স্টাফ রিপোর্টার:
স্বৈরাচারবিরোধী দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামে শহীদ এবং গুমের শিকার হয়ে যারা আজও ফিরে আসেননি—তাদের আত্মার মাগফেরাত কামনায় ফ্রি ছানি অপারেশন কর্মসূচি ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করেছে বিএনপি। গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ বিনির্মাণে জীবন উৎসর্গকারী সকলের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে এই মানবিক কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. মো. রফিকূল ইসলাম। যুবদলের সাবেক সহস্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ও চক্ষু বিশেষজ্ঞ ডা. বেলাল হোসেন নাজিমের উদ্যোগে এই কর্মসূচি বাস্তবায়িত হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. মো. রফিকূল ইসলাম বলেন, গত ১৭ বছরে সিরাজগঞ্জের মেরিসহ হবিগঞ্জ, চট্টগ্রাম, মুন্সিগঞ্জ এবং দেশের বিভিন্ন স্থানে শত শত বিএনপি নেতাকর্মী স্থায়ীভাবে দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন। আন্দোলন-সংগ্রামে আহত হয়ে অনেকেই আজ স্বাভাবিক জীবনযাপন থেকে বঞ্চিত।
তিনি বলেন, “মেরির বলা প্রতিটি কথা আমরা অন্তর দিয়ে অনুধাবন করি। মাত্র পাঁচ মিনিটের জন্য বিএনপির চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমানকে একবার দেখতে চাওয়ার যে আকুতি—তা আমাদের হৃদয়কে নাড়া দেয়।” তার মতে, এই আকুতি শুধু একজন মানুষের নয়, এটি নির্যাতিত অসংখ্য মানুষের কণ্ঠস্বর।
ডা. রফিকূল ইসলাম আরও জানান, মেরির চিকিৎসার জন্য বিএনপির চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমানের নির্দেশে দলীয় উদ্যোগে তাকে বিদেশে পাঠানো হলেও তার দৃষ্টিশক্তি ফেরানো সম্ভব হয়নি। একইভাবে দৃষ্টিশক্তি হারানো শতাধিক নেতাকর্মীর চিকিৎসার ব্যবস্থাও দলীয়ভাবে করা হয়েছে। তবে অনেকেই সম্পূর্ণভাবে সুস্থ হয়ে উঠতে পারেননি। কারও একটি চোখ নষ্ট হওয়ার পর অন্য চোখের দৃষ্টিশক্তিও ধীরে ধীরে কমে যাচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, “নতুন এই বাংলাদেশে আমাদের অঙ্গীকার করতে হবে—এভাবে যেন আর কারও দৃষ্টিশক্তি হারাতে না হয়।” আন্দোলন-সংগ্রামে আহত ও নির্যাতিতদের পাশে দাঁড়ানো বিএনপির নৈতিক দায়িত্ব বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বিগত ১৭ বছর আন্দোলন-সংগ্রামে শহীদ ও গুম হওয়াদের স্মরণ করে ডা. রফিকূল ইসলাম বলেন, বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে আগামীর বাংলাদেশ হবে শহীদদের স্বপ্নের বাংলাদেশ। সেখানে আর কোনো স্বৈরাচার, নির্যাতন কিংবা অবিচার থাকবে না।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ড্যাবের সহসভাপতি ডা. তৌহিদুল ইসলাম জন, ক্যান্টনমেন্ট থানা বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট আলমগীর হোসেন, যুগ্ম আহ্বায়ক কাজী মাহবুবুল আলম নীলু, ১৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি তোফাজ্জল হোসেন বাবু, সাধারণ সম্পাদক মো. জাহিদ হাসান রনি খান, ক্যান্টনমেন্ট থানা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ এহসানুল মওলা, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মইনুল ইসলাম অমি, মাটিকাটা ইউনিট বিএনপির সভাপতি জিয়াউল হক এবং সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন রাব্বি।
ঢাকা-১৭ আসনের অন্তর্গত ক্যান্টনমেন্ট থানা ও ভাষানটেক থানার বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত রোগীদের মেডিকেল ক্যাম্পের মাধ্যমে ছানি রোগী বাছাই করা হয়। পরে নির্বাচিত রোগীদের সফলভাবে ছানি অপারেশন সম্পন্ন করেন ডা. শোয়েব আহমেদ রবিন ও ডা. বেলাল হোসেন নাজিম।
আকাশজমিন / আরআর