জয়পুরহাট সংবাদদাতা
জয়পুরহাট জেলা শহরের ফোর লেন প্রধান সড়কের বিভাজক জুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে নির্বাচনী ফেস্টুন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণায় নিজেদের জনমত তৈরি ও ভোটারদের আকর্ষণ বাড়াতে বিএনপি ও জামায়াত সমর্থিত প্রার্থীরা এসব ফেস্টুন সাঁটিয়েছেন। এতে নির্বাচনী আচরণবিধির স্পষ্ট লঙ্ঘন ঘটেছে, তবে এ পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
সরেজমিনে দেখা গেছে, শহরের জিরো পয়েন্ট থেকে ফোর লেন সড়ক বিভাজকের পূর্ব দিকে বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত জয়পুরহাট-১ (সদর ও পাঁচবিবি) আসনের বিএনপির দলীয় প্রার্থী মাসুদ রানা প্রধান এবং জামায়াতের দলীয় প্রার্থী ফজলুর রহমান সাঈদের ফেস্টুন আড়াআড়িভাবে স্থাপন করা হয়েছে। এসব ফেস্টুনে প্রার্থীদের দলীয় প্রতীক, ছবি ও নাম লেখা রয়েছে এবং খুঁটি দিয়ে সড়ক বিভাজকের মাটিতে পুঁতে দেওয়া হয়েছে।
নির্বাচন বিধিমালার ‘বিধি ৭’ অনুযায়ী, লিফলেট, হ্যান্ডবিল, পোস্টার, ফেস্টুন, ব্যানার ও বিলবোর্ড প্রয়োগের ক্ষেত্রে সরকারি স্থাপনাসমূহ, দেওয়াল, গাছ, সড়ক বিভাজক, খুঁটি বা যানবাহনে সাঁটানো যাবে না। বিধি ২ (গ) অনুযায়ী, ‘দেওয়াল’-এর অর্থে সড়ক বিভাজকও অন্তর্ভুক্ত। অর্থাৎ সড়ক বিভাজকে ফেস্টুন দিয়ে প্রচারণা করা নির্বাচনী আচরণবিধির পরিপন্থী।
প্রধান সড়ক বিভাজকে ফেস্টুন দেওয়ায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও সমালোচনা দেখা দিয়েছে। ফেসবুকের ‘জয়পুরহাট জেলা’ গ্রুপে আলী আহসান মোজাহেদ দুটি ছবি পোস্ট করে লিখেছেন, ‘ডিভাইডারের সঠিক ব্যবহার’। এম হাসান লিখেছেন, ‘রোড ডিভাইডার-ভোট ডিভাইডার’। অন্য একটি গ্রুপ ‘জয়পুরহাট-৫৯০০’ এ মারুফ চৌধুরী একটি ভিডিও পোস্ট করে মন্তব্য করেছেন, ‘ভাই রোডের ডিভাইডার না ভোটের প্রচারের খাম্বা’। পোস্টগুলোতে অনেকেই প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেছেন, কেউ বলেছেন ‘ভোটের এই কয়দিন চলবেই, এটিই ভোটের সৌন্দর্য’, আবার কেউ বলেছেন ‘খুব দুঃখজনক’।
জামায়াতের প্রার্থী ফজলুর রহমান সাঈদ বলেছেন, এটি আচরণবিধির মধ্যে পড়ে কি না, তা যাচাই করা হবে। অন্যদিকে বিএনপির প্রার্থী মাসুদ রানা প্রধান ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি এবং ক্ষুদে বার্তাতেও সাড়া পাওয়া যায়নি।
জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মাহমুদ হাসান নিশ্চিত করেছেন যে, সড়ক বিভাজকে দেওয়া এসব প্রচারপত্র ফেস্টুন। রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মো. আল-মামুন মিয়া জানিয়েছেন, এই ঘটনা আগে থেকেই নজরে এসেছে।
এ ঘটনায় নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে চলা ও সুষ্ঠু ভোট গ্রহণে প্রশাসনের তদারকির গুরুত্ব পুনরায়浮ে এসেছে। স্থানীয় প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশন বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছে।
আকাশজমিন / আরআর