ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬,  ১৪ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

নোয়াখালীতে গণপিটুনিতে যুবক নিহত


  • আপলোড সময় : রবিবার ১৮ জানুয়ারী, ২০২৬ সময় : ৫:১৫ পিএম

নোয়াখালী সংবাদদাতা 

নোয়াখালী জেলার কবিরহাট উপজেলায় মিজানুর রহমান প্রকাশ (কানা মিজান) নামের এক যুবক গণপিটুনিতে নিহত হয়েছেন। শনিবার (১৭ জানুয়ারি) দিবাগত রাত ১টার দিকে নরোত্তমপুর ইউনিয়নের কালিরহাট বাজার থেকে পুলিশ নিহতের লাশ উদ্ধার করে।

নিহত মিজানুর রহমান (৩৬) ফরাজী বাজার এলাকার শহীদ উল্ল্যার ছেলে। নিহতের কোমর থেকে একটি খেলনা পিস্তল ও একটি চাকু উদ্ধার করা হয়েছে। স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মিজান দীর্ঘদিন ধরে ডাকাতি ও বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন। তার বিরুদ্ধে ছয়টি মামলা রয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, মিজান স্থানীয় এলাকায় মানুষকে ভয়-ভীতি দেখিয়ে টাকা আদায় করতেন। শনিবার রাত সাড়ে দশটার দিকে কালিরহাট বাজার সংলগ্ন কাজী বাড়ির সামনে অজ্ঞাত একদল লোক মিজানকে দেখে গণপিটুনিতে জড়িয়ে ফেলেন। এতে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয়।

কবিরহাট থানার ওসি নিজাম উদ্দিন ভূঁঞা বলেন, “মিজানের লাশের চারপাশে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা রক্তমাখা অনেকগুলো লাঠি উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া তার কোমরে একটি খেলনা পিস্তল ও একটি চাকু পাওয়া গেছে। তার লাশ ময়নাতদন্তের জন্য নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।” তিনি আরও জানান, নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে কোন অভিযোগ জানানো হলে তা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্থানীয়রা বলেন, মিজান দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করত। তার ওপর জনগণের অসন্তোষ ছিল দীর্ঘদিন ধরে। গণপিটুনির ঘটনা ঘটার পর অনেকেই এটি স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া হিসেবে দেখেছেন। স্থানীয়রা বলছেন, এর ফলে কিছুটা স্বস্তি পাওয়া গেছে, কারণ মিজানের কর্মকাণ্ড এলাকার সাধারণ মানুষের জন্য নিরাপত্তা হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছিল।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মিজান কবিরহাটের চাপরাশীরহাটসহ বিভিন্ন স্থানে একাধিক ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের ঘটনায় জড়িত ছিলেন। তার মৃত্যুর পর এলাকাবাসী আশা করছেন, ভবিষ্যতে এমন ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড কমে যাবে এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতি কিছুটা উন্নত হবে।

মিজানের মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ সতর্ক হয়েছেন, যেন ভবিষ্যতে এ ধরনের গণপিটুনি বা অপরাধমূলক ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে। প্রশাসন আরও জানিয়েছে, স্থানীয়দের সচেতন করে এবং নিরাপত্তা জোরদার করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা হবে।

স্থানীয়দের বক্তব্য, গণপিটুনি ঘটলেও বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করার জন্য সরকারের পর্যবেক্ষণ ও সচেতনতা গুরুত্বপূর্ণ। পুলিশ ও প্রশাসন উভয়ই ঘটনার তদন্তে সচেষ্ট রয়েছে। নিহতের পরিবার ও স্থানীয়রা আশা করছেন, আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করে ভবিষ্যতে এলাকায় শান্তি প্রতিষ্ঠা করা হবে।

আকাশজমিন / আরআর 


এ সম্পর্কিত আরো খবর