উত্তরাঞ্চল প্রতিনিধি : / : 24
নিহত ওই নারীর নাম সোহাগী খাতুন (৫৫)। তিনি ওই এলাকার আজিজুল ইসলামের স্ত্রী। ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দারা তার মাদকাসক্ত ছেলে মো. সুমনকে আটক করে এবং পরে পুলিশ হেফাজতে নেয়।
স্থানীয়রা জানান, সুমন দীর্ঘদিন ধরে বখাটে স্বভাবের এবং মাদকাসক্ত। শনিবার রাতের দিকে তিনি মায়ের কাছে মাদক কেনার জন্য টাকা দাবি করেন। কিন্তু মা টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে সুমন ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। একপর্যায়ে তিনি ধারালো অস্ত্র দিয়ে মায়ের ওপর হামলা চালান। এতে ঘটনাস্থলেই সোহাগী খাতুন গুরুতর আহত হন এবং কিছুক্ষণের মধ্যে মৃত্যু ঘটে।
ঘটনার পর সুমন মৃত নারীর লাশ রাস্তায় ফেলে পালানোর চেষ্টা করেন। এ সময় আশপাশের লোকজন বিষয়টি টের পেয়ে তাকে আটক করে পুলিশকে খবর দেন। চন্দ্রিমা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে সুমনকে হেফাজতে নেয় এবং লাশ উদ্ধার করে।
চন্দ্রিমা থানার ওসি মনিরুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তিনি বলেন, ‘নিহতের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে এবং ময়নাতদন্তের জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানো হবে। একই সঙ্গে অভিযুক্ত ছেলে সুমনকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় হত্যা মামলা হবে।’
স্থানীয়রা জানান, সুমনের আচরণ দীর্ঘদিন থেকে আশপাশের মানুষদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করছিল। মাদকাসক্ত হয়ে তার বেপরোয়া স্বভাব দিন দিন বেড়ে যাচ্ছিল। ঘটনার দিন মায়ের সঙ্গে তার কথা কাটাকাটি এবং তর্কবিতর্ক অবস্থা আরও উত্তেজিত করে তোলে। পরে ধারালো অস্ত্রের ব্যবহার করে সুমন তার মা খুন করেন।
রাজশাহী পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সুমনকে গ্রেপ্তারের পর তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ঘটনাস্থল ঘিরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করেছে।
ঘটনার পর স্থানীয় মানুষদের মধ্যে শোক এবং আতঙ্কের ছাপ পড়েছে। অনেকেই জানিয়েছেন, এই ঘটনায় পরিবারের এবং আশেপাশের মানুষদের মানসিক চাপ বেড়েছে। অপরদিকে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে বিশেষ নজর রাখছে। নিহতের পরিবারের সদস্যরা আহত ও শোকাহত। তারা চাইছেন দ্রুত বিচার হোক এবং এ ধরনের ঘটনা ভবিষ্যতে পুনরায় না ঘটে।
আকাশজমিন / আরআর