আগামী জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি নিজেই পর্যাপ্ত আসনে জয়ী হবে বলে মন্তব্য করেছেন দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। নির্বাচনের পর ঐক্য সরকার গঠনের যে প্রস্তাব প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী দিয়েছে, সেটি স্পষ্টভাবে প্রত্যাখ্যান করেছেন তিনি। তারেক রহমানের মতে, জনগণের রায়ের ভিত্তিতে বিএনপি এককভাবেই সরকার গঠনের সক্ষমতা অর্জন করবে।
গতকাল শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বার্তাসংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তারেক রহমান বলেন, “আমার রাজনৈতিক বিরোধী দলের সঙ্গে কীভাবে আমি ঐক্য সরকার গঠন করব? তাহলে বিরোধী দল কে হবে?” তিনি আরও বলেন, তিনি জানেন না জামায়াত কতটি আসনে জয়ী হবে। তবে তারা যদি বিরোধী দলে থাকে, তাহলে একটি শক্তিশালী ও দায়িত্বশীল বিরোধী দল হিসেবে ভূমিকা রাখবে—এমন প্রত্যাশা তার রয়েছে।
তারেক রহমানের ঘনিষ্ঠ সহযোগীরা জানিয়েছেন, তাদের বিশ্বাস আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি সংসদের দুই-তৃতীয়াংশ আসনে জয়ী হতে পারে। সংসদে মোট ৩০০টি আসন থাকলেও বিএনপি নিজস্ব প্রার্থী দিয়েছে ২৯২টি আসনে। বাকি আসনগুলো ছেড়ে দেওয়া হয়েছে জোটের অন্যান্য শরিক দলগুলোকে। যদিও তারেক রহমান নিজে কোনো নির্দিষ্ট আসনসংখ্যা উল্লেখ করতে রাজি হননি।
রয়টার্সকে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, “আমাদের আত্মবিশ্বাস আছে যে আমরা সরকার গঠনের জন্য পর্যাপ্ত আসনে জয়ী হব।” তার মতে, জনগণের সমর্থন ও মাঠপর্যায়ের শক্ত অবস্থানই বিএনপির সবচেয়ে বড় ভরসা।
দেশের স্থিতিশীলতার কথা উল্লেখ করে নির্বাচন শেষে জামায়াত মূলত ঐক্য সরকার গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে। ২০২৪ সালে সাবেক স্বৈরাচার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পতন আন্দোলনের সময় দেশের তৈরি পোশাক খাতসহ অর্থনীতির বিভিন্ন খাত ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়। সেই ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে এবং স্থিতিশীল সরকার গঠনের যুক্তিতে দলটি সবাইকে নিয়ে সরকার গঠনের আগ্রহ প্রকাশ করেছে বলে জানা গেছে। তবে তারেক রহমান মনে করেন, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় বিরোধী দলের শক্ত অবস্থানও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
সাক্ষাৎকারে পররাষ্ট্রনীতি নিয়েও প্রশ্নের মুখোমুখি হন তারেক রহমান। তাকে জিজ্ঞাসা করা হয়, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে ভারত থেকে সরে চীনের দিকে ঝুঁকবে কি না। জবাবে তিনি বলেন, “যদি আমরা সরকারে থাকি, আমাদের তরুণদের চাকরি দিতে হবে। দেশে আমাদের ব্যবসা আনতে হবে যেন তাদের চাকরির সুযোগ তৈরি হয় এবং মানুষ ভালো জীবনযাপন করতে পারেন।”
তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশের স্বার্থ ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করে, যেসব প্রস্তাব আমাদের জনগণ ও দেশের জন্য উপযুক্ত হবে, আমরা তাদের সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব করব। আলাদা কোনো দেশের সঙ্গে নয়।” তার বক্তব্যে ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতির ইঙ্গিত স্পষ্ট।
স্বৈরাচার শেখ হাসিনার সন্তানদের ভবিষ্যতে রাজনীতিতে ফেরার সুযোগ দেওয়া হবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তারেক রহমান বলেন, “যদি জনগণ কাউকে মেনে নেয়, যদি মানুষ তাদের স্বাগত জানায়, তাহলে যে কারও রাজনীতি করার সুযোগ আছে।”
এছাড়া তিনি বলেন, মিয়ানমারে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তারা বাংলাদেশে অবস্থান করতে পারবে। এই বিষয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কার্যকর উদ্যোগের ওপরও গুরুত্ব আরোপ করেন তিনি।
সূত্র: রয়টার্স