বরিশালের উজিরপুরে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে বাসচাপায় রিপন বিশ্বাস নামে এক ব্যাংক কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার ইচলাদী টোল প্লাজার সামনে এই দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত রিপন বিশ্বাস (৪৩) আগৈলঝাড়া উপজেলার রামান্দী গ্রামের মুদেব বিশ্বাসের ছেলে। তিনি গ্রামীণ ব্যাংকে কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সকালে রাস্তা পারাপারের সময় বরিশাল থেকে ঢাকাগামী সাকুরা পরিবহনের একটি বাস বেপরোয়া গতিতে এসে তাকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনার পর বাসচালক গাড়িটি সড়কের পাশে রেখে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশকে খবর দেন।
গৌরনদী হাইওয়ে থানার ওসি মোহাম্মদ শামিম শেখ জানান, দুর্ঘটনায় জড়িত বাসটি জব্দ করা হয়েছে। পলাতক চালককে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। মরদেহ আইনগত প্রক্রিয়া শেষে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
উজিরপুর মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ রকিবুল ইসলাম জানান, ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ তৎপর রয়েছে।
স্থানীয়রা বলছেন, ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের উজিরপুর সেকশনটি সকালবেলা গাড়ির চাপ ও চরম ভিড়ের কারণে দুর্ঘটনার প্রবণতা বেশি। বিশেষ করে বেপরোয়া গতিতে চলা যাত্রীবাহী বাসগুলো প্রায় সময় সড়ক দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ কর্তৃপক্ষ বারবার সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়েছে। তবু দুর্ঘটনা এড়িয়ে যাওয়া যায় না, বিশেষ করে সকালে যাত্রী ও পথচারীর চাপ বেশি থাকে। নিরাপদ সড়ক ব্যবস্থার অভাবে প্রতিদিন এমন দুর্ঘটনা ঘটছে বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করছেন।
প্রতিবছর ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে বিভিন্ন যানবাহনের কারণে অসংখ্য দুর্ঘটনা ঘটে। এতে পথচারী ও যাত্রীদের মৃত্যু ও আহত হওয়ার ঘটনা নিয়মিত ঘটছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই মহাসড়কে বাস ও বড় যানবাহনের গতিবেগ নিয়ন্ত্রণ এবং ট্রাফিক আইন যথাযথভাবে কার্যকর করা জরুরি।
নিহতের পরিবার বর্তমানে শোকাহত। স্থানীয় সমাজকর্মীরা নিহতের পরিবারকে সহায়তা প্রদান করেছেন। দুর্ঘটনায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও কড়া করার দাবি করছেন স্থানীয়রা।
এ ঘটনাটি ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের নিরাপত্তা এবং যানবাহন নিয়ন্ত্রণে সরকারের পদক্ষেপের গুরুত্ব পুনরায় সামনে এনেছে।