ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬,  ১৪ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ফরিদপুর-বরিশাল মহাসড়ক বন্ধ করে গ্রামবাসীর তুমুল সংঘর্ষ, আহত ৫০


  • আপলোড সময় : রবিবার ০১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ সময় : ৬:৫১ পিএম

সোহাগ মাতুব্বর, (ভাঙ্গা) ফরিদপুর:

ফরিদপুরের ভাঙ্গায় একটি স্কুলের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠানে দাওয়াত না দেওয়াকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে তুমুল সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সংঘর্ষের সময় অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছেন। একই সময়ে প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে স্কুলের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা বিদ্যালয়ে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন।

শনিবার (৩১ জানুয়ারি) দুপুর ৩টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে চলে এই সংঘর্ষ। সংঘর্ষের ফলে ফরিদপুর-বরিশাল মহাসড়কের পুকুরিয়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় দুই পাশেই যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে সড়কে তীব্র যানজট তৈরি হয় এবং শত শত যানবাহন আটকা পড়ে।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ভাঙ্গার ব্রাহ্মনকান্দা আব্দুল শরীফ একাডেমিতে শনিবার বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে সকালেই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল আবু জাহের ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সদরুল আলম ক্রীড়া প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন। কিন্তু বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. এনামুল কবির পাশের হামিরদী ইউনিয়নের ১০টি গ্রামের গণ্যমান্য ব্যক্তিদের দাওয়াত দেননি। এ ঘটনাটি ওই ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি করে।

অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে হামিরদী ইউনিয়নের দশম শ্রেণীর শিক্ষার্থী তামিম (১৫) কে কয়েকজন বখাটে ছেলেরা মারধর করে আহত করে। এ খবর দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে মানিকদাহ ইউনিয়নের চার গ্রামের লোকজন রাস্তা অবরুদ্ধ করে বিক্ষোভ করে। পাল্টা জবাবে হামিরদী ইউনিয়নের ওই ১০ গ্রামের হাজার হাজার মানুষ রাস্তার অন্য প্রান্তে অবস্থান নেন। উভয় পক্ষ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়।

সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ মাঠে নামে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কাজ করে। প্রায় তিন ঘণ্টা লড়াইয়ের পর স্থানীয়রা ও পুলিশের সহযোগিতায় পরিস্থিতি শান্ত হয়। সন্ধ্যার আগে ভাঙ্গা থানা পুলিশ বিদ্যালয়ে অবরুদ্ধ শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে পৌঁছে দেয়।

ভাঙ্গা থানার ওসি আব্দুল আলীম জানান, “ব্রাহ্মনকান্দা আব্দুল শরীফ একাডেমির ক্রীড়া প্রতিযোগিতা চলাকালীন দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। আমরা অনেক চেষ্টা করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছি। সন্ধ্যার আগেই মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে। অবরুদ্ধ ব্যক্তিদের উদ্ধার করে নিরাপদে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

ঘটনার পর আশপাশের গ্রাম ও এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করলেও পুলিশের উপস্থিতিতে পরিস্থিতি শান্ত ছিল। আহতদের মধ্যে অনেকেই স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। সংঘর্ষের ঘটনায় বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক নেতারা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

স্থানীয়রা বলছেন, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে এমন ঘটনা খুবই দুঃখজনক। ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আনন্দ অনুষ্ঠান পরিণত হয়েছে এলাকায় বিশৃঙ্খলার কারণ হিসেবে। তারা আশা করেন, ভবিষ্যতে এরকম পরিস্থিতি এড়াতে সবাই একযোগে কাজ করবে।

শিক্ষক ও অভিভাবকরা বলেন, “স্কুলের সম্মান রক্ষায় সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। দাওয়াত না দেওয়াকে কেন্দ্র করে এত বড় ধরনের সংঘর্ষ হতে পারে, এটা কল্পনাতীত।”

উপজেলা প্রশাসন ও শিক্ষা কর্তৃপক্ষও এই ঘটনার বিষয়ে গভীরভাবে খতিয়ে দেখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তারা জানিয়েছেন, স্কুলের পরবর্তী কার্যক্রম স্বাভাবিক করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


আকাশজমিন / আরআর 


এ সম্পর্কিত আরো খবর