ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬,  ১৪ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ময়মনসিংহে বিএনপি প্রার্থীদের ভাবাচ্ছেন ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থীরা


  • আপলোড সময় : শনিবার ৩১ জানুয়ারী, ২০২৬ সময় : ১২:২১ পিএম

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি 

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ময়মনসিংহে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থীরা বিজয়ী হতে প্রাণপণ চেষ্টা চালাচ্ছেন। তবে তাদের ছাড় দিতে নারাজ দলটির মনোনয়নবঞ্চিত নেতা-নেত্রীরা স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন। ফলে অনেক এলাকায় নেতাকর্মীরও বিভাজন দেখা দিয়েছে, যা ভোটের মাঠে প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

জেলার ১১টি সংসদীয় আসনে ভোটার রয়েছেন ৪৭ লাখ ৬৪ হাজার ৯৯ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২৪ লাখ ৬ হাজার ৮৯২ জন, নারী ভোটার ২৩ লাখ ৫৭ হাজার ১৬৬ জন এবং হিজড়া ভোটার ৪১ জন। এসব আসনে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, অন্যান্য দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীসহ মোট ৬৭ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

ময়মনসিংহ-১ (হালুয়াঘাট-ধোবাউড়া) আসনে কেন্দ্রীয় বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স ধানের শীষের মনোনীত প্রার্থী। তবে উত্তর জেলা বিএনপির সদস্য ও ব্যবসায়ী সালমান ওমর রুবেল স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন। এছাড়া জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি মাহফুজুর রহমান মুক্তাও নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছেন। ফলে তিনভাগে ভোট পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

ময়মনসিংহ-২ (ফুলপুর-তারাকান্দা) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মোতাহার হোসেন তালুকদার ও স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেক এমপি শাহ শহীদ সারোয়ারের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে বলে আশা করা হচ্ছে। জাতীয় পার্টি থেকে রয়েছেন এমদাদুল হক খান।

ময়মনসিংহ-৩ (গৌরীপুর) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী এম ইকবাল হোসাইন। স্বতন্ত্র প্রার্থী আহাম্মদ তায়েবুর রহমান হিরন সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ছিলেন। দুই প্রার্থীর মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা দেখা যাচ্ছে।

ময়মনসিংহ-৬ (ফুলবাড়িয়া) আসনে ধানের শীষের প্রার্থী আখতারুল আলমের বিরুদ্ধে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন সাবেক এমপি ইঞ্জিনিয়ার শামছ উদ্দিন আহমেদের স্ত্রী আখতার সুলতানা। এছাড়া জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. কামরুল হাসানের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী অধ্যাপক মো. জসিম উদ্দিন। ভোট এখানে কয়েক ভাগে বিভক্ত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ময়মনসিংহ-৮ (ঈশ্বরগঞ্জ) আসনে ধানের শীষের মনোনীত প্রার্থী লুৎফুল্লাহেল মাজেদ বাবু। বিএনপি থেকে সদ্য বহিষ্কৃত ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী শাহ নূরুল কবীরও নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছেন। এতে ধানের শীষের ভোট কিছুটা বিভক্ত হবে।

ময়মনসিংহ-৯ (নান্দাইল) আসনে ধানের শীষের মনোনীত প্রার্থী ইয়াসের খান চৌধুরী। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন সাবেক এমপি খুররুম খান চৌধুরীর স্ত্রী হাসিনা খান চৌধুরী।

ময়মনসিংহ-১০ (গফরগাঁও) আসনে ধানের শীষের প্রার্থী আখতারুজ্জামান বাচ্চু। স্বতন্ত্র প্রার্থী আবু বকর সিদ্দিকুর রহমানও ভোটের মাঠে আছে।

ময়মনসিংহ-১১ (ভালুকা) আসনে ধানের শীষের প্রার্থী ফখর উদ্দিন আহমেদ। হেভিওয়েট প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মোহাম্মদ ছাইফ উল্লাহ পাঠান এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির প্রার্থী জাহিদুল ইসলাম। বিএনপি নেতা আলহাজ মোর্শেদ আলম স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে জটিল প্রতিদ্বন্দ্বিতা তৈরি করেছেন।

প্রার্থী ও নেতাদের বক্তব্যে দেখা যায়, বিএনপি মনোনীত প্রার্থীরা নিজেদের বিজয় নিশ্চিত করতে আত্মবিশ্বাসী। অন্যদিকে স্বতন্ত্র প্রার্থীরাও স্থানীয় সমর্থন ও নেতাকর্মীর উৎসাহে জয়ের আশায় রয়েছেন। নির্বাচনী মাঠে ধানের শীষের বাইরে গিয়ে নির্বাচনে অংশ নেওয়াকে দলীয় সূত্রে ‘বৈধ গণতান্ত্রিক অধিকার’ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্যসচিব রুকনুজ্জামান সরকার বলেন, “দলের বাইরে যারা প্রার্থী হয়েছেন তাদের আমরা বিদ্রোহী বলি না। ধানের শীষের বাইরে গিয়ে কেউ আজ পর্যন্ত ভালো করতে পারেনি। এরপরও প্রত্যেকের গণতান্ত্রিক অধিকার আছে। আশা করি ময়মনসিংহের ১১ আসনে ধানের শীষ বিজয়ী হবে।”



এ সম্পর্কিত আরো খবর