যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অনুরোধকে সম্মান জানিয়ে ইউক্রেনে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় সাময়িক বিরতি দিয়েছে রাশিয়া। এই বিরতি আগামী ১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বহাল থাকবে। রাশিয়ার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সম্ভাব্য যুদ্ধাবসান বা উত্তেজনা প্রশমনের আলোচনার জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরির লক্ষ্যেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
৩০ জানুয়ারি এক ব্রিফিংয়ে রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের সরকারি বাসভবন ও দপ্তর ক্রেমলিনের মুখপাত্র ও প্রেস সেক্রেটারি দিমিত্রি পেসকভ বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, “আমরা আশা করছি এই বিরতি আলোচনার জন্য উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করতে সহায়ক হবে।” তবে এই সিদ্ধান্তের পেছনে বিস্তারিত কূটনৈতিক প্রক্রিয়া বা শর্ত সম্পর্কে তিনি আর কোনো তথ্য জানাননি।
এই বিরতির বিষয়ে ইউক্রেনের সঙ্গে সরাসরি কোনো আলোচনা হয়েছে কি না, কিংবা ১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ইউক্রেনও হামলা বন্ধ রাখবে কি না—এমন প্রশ্নেরও কোনো স্পষ্ট উত্তর দেননি দিমিত্রি পেসকভ। ফলে যুদ্ধক্ষেত্রে এই বিরতি কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।
এর আগে ২৯ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, ইউক্রেনে অন্তত এক সপ্তাহ রুশ বাহিনী কোনো হামলা চালাবে না। তিনি বলেন, ইউক্রেনে বর্তমানে ভয়াবহ শীত চলছে এবং এই পরিস্থিতিতে মানবিক বিবেচনায় হামলা বন্ধ রাখা জরুরি। ট্রাম্প আরও বলেন, তিনি ব্যক্তিগতভাবে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিনের সঙ্গে যোগাযোগ করে কিয়েভ ও অন্যান্য শহরে হামলা বন্ধের আহ্বান জানান এবং পুতিন তাতে সম্মত হয়েছেন। ট্রাম্পের ভাষায়, তাদের আলোচনা ছিল “খুবই চমৎকার”।
এর এক দিন আগে ইউক্রেনের একজন এমপি অ্যালেক্সেই গোনচারেঙ্কো সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন, ইউক্রেনের বিদ্যুৎখাতে হামলা বন্ধের বিষয়ে কিয়েভ ও মস্কোর মধ্যে একটি সমঝোতা হয়েছে। যদিও এই দাবির বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে রাশিয়া বা ইউক্রেনের পক্ষ থেকে বিস্তারিত কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।
বর্তমানে ইউক্রেনে তীব্র শীতকাল চলছে। দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে গড় তাপমাত্রা মাইনাস ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের আশপাশে অবস্থান করছে। আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, সামনের রোববার থেকে তাপমাত্রা আরও কমে মাইনাস ১৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে যেতে পারে। এই চরম শীতের মধ্যে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা ইউক্রেনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
উল্লেখ্য, ক্রিমিয়া উপদ্বীপকে রুশ ভূখণ্ড হিসেবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি না দেওয়া এবং ন্যাটোর সদস্যপদের জন্য কিয়েভের তদবিরকে কেন্দ্র করে কয়েক বছর ধরে রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে টানাপোড়েন চলছিল। এরই ধারাবাহিকতায় ২০২২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরু করে রুশ বাহিনী। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিনের নির্দেশে শুরু হওয়া এই অভিযান এখনো অব্যাহত রয়েছে।
এই অভিযানে ইউক্রেনের সেনাবাহিনী ও সামরিক স্থাপনার পাশাপাশি বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থাকে লক্ষ্য করে নিয়মিত হামলা চালানো হয়েছে। সর্বশেষ ২৬ জানুয়ারি রাতভর রাজধানী কিয়েভসহ বিভিন্ন শহরে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় রুশ বাহিনী। এতে বিদ্যুৎবিহীন হয়ে পড়ে ইউক্রেনের ১ হাজার ৩৩০টি অ্যাপার্টমেন্ট ভবনসহ ১২ লক্ষাধিক বাড়িঘর।
ইউক্রেনের বিদ্যুৎমন্ত্রী ডেনিস শ্মিগাল জানিয়েছেন, বিদ্যুৎ সংযোগ স্বাভাবিক করতে সরকার নিরলসভাবে কাজ করছে। তবে এখনও ১০ লাখের বেশি বাড়িঘর বিদ্যুৎ সংযোগের বাইরে রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে রাশিয়ার ঘোষিত সাময়িক বিরতিকে মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।