মোহনগঞ্জ (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি
নেত্রকোনা-৪ (মদন–মোহনগঞ্জ–খালিয়াজুরী) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী তাহমিনা জামান শ্রাবণী তাঁর প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। তিনি একই আসনে বিএনপির প্রার্থী সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরের স্ত্রী। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের ফলে আসনটিতে নির্বাচনী সমীকরণে নতুন মাত্রা যুক্ত হয়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
শনিবার (১৭ জানুয়ারি) সকালে নেত্রকোনা জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে তাহমিনা জামানের পক্ষে তাঁর প্রার্থীতার সমর্থনকারী মির্জা মুকুল আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের আবেদন জমা দেন। আবেদন গ্রহণের পর তা অনুমোদন করা হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করে নেত্রকোনা জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. সাইফুর রহমান জানান, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই প্রার্থিতা প্রত্যাহারের আবেদন জমা পড়েছে এবং বিধি অনুযায়ী তা গ্রহণ করা হয়েছে। ফলে তাহমিনা জামান শ্রাবণী আর নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকছেন না।
উল্লেখ্য, তাহমিনা জামান শ্রাবণী এর আগে ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নেত্রকোনা-৪ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। সে সময় তিনি উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ভোট অর্জন করে আলোচনায় আসেন। স্থানীয় পর্যায়ে তাঁর সক্রিয়তা এবং ভোটব্যাংক থাকায় এবারও তাঁকে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রার্থী হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছিল।
তবে শেষ মুহূর্তে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তে নির্বাচনী মাঠে সরাসরি প্রতিযোগিতার চিত্র বদলে গেছে। রাজনৈতিক মহলে ধারণা করা হচ্ছে, এই সিদ্ধান্ত বিএনপির প্রার্থী লুৎফুজ্জামান বাবরের নির্বাচনী কৌশলকে শক্তিশালী করতে পারে।
নেত্রকোনা-৪ আসনে বর্তমানে যেসব প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, ময়মনসিংহ মহানগর জামায়াতে ইসলামীর সাংগঠনিক সম্পাদক আল হেলাল তালুকদার, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মোখলেছুর রহমান এবং সিপিবির প্রার্থী জলি তালুকদার।
এই আসনটি দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত। প্রতিটি নির্বাচনেই এখানে ভোটের লড়াই থাকে জমজমাট। তাহমিনা জামান শ্রাবণীর প্রার্থিতা প্রত্যাহারের ফলে ভোট বিভাজনের আশঙ্কা কমবে বলে মনে করছেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা।
এদিকে ভোটারদের মধ্যে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ কেউ একে কৌশলগত সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ কেউ মনে করছেন এতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা কিছুটা একমুখী হয়ে যেতে পারে।
নির্বাচনের দিন যত এগিয়ে আসছে, ততই নেত্রকোনা-৪ আসনে প্রার্থীদের প্রচারণা ও রাজনৈতিক তৎপরতা বাড়ছে। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের এই ঘটনাটি আসন্ন নির্বাচনে কী প্রভাব ফেলে, সেদিকেই এখন নজর স্থানীয় রাজনীতি সচেতন মহলের।
আকাশজমিন /
আরআর