্ত্রণপত্র ছাড়া কাউকে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না বলে জানা গেছে।
শোকসভাকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। অনুষ্ঠানস্থল ও আশপাশের এলাকায় সেনাবাহিনী, পুলিশ, র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব), বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), কোস্টগার্ড এবং আনসার সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরাও নিরাপত্তার দায়িত্বে রয়েছেন। শোকসভাস্থলে মানুষের উপস্থিতি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও কঠোর করা হয়।
অনুষ্ঠানের শৃঙ্খলা রক্ষায় বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা দায়িত্ব পালন করছেন। শোকসভা চলাকালে যাতে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা না ঘটে, সে জন্য আয়োজকদের পক্ষ থেকে সার্বিক ব্যবস্থাপনা নেওয়া হয়েছে।
বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর গত ৩০ ডিসেম্বর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। তাঁর মৃত্যুতে দেশজুড়ে শোকের ছায়া নেমে আসে। রাজনৈতিক অঙ্গনসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ তাঁর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেন।
খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পরদিন রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাঁকে জিয়া উদ্যানে দাফন করা হয়। দাফন অনুষ্ঠানে দেশের বিশিষ্ট ব্যক্তি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও সাধারণ মানুষের ব্যাপক উপস্থিতি ছিল। তাঁর স্মরণে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন আলাদাভাবে শোকসভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করেছে।
আজকের এই নাগরিক শোকসভা খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবনের অবদান স্মরণ এবং তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে আয়োজিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন আয়োজকরা। শোকসভায় বক্তব্য ও দোয়ার মাধ্যমে প্রয়াত এই নেত্রীর আত্মার মাগফিরাত কামনা করা হচ্ছে।