ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬,  ১৪ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

মীর শাহে আলমের প্রার্থিতা বাতিলের সুযোগ নেই: জেলা নির্বাচন অফিসার


  • আপলোড সময় : বুধবার ০৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ সময় : ৮:২৩ পিএম

শিবগঞ্জ (বগুড়া) প্রতিনিধি 

বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনে নির্বাচনী লড়াই ক্রমশ ঘনিয়ে আসার সঙ্গে রাজনৈতিক উত্তাপও বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে বিএনপি নেতারা অভিযোগ করেছেন, ধানের শীষ মার্কার প্রার্থী মীর শাহে আলমের বিরুদ্ধে নানা মিথ্যা অভিযোগ তুলে জামায়াত নিশ্চিত পরাজয় আঁচ করতে পেরে ষড়যন্ত্র করছে।

জানা গেছে, ২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, সোমবার জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ দায়ের করেন জেলা জামায়তের নায়েবে আমীর আবু নছর মোঃ আলমগীর হোসাইন। অভিযোগে বলা হয়, মীর শাহে আলম লাভজনক পদে থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন, তাই তার প্রার্থিতা বাতিল করা হোক।

তবে খোঁজ-খবর এবং সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, বিসিক ও বিআরটিসির পরিচালক পদগুলো অলাভজনক পদ হিসেবে গণ্য। সংবিধানের ৬৬(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সরকারি অলাভজনক পদের সংজ্ঞা অনুযায়ী বিসিক ও বিআরটিসি পরিচালক পদ অন্তর্ভুক্ত। ফলে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (RPO), ১৯৭২-এর ধারা ১২(১)(গ) অনুযায়ী উক্ত দুটি প্রতিষ্ঠানের পদে থেকে নির্বাচনে অংশগ্রহণে কোনো বিধিনিষেধ নেই। সরকারি বিধান অনুযায়ী লাভজনক পদের সংজ্ঞার মধ্যেও বিসিক ও বিআরটিসির পরিচালক পদ পড়ে না।

জেলা সিনিয়র নির্বাচন অফিসার মোঃ ফজলুল করিম বলেন, “আইন অনুযায়ী এখন আর প্রার্থীতা বাতিলের কোনো সুযোগ নেই। যেহেতু উনি এসব পদ থেকে নিয়মিত বেতন-ভাতা পান না, তাই এটি অবশ্যই অলাভজনক পদ।” তিনি আরও জানিয়েছেন, নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী যেসব পদকে লাভজনক ধরা হয়, সেখানে সাধারণত মাসিক বেতন-ভাতা পাওয়া যায় এবং সরকারি দায়িত্বের সঙ্গে অন্যান্য সুবিধা যুক্ত থাকে। বিসিক ও বিআরটিসির পরিচালক পদে তা প্রযোজ্য নয়।

শিবগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট আব্দুল ওহাব বলেছেন, “জামায়াত নিশ্চিত পরাজয় বুঝতে পেরে বিভ্রান্তি ছড়ানোর অপচেষ্টায় লিপ্ত হয়েছে। কিন্তু শিবগঞ্জের মানুষ ধানের শীষকে বিপুল ভোটে বিজয়ী করবে, ইনশাআল্লাহ।” তিনি আরও বলেন, স্থানীয় নেতাকর্মীরা ইতিমধ্যেই এলাকায় সভা-সমাবেশ, প্রচারণা ও জনসংযোগ কার্যক্রম শুরু করেছেন।

নির্বাচনী মাঠে পরিস্থিতি প্রতিনিয়ত পরিবর্তিত হচ্ছে। বিএনপির নেতা ও সমর্থকরা বিভিন্ন এলাকা ঘুরে নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছেন। শিবগঞ্জের মানুষ ভোটের মর্যাদা, গণতান্ত্রিক অধিকার ও এলাকার উন্নয়নের বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনায় অংশ নিচ্ছেন। এদিকে জামায়াতের অভিযোগ রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বিভ্রান্তি ছড়ানো হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বিসিক ও বিআরটিসি পরিচালক পদ নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে পরিষ্কারভাবে জানানো হয়েছে, এই পদগুলোতে থাকলেও প্রার্থিতা বাতিল করার কোনো আইনি ভিত্তি নেই। স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী এগুলো যথাযথভাবে যাচাই করা হচ্ছে। নির্বাচন কমিশন ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা বিষয়গুলো নজরে রেখেছেন এবং আইন অনুযায়ী সিদ্ধান্ত কার্যকর হচ্ছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, নির্বাচনী লড়াই যত ঘনিয়ে আসছে, ততই প্রতিপক্ষের পক্ষ থেকে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা দেখা যাচ্ছে। তবে আইন ও সংবিধানের সুনির্দিষ্ট বিধান থাকায় এসব অভিযোগের কোনো কার্যকর ফল পাওয়া যাচ্ছে না। নির্বাচন কমিশন নিয়ম অনুযায়ী সব প্রার্থী ও তাদের বৈধতা যাচাই করছে।

শিবগঞ্জের সাধারণ মানুষও ভোটের প্রতি আগ্রহ দেখাচ্ছেন। বিভিন্ন গ্রাম ও ইউনিয়ন থেকে মানুষ সমাবেশে অংশ নিচ্ছেন এবং দলের মনোনীত প্রার্থীর পক্ষে সমর্থন প্রকাশ করছেন। নারী ও যুব সমাজের অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্য, যারা শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু ভোট প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ভোটাধিকার প্রয়োগে উৎসাহী।

এছাড়া রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে স্থানীয় প্রশাসনের সহায়তা রয়েছে। নির্বাচনী প্রচারণা ও জনসংযোগ কার্যক্রম স্বচ্ছ ও সুষ্ঠু করতে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসন মাঠ পর্যায়ে কাজ করছেন। ভোটারদের সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন তথ্যচিত্র, প্রচার ও ব্যানার ব্যবহার করা হচ্ছে।

স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সামাজিক নেতারা বলছেন, “এ ধরনের বিভ্রান্তিমূলক অভিযোগ নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে নষ্ট করার চেষ্টা। তবে আইন ও সংবিধান অনুযায়ী তা কার্যকর হবে না।” তারা আশা প্রকাশ করেছেন, শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু ভোটের মাধ্যমে জনগণ তাদের প্রার্থীর পক্ষে ভোট প্রদান করবে।

বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনে ধানের শীষ মার্কার প্রার্থী মীর শাহে আলমের বিজয় নিশ্চিত করা নিয়ে স্থানীয় দল ও সমর্থকরা আত্মবিশ্বাসী। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এমন অভিযোগ সাধারণত নির্বাচনী উত্তাপ বৃদ্ধির কৌশল হিসেবে ব্যবহৃত হয়, তবে প্রার্থীর বৈধতা নিশ্চিত থাকায় তা কোনো প্রভাব ফেলবে না।



এ সম্পর্কিত আরো খবর