ভাঙ্গা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি
ফরিদপুরের ভাঙ্গায় কালামৃধা গোবিন্দ উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ও আ’লীগ নেতা মজিবুর হকের বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। তিনি বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক থাকাকালে স্কুলের বড় বড় মেহগনি গাছ কেটে বিক্রির পায়তারা, স্কুলের ১৪টি দোকান স্বল্প মূল্যে নিজের লোকজনকে ভাড়া দেওয়া, কর্মচারীদের বেতন বন্ধ করা এবং সরকারি জায়গা দখল করে তিন তলা বাড়ি নির্মাণসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে অভিযুক্ত হয়েছেন।
স্থানীয়রা জানান, মজিবুর হক দীর্ঘদিন শিক্ষকতার পাশাপাশি আ’লীগের রাজনীতিতে জড়িত ছিলেন। বর্তমানে তিনি এনসিপি-তে যোগ দিয়েছেন। তার স্ত্রী কালামৃধা ইউনিয়নের আ’লীগের সভানেত্রী। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মজিবুর হক স্কুলের ব্যাপারে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার করতেন এবং স্কুলের কমিটির সঙ্গে গোপনে আলোচনা করে গাছ কাটার কাজ করিয়েছেন।
মজিবুর হকের বিরুদ্ধে ঢাকা, মাদারীপুর ও ভাঙ্গা থানায় আধা ডজন মামলা রয়েছে। গত ২৬ ডিসেম্বর পুলিশ একটি অভিযান চালিয়ে তাকে বিস্ফোরক মামলায় গ্রেফতার করেছে। বর্তমানে তিনি জেল হাজতে রয়েছেন বলে তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।
অভিযোগ রয়েছে, তিনি স্কুলের কর্মচারীদের বেতন বঞ্চিত করেছেন। স্কুলের চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী কানিজ ফাতেমার বেতন ছয় মাস বন্ধ ছিল। এছাড়া স্কুল কমিটির লোকজনের সুবিধামত কর্মসংস্থান ও বেতন প্রদান করা হয়েছে। তৎকালীন স্কুল কমিটির সভাপতি সুমন মিয়া ও ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মজিবুর হক এমন নিয়োগ ও বেতন ব্যবস্থাপনায় জড়িত ছিলেন।
স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, মজিবুর হক ক্ষমতার অপব্যবহার করে ছাত্রদের দিয়ে নির্বাচনী প্রচারণা করিয়েছেন। তার রাজনীতির কারণে স্কুলের কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে এবং শিক্ষার্থীরা ক্লাস ফাঁকি দিয়ে রাজনীতিতে লিপ্ত হয়েছে।
এলাকাবাসী ও অভিভাবকরা শিক্ষা অধিদপ্তর ও ভাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ তুলে মজিবুর হকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। ভাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আব্দুল আলিম বলেন, মজিবুর হককে বিস্ফোরক মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছে এবং মামলার তদন্ত চলছে।
আকাশজমিন /
আরআর