ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬,  ১৪ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

স্ত্রী-সন্তানের মৃত্যুর ৩ দিন পর জামিন পেলেন সাদ্দাম


  • আপলোড সময় : সোমবার ২৬ জানুয়ারী, ২০২৬ সময় : ৫:৩৭ পিএম

স্ত্রী ও সন্তানের মৃত্যুর তিন দিন পর হাইকোর্ট থেকে জামিন পেয়েছেন নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের বাগেরহাট সদর উপজেলা শাখার সভাপতি জুয়েল হাসান সাদ্দাম। সোমবার (২৬ জানুয়ারি) মানবিক বিবেচনায় তাকে ছয় মাসের জামিন দেওয়া হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা।

জুয়েল হাসান সাদ্দাম বর্তমানে একাধিক মামলায় কারাগারে বন্দি ছিলেন। গত বছরের ৫ এপ্রিল গোপালগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তারের পর থেকে তিনি যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে আটক ছিলেন। তার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাগুলোর বিচার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানা গেছে।

এর আগে গত ২৪ জানুয়ারি সন্ধ্যায় স্ত্রী ও সন্তানের মৃত্যুর পর যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের গেটে তাকে মাত্র পাঁচ মিনিটের জন্য মৃত স্ত্রী ও নয় মাস বয়সী শিশুপুত্রকে শেষবারের মতো দেখার সুযোগ দেওয়া হয়। প্যারোল না পাওয়ায় অ্যাম্বুল্যান্সে করে মরদেহ কারাগারের গেটে নিয়ে যাওয়া হয়। সেই হৃদয়বিদারক দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন মহলে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করে।

আইনজীবীরা জানান, মানবিক দিক বিবেচনায় নিয়ে হাইকোর্ট তার জামিন আবেদন মঞ্জুর করেন। স্ত্রী ও সন্তানের আকস্মিক মৃত্যুর ঘটনায় সাদ্দাম মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন—এই বিষয়টি আদালতের সামনে তুলে ধরা হয়। আদালত বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ছয় মাসের জন্য জামিন দেন।

কারাগার সূত্রে জানা যায়, জামিন আদেশ পাওয়ার পর আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে তাকে মুক্তি দেওয়া হবে। তবে তার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাগুলোর বিচার কার্যক্রম চলমান থাকবে এবং জামিনের শর্ত অনুযায়ী তাকে আদালতের নির্দেশনা মেনে চলতে হবে।

সাদ্দামের স্ত্রী ও সন্তানের মৃত্যুর ঘটনায় স্থানীয় পর্যায়ে শোকের আবহ তৈরি হয়। বিশেষ করে কারাগারের গেটে মাত্র কয়েক মিনিটের জন্য মরদেহ দেখার ঘটনাটি মানবিকতার প্রশ্ন তুলে দেয়। প্যারোল না পাওয়ায় অনেকেই ক্ষোভ ও সমবেদনা প্রকাশ করেন।

এদিকে মানবিক বিবেচনায় জামিন পাওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। কেউ কেউ এটিকে সহানুভূতির দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ কেউ আইনি প্রক্রিয়া ও মামলার বিষয়টি সামনে রেখে বিষয়টি বিচারাধীন বলেই মন্তব্য করছেন।

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, মানবিক কারণে জামিন দেওয়া আইনত অস্বাভাবিক নয়, তবে এটি মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তিকে প্রভাবিত করে না। জামিনপ্রাপ্ত হলেও অভিযুক্তকে নিয়মিত আদালতে হাজিরা দিতে হবে এবং আইন অনুযায়ী বিচার কার্যক্রমের মুখোমুখি হতে হবে।

স্ত্রী-সন্তান হারানোর শোকের মধ্যেই কারামুক্তির অপেক্ষায় থাকা জুয়েল হাসান সাদ্দামের ঘটনাটি আবারও প্যারোল ব্যবস্থা, মানবিকতা ও বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।

আকাশজমিন / আরআর 


এ সম্পর্কিত আরো খবর