কর্মজীবী নারীদের নিয়ে ‘অবমাননাকর ও নারীবিদ্বেষী’ বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগ তুলে জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমানের প্রার্থিতা বাতিলের দাবি জানিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছেন ১০ নারী ও একটি সংগঠন। রোববার দুপুরে প্রধান নির্বাচন কমিশনার-সিইসির কাছে এ স্মারকলিপি দেওয়া হয়।
স্মারকলিপিতে স্বাক্ষরকারীরা শফিকুর রহমানের বক্তব্যে গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তাঁদের অভিযোগ, সম্প্রতি শফিকুর রহমান তার ভ্যারিফায়েড এক্স অ্যাকাউন্ট থেকে কর্মজীবী নারীদের সম্পর্কে যে মন্তব্য করেছেন, তা অবমাননাকর, কুরুচিপূর্ণ ও নারীবিদ্বেষী। এ ধরনের বক্তব্য শুধু নারীদের প্রতি চরম অবমাননাই নয়, বরং দেশের কোটি কোটি শ্রমজীবী, আত্মমর্যাদাশীল ও অবদানশীল নারীর শ্রম, সম্মান ও সামাজিক ভূমিকার সরাসরি অস্বীকৃতি।
স্মারকলিপিতে বলা হয়, পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট দলের পক্ষ থেকে ওই বক্তব্যকে হ্যাকিংয়ের ফল বলে ব্যাখ্যা দেওয়া হলেও ভ্যারিফায়েড এক্স অ্যাকাউন্ট থেকে প্রকাশিত এমন বক্তব্যের ক্ষেত্রে এই দাবি গ্রহণযোগ্য নয়। কারণ এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্ল্যাটফর্মের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য, প্রামাণ্য তথ্য বা স্বচ্ছ তদন্তের ফলাফল এখনো পর্যন্ত জনসমক্ষে উপস্থাপিত হয়নি।
তারা আরও বলেন, শ্রমজীবী নারীদের নিয়ে প্রকাশ্যে এ ধরনের বক্তব্য সংবিধানস্বীকৃত সমতা, মানবাধিকার, নারী মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচারের চরম পরিপন্থি। এতে নারীর প্রতি ঘৃণা, বৈষম্য ও সহিংসতার সংস্কৃতিকে উসকে দেওয়া হয়, যা নারী শ্রমিকদের নিরাপত্তা, মর্যাদা ও কর্মপরিবেশকে হুমকির মুখে ফেলে।
রাজনৈতিক নেতৃত্বের আসনে থাকা একজন ব্যক্তির কাছ থেকে এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন মন্তব্য কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না বলে উল্লেখ করেন তারা। বিষয়টি নির্বাচন কমিশনের নৈতিকতা ও আচরণবিধির আওতায় বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান স্মারকলিপিদাতারা।
স্মারকলিপিতে চার দফা দাবি উত্থাপন করা হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে— অবিলম্বে ওই অবমাননাকর বক্তব্য প্রকাশ্যে প্রত্যাহার, কর্মজীবী নারী ও নারী শ্রমিকদের কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা, ভবিষ্যতে নারীর মর্যাদা ও শ্রমকে হেয় করে এমন বক্তব্য থেকে বিরত থাকার সুস্পষ্ট অঙ্গীকার এবং নির্বাচন কমিশনের আচরণবিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির প্রার্থিতা বাতিল।
স্মারকলিপি প্রদানকারী নারীদের মধ্যে রয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সামিনা লুৎফা, গার্মেন্টস শ্রমিক মুক্তি আন্দোলনের সভাপতি শবনম হাফিজ, নেটওয়ার্ক ফর পিপলস অ্যাকশন-এনপিএর মুখপাত্র ফেরদৌস আরা রুমী, নারীর রাজনৈতিক অধিকার ফোরামের সংগঠক নাফিসা রায়হানা, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের নারী বিষয়ক সম্পাদক জাকিয়া শিশির, আইনজীবী ও অধিকার কর্মী তাবাসসুম মেহেনাজ মিমি, গ্রীন বাংলা গার্মেন্টস ওয়ার্কার্স ফেডারেশনের সভাপতি সুলতানা বেগম, জনভাষ্যের কেন্দ্রীয় সদস্য শামীম আরা নীপা এবং গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটির সদস্য মারজিয়া প্রভা। স্মারকলিপিতে ‘নারী পক্ষ’ নামের একটি সংগঠনও যুক্ত রয়েছে।