বাউফল (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পটুয়াখালী-২ (বাউফল) আসনে মোট পোস্টাল ভোটার হিসেবে নিবন্ধন করেছেন ২ হাজার ৫শ ৮ জন ভোটার। নির্বাচন কমিশন ও উপজেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
নিবন্ধিত পোস্টাল ভোটারদের মধ্যে ২ হাজার ৭৫ জন পুরুষ এবং ৪শ ৩৩ জন নারী ভোটার রয়েছেন। এসব ভোটার মূলত দেশের বাইরে অবস্থানরত প্রবাসী বাংলাদেশি, নির্বাচনি দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং নিজ নিজ ভোটার এলাকার বাইরে কর্মরত সরকারি চাকরিজীবী।
উপজেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, পোস্টাল ভোটের জন্য নিবন্ধন কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়েছে ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপের মাধ্যমে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে প্রবাসী বাংলাদেশি ভোটাররা এবং দেশের অভ্যন্তরে অবস্থানরত, কিন্তু ভোটকেন্দ্র এলাকায় উপস্থিত থাকতে অপারগ ভোটাররা এই অ্যাপ ব্যবহার করে নিবন্ধন সম্পন্ন করেছেন।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে আরও জানা গেছে, পোস্টাল ভোটার হিসেবে নিবন্ধিত ভোটারদের ঠিকানায় ডাকযোগে প্রয়োজনীয় ভোটগ্রহণ সামগ্রী পাঠানো হবে। এর মধ্যে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য প্রতীক সংবলিত একটি ব্যালট পেপার এবং গণভোটের জন্য গোলাপি রঙের আরেকটি ব্যালট পেপার অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
নির্ধারিত নিয়মাবলি অনুসরণ করে ভোটাররা নিজ নিজ ব্যালটে ভোট প্রদান করবেন। ভোট প্রদান শেষে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তার ঠিকানায় ডাকযোগে ব্যালট পেপার পাঠিয়ে দিতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ব্যালট না পৌঁছালে তা গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, পোস্টাল ভোট ব্যবস্থার মাধ্যমে ভোটারদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। বিশেষ করে প্রবাসী ভোটার ও নির্বাচনি কাজে নিয়োজিত কর্মকর্তাদের জন্য এই ব্যবস্থা কার্যকর ভূমিকা রাখছে। এতে করে ভোটার উপস্থিতি বাড়বে এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া আরও শক্তিশালী হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
পটুয়াখালী-২ (বাউফল) আসনে পোস্টাল ভোটারদের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে উল্লেখযোগ্য বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। কারণ এই আসন থেকে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক প্রবাসী ভোটার এবং সরকারি চাকরিজীবী রয়েছেন, যারা সরাসরি ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত থেকে ভোট দিতে পারবেন না।
উপজেলা নির্বাচন অফিস সূত্র জানায়, পোস্টাল ভোট গ্রহণ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও নিয়মতান্ত্রিকভাবে পরিচালিত হবে। ভোটের গোপনীয়তা রক্ষা এবং ব্যালটের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ডাকযোগে প্রেরিত ব্যালট গ্রহণ, সংরক্ষণ এবং গণনার ক্ষেত্রেও কঠোর নিয়ম অনুসরণ করা হবে।
নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা আরও জানান, পোস্টাল ভোট ব্যবস্থাকে ভবিষ্যতে আরও আধুনিক ও সহজ করার পরিকল্পনাও রয়েছে। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই ব্যবস্থার কার্যকারিতা মূল্যায়নের ভিত্তিতে পরবর্তী সময়ে প্রয়োজনীয় সংস্কার আনা হতে পারে।