সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে খুলনা মহানগর ও জেলা বিএনপি আয়োজিত এ জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জনসভায় সভাপতিত্ব করেন খুলনা মহানগর বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট এস এম শফিকুল আলম মনা। মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল আলম তুহিনের সঞ্চালনায় জনসভাটি অনুষ্ঠিত হয়।
তারেক রহমান বলেন, বিএনপি শুধু কথার ফুলঝুরি ছড়াতে বিশ্বাস করে না। দেশের মানুষকে সামনে এগিয়ে নিতে হলে বাস্তবভিত্তিক পরিকল্পনা এবং জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। গত ১৫ থেকে ১৬ বছরে বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের অসংখ্য নেতাকর্মী খুন, গুম ও হত্যার শিকার হয়েছেন। লক্ষ লক্ষ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে গায়েবি মামলা দিয়ে নির্যাতন চালানো হয়েছে। এসব নিপীড়নের মধ্যেও বাংলাদেশের মানুষ ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট মাসে দল-মত নির্বিশেষে রাজপথে নেমে স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে এবং সেই স্বৈরাচারকে বিদায় করেছে।
তিনি বলেন, দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে বাংলাদেশের মানুষ তাদের মৌলিক রাজনৈতিক অধিকার, বিশেষ করে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত ছিল। শুধু জাতীয় নির্বাচন নয়, স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও জনগণের মতামত প্রতিফলিত হয়নি। কেউ এই বিষয়ে কথা বলার চেষ্টা করলে রাতের অন্ধকারে তাকে তুলে নেওয়া হয়েছে, খুন কিংবা গুমের শিকার হতে হয়েছে। তিনি বলেন, এখন সময় এসেছে জনগণের অধিকার পুনরুদ্ধারের। আগামী ১২ তারিখ বাংলাদেশের মানুষ তাদের সেই হারিয়ে যাওয়া অধিকার প্রয়োগ করবে।
অতীতের রাষ্ট্র পরিচালনার অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, অতীতেও বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পালন করেছে। একইভাবে আগামী দিনে জনগণের সমর্থনে সরকার গঠন করতে পারলে বিএনপি দেশ পুনর্গঠনের কাজ শুরু করবে। তবে এই পুনর্গঠন হবে সবার অংশগ্রহণে। যাদের কাছে মানুষের মূল্যায়ন নেই, আত্মসম্মান নেই, তাদের হাতে দেশ নিরাপদ থাকতে পারে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশে বর্তমানে প্রায় ২০ কোটি মানুষের বসবাস। এই জনসংখ্যার অন্তত অর্ধেক নারী। নারী সমাজকে পেছনে রেখে কোনোভাবেই দেশকে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়। যত বড় পরিকল্পনাই করা হোক না কেন, নারীদের বাদ দিয়ে দেশ পুনর্গঠন করা অসম্ভব। এ কারণেই দেশনেত্রী খালেদা জিয়া ক্ষমতায় থাকাকালে স্কুল পর্যায় থেকে কলেজ পর্যন্ত মেয়েদের জন্য বিনামূল্যে শিক্ষার ব্যবস্থা করেছিলেন। এর মাধ্যমে নারী সমাজকে শিক্ষার আলোয় আলোকিত করে আত্মনির্ভরশীল করে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।
তিনি বলেন, একটি উন্নত ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়তে হলে নারী সমাজকে সমান সুযোগ ও সম্মান দিতে হবে। নারীরা যদি শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণে অংশগ্রহণের সুযোগ পায়, তাহলে বাংলাদেশ অনেক দ্রুত এগিয়ে যাবে।
জনসভায় আরও বক্তব্য দেন বিএনপির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক ও খুলনা-৩ আসনের প্রার্থী রকিবুল ইসলাম বকুল, খুলনা-২ আসনের প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু, খুলনা-৪ আসনের প্রার্থী আজিজুল বারী হেলাল, খুলনা-৫ আসনের প্রার্থী আলী আসগর লবী, খুলনা-১ আসনের প্রার্থী আমীর এজাজ খান, খুলনা-৬ আসনের প্রার্থী এস এম মনিরুর হাসান বাপ্পী, সাতক্ষীরা-১ আসনের প্রার্থী হাবিবুল ইসলাম হাবিব, সাতক্ষীরা-২ আসনের প্রার্থী মোঃ আব্দুল রউফ, সাতক্ষীরা-৩ আসনের প্রার্থী কাজী আলাউদ্দিন, সাতক্ষীরা-৪ আসনের প্রার্থী মোঃ মনিরুজ্জামান, বাগেরহাট-১ আসনের প্রার্থী কপিল কৃষ্ণ মন্ডল, বাগেরহাট-২ আসনের প্রার্থী ব্যারিস্টার জাকির হোসেন, বাগেরহাট-৩ আসনের প্রার্থী শেখ ফরিদুল ইসলাম এবং বাগেরহাট-৪ আসনের প্রার্থী সোমনাথ দে প্রমুখ।
এর আগে সোমবার সকাল ১১টায় পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত ও গীতা পাঠের মধ্য দিয়ে জনসভার কার্যক্রম শুরু হয়। উল্লেখ্য, খুলনায় এটি তারেক রহমানের চতুর্থ সফর। এর আগে সর্বশেষ ২০০৪ সালে তিনি খুলনা সফর করেছিলেন।
আকাশজমিন / আরআর