ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬,  ১৪ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বিএনপি জোট থেকে সরে এলো নাগরিক ঐক্য, এককভাবে নির্বাচনের ঘোষণা মান্নার


  • আপলোড সময় : বুধবার ২১ জানুয়ারী, ২০২৬ সময় : ১:৫৯ পিএম

জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) নেতা মাহমুদুর রহমান মান্নার নাগরিক ঐক্য বিএনপির নির্বাচনী জোট থেকে সরে এসেছে। বুধবার (২১ জানুয়ারি) এই সিদ্ধান্তের কথা সংবাদ মাধ্যমে জানানো হয়। একই সঙ্গে মান্না ১১টি আসনে এককভাবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ারও ঘোষণা দিয়েছেন।

আগের দিকে আসন সমঝোতা না হওয়ায় জেএসডি এককভাবে নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছিল। এবার আসন সমঝোতার পরও মনোনয়ন বিষয়ক একচেটিয়া সিদ্ধান্ত না দেয়ায় বিএনপির দীর্ঘদিনের মিত্র নাগরিক ঐক্যও একক পথে হেঁটে নির্বাচনে অংশ নিতে যাচ্ছে।

বগুড়া-২ আসনের ক্ষেত্রে বিভক্তির কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়, সেখানে ধানের শীষ প্রতীকে বিএনপি নেতা শাহে আলমকে মনোনয়ন দেওয়ার পরও শেষ মুহূর্তে তা প্রত্যাহার না করা। এর ফলে মান্নার দলের মধ্যে জোটবদ্ধ সমন্বয় ব্যর্থ হয়।

বিএনপির শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের পরও কোনও সমাধান না হওয়ায় সোমবার (১৯ জানুয়ারি) নাগরিক ঐক্য নেতা মান্না জরুরি সংবাদ সম্মেলন করে “একলা চলো” নীতি অনুসরণের ঘোষণা দেন। তিনি স্পষ্ট করেন, পারস্পরিক সমঝোতা ব্যর্থ হওয়ায় দলের স্বাধীন সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রয়োজন ছিল।

সংবাদ সম্মেলনে মাহমুদুর রহমান মান্না জানান, তিনি নিজে ঢাকা-১৮ ও বগুড়া-২ আসনে নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। এছাড়া আরও ১০টি আসনে নাগরিক ঐক্য স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মনোনয়ন দিয়েছে। তিনি বলেন, আমাদের লক্ষ্য জনগণের কাছে সঠিকভাবে প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়া।

মান্না আরও উল্লেখ করেন, নাগরিক ঐক্য সবসময় গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ। আমরা চাই, ভোটাররা যাতে তাদের ভোটাধিকার স্বাধীনভাবে প্রয়োগ করতে পারে এবং নির্বাচনের ফলাফল জনগণের চাওয়া অনুযায়ী নির্ধারিত হয়। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অংশ নেওয়ায় দলের নীতি ও লক্ষ্য আরও স্পষ্টভাবে তুলে ধরা সম্ভব হবে।

তিনি আরও বলেন, “আমরা এককভাবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ায় কোনও রকম অগোছালো বা বিভ্রান্তিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে চাই না। জনগণের পাশে থেকে তাদের অধিকার এবং নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য।”

নাগরিক ঐক্যের এই সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক মহলে নতুন চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে বিএনপির সঙ্গে দীর্ঘদিনের মিত্রতা থাকা সত্ত্বেও এককভাবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ায় নির্বাচন প্রক্রিয়ায় নতুন দ্বন্দ্ব ও প্রতিযোগিতা তৈরি হতে পারে।

নাগরিক ঐক্য ও মান্নার এই পদক্ষেপ জাতীয় নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে রাজনৈতিক মানচিত্রে স্বতন্ত্র শক্তির উপস্থিতি আরও দৃঢ় করবে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এটি ভোটাভুটিতে ভোটদাতাদের বিকল্প প্রদানের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর