অনলাইন রিপোর্টার
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় আশুলিয়ায় ছয়জন লাশ পোড়ানোসহ সাতজনকে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায় ঘোষণা করা হবে ৫ ফেব্রুয়ারি। রোববার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরী রায়ের দিন ধার্য করেন। প্যানেলের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ এবং বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
এ মামলায় মোট ১৬ জন আসামি রয়েছে। এর মধ্যে আটজন গ্রেপ্তার রয়েছেন। তারা হলেন ঢাকা জেলার সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. আব্দুল্লাহিল কাফী, সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাভার সার্কেল) মো. শাহিদুল ইসলাম, ডিবির তৎকালীন পরিদর্শক আরাফাত হোসেন, এসআই মালেক, এসআই আরাফাত উদ্দিন, এএসআই কামরুল হাসান, এসআই শেখ আবজালুল হক এবং কনস্টেবল মুকুল। বাকিরা পলাতক রয়েছেন, যার মধ্যে সাবেক সংসদ সদস্য সাইফুল ইসলামও আছেন।
গত বছরের ২১ আগস্ট এ মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেওয়া হয়। ওই সময় উপস্থিত আট আসামির সাতজনই নিজেদের নির্দোষ দাবি করেন। তবে এসআই শেখ আবজালুল হক দোষ স্বীকার করেন এবং রাজসাক্ষী হয়ে জবানবন্দিও দেন।
মামলার যুক্তিতর্ক শেষ হয় ২০ জানুয়ারি। প্রসিকিউশন ও আসামিপক্ষের যুক্তি উপস্থাপনের পর ট্রাইব্যুনাল রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখেন। প্রসিকিউশনের পক্ষে যুক্তি খণ্ডন করেন প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম, এবং আসামিপক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেন স্টেট ডিফেন্স আইনজীবী মো. আমির হোসেন, মিরাজুল আলম ও আবুল হাসান।
মামলায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগের সঙ্গে ৩১৩ পৃষ্ঠা, সাক্ষী ৬২ জন, দালিলিক প্রমাণাদি ১৬৮ পৃষ্ঠা ও দুটি পেনড্রাইভ যুক্ত করা হয়। প্রসিকিউশন এই তথ্যাদি ব্যবহার করে আসামিদের বিরুদ্ধে প্রমাণ উপস্থাপন করেছে।
ঘটনা ঘটে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট। সাভারের আশুলিয়ায় পুলিশের গুলিতে ছয় তরুণ নিহত হন। পরে পুলিশ ভ্যানে তাদের লাশ নিয়ে গিয়ে পেট্রোল ঢেলে আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হয়। ওই সময় একজন জীবনেই ছিলেন, কিন্তু তাকে বাঁচতে দেওয়া হয়নি। এর আগে, একই অঞ্চলে একজন শহীদ হন।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মামলার অভিযোগ দায়ের করা হয় ২০২৪ সালের ১১ সেপ্টেম্বর। মামলায় উল্লেখ করা হয়, হত্যাকাণ্ড ও লাশ পোড়ানো ঘটনাটি মানবতাবিরোধী অপরাধের শামিল। আদালতে প্রসিকিউশন সব প্রমাণাদি এবং সাক্ষীদের মাধ্যমে এই অভিযোগ উপস্থাপন করেছে।
রায়ের মাধ্যমে মামলার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হবে। এটি বাংলাদেশে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে গণ্য হচ্ছে।
আকাশজমিন / আরআর