ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬,  ১৪ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

৯৮ বছর ধরে টানা কোরআন তেলাওয়াত


  • আপলোড সময় : সোমবার ২৬ জানুয়ারী, ২০২৬ সময় : ৭:৩৬ পিএম

৯৮ বছর ধরে টানা ২৪ ঘণ্টা কোরআন তেলাওয়াত—শুনতে অবাক লাগলেও বাস্তবে এমনই এক বিস্ময়কর ধর্মীয় ঐতিহ্য ধরে রেখেছে টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী উপজেলার প্রায় ৭০০ বছরের পুরনো নওয়াব শাহী জামে মসজিদ। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের সময় ছাড়া প্রাকৃতিক দুর্যোগ কিংবা মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়েও এক মিনিটের জন্য থামেনি এই কোরআন তেলাওয়াত।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১৯২৭ সালে নবাব বাহাদুর সৈয়দ নওয়াব আলী চৌধুরী পীরের নির্দেশনায় কবরের আজাব থেকে মুক্তি পেতে এই মসজিদে সার্বক্ষণিক কোরআন তেলাওয়াতের ব্যবস্থা করেন। তার উদ্যোগেই শুরু হয় এই ব্যতিক্রমধর্মী ধর্মীয় কার্যক্রম। নবাব বাহাদুর সৈয়দ নওয়াব আলী চৌধুরীর মৃত্যুর পরও আজ পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্নভাবে এই তেলাওয়াত চালু রয়েছে।

বর্তমানে পাঁচজন কোরআনে হাফেজ পর্যায়ক্রমে দিন ও রাতে কোরআন তেলাওয়াত করে যাচ্ছেন। নির্দিষ্ট সময়সূচি অনুযায়ী তারা দায়িত্ব পালন করেন, যাতে ২৪ ঘণ্টার কোনো সময়েই কোরআন তেলাওয়াত বন্ধ না থাকে। স্থানীয় মুসল্লিদের মতে, এই ধারাবাহিক তেলাওয়াত মসজিদটিকে একটি আলাদা আধ্যাত্মিক পরিবেশ ও মর্যাদা দিয়েছে।

নওয়াব শাহী জামে মসজিদটির ইতিহাসও অত্যন্ত সমৃদ্ধ। ১৬ শতাব্দীতে সেলজুক তুর্কি বংশের দুই ভাই—ইসপিঞ্জার খাঁ ও মনোয়ার খাঁ এক কক্ষবিশিষ্ট এই মসজিদটি নির্মাণ করেন। পরবর্তীতে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মসজিদটির পরিসর ও গুরুত্ব বাড়তে থাকে। প্রায় ১১৫ বছর আগে নবাব বাহাদুর সৈয়দ নওয়াব আলী চৌধুরী মসজিদটি সম্প্রসারণ ও সংস্কার করে এর বর্তমান রূপ দেন।

সংস্কারের পর মসজিদটি মোগল স্থাপত্যশৈলীতে বর্গাকৃতির ও তিন গম্বুজবিশিষ্ট করে নির্মাণ করা হয়। কাঁচের টুকরো দিয়ে তৈরি নকশাদার মোজাইক, মার্বেল পাথরে খোদাই করা মেঝের কারুকার্য এবং চীনামাটির ফুলেল অলংকরণ দর্শনার্থীদের দৃষ্টি কাড়ে। মসজিদটিতে পাঁচটি প্রবেশপথ, নয়টি জানালা, ৩৪টি ছোট ও বড় গম্বুজ এবং ১০টি সুউচ্চ মিনার রয়েছে। একসঙ্গে প্রায় ২০০ মুসল্লি এখানে নামাজ আদায় করতে পারেন।

মসজিদের ভেতরে এখনো সংরক্ষিত রয়েছে ১৮টি হাড়িবাতি, যা একসময় নারিকেল তেল দিয়ে জ্বালানো হতো। মসজিদের পাশেই রয়েছে শানবাঁধানো ঘাট ও কবরস্থান, যেখানে নবাব বাহাদুর সৈয়দ নওয়াব আলী চৌধুরীকে দাফন করা হয়েছে। তার ওয়াকফকৃত সম্পদের আয় থেকেই মসজিদ, পাশের মাদ্রাসা ও ঈদগাহ পরিচালিত হচ্ছে।

এই ব্যতিক্রমী ধর্মীয় ঐতিহ্য দেখতে প্রতিদিনই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে দর্শনার্থীরা নওয়াব শাহী জামে মসজিদে আসছেন। অনেকের মতে, নিরবচ্ছিন্ন কোরআন তেলাওয়াত মসজিদটিকে শুধু ঐতিহাসিক নয়, বরং আধ্যাত্মিকভাবেও বিশেষ মর্যাদায় অধিষ্ঠিত করেছে। 

আকাশজমিন / আরআর 


এ সম্পর্কিত আরো খবর