ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬,  ১৪ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

চট্টগ্রামের ১৬ আসন: বিএনপি ৯টিতে জয়ী, তিনটিতে এগিয়ে


  • আপলোড সময় : শুক্রবার ১৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ সময় : ১১:৩৭ এএম

চট্টগ্রামে ১৬টি সংসদীয় আসন রয়েছে। বেসরকারি ফলাফলের ভিত্তিতে ৯টিতে জয়লাভ করেছেন বিএনপির প্রার্থীরা। আরও তিনটি সংসদীয় আসনে বিএনপি প্রার্থীরা এগিয়ে রয়েছেন। জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীরা দুটি আসনে জয়ী হয়েছেন। বাকি দুটি আসনে বিএনপি প্রার্থীর ফলাফল আদালতের নির্দেশনায় স্থগিত রয়েছে।

২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর এবার এমন ভালো ফল করেছে বিএনপি। ওই নির্বাচনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট ১৫ আসনের মধ্যে ১৩টি আসন জয় করেছিল (বর্তমানে আসন সংখ্যা ১৬)।

গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে সাতটা থেকে ভোট গ্রহণ শুরু হয় এবং বিকেল সাড়ে চারটায় শেষ হয়। সন্ধ্যার পর থেকে রিটার্নিং কর্মকর্তারা ফলাফল ঘোষণা করতে শুরু করেন। চট্টগ্রাম নগরের চারটি আসনের মধ্যে দুইটিতে জয়লাভ করেছেন বিএনপি প্রার্থীরা এবং বাকি দুটিতে এগিয়ে রয়েছেন ধানের শীষের প্রার্থীরা।

চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালি-বাকলিয়া) আসনে বিএনপির মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান ১ লাখ ৯ হাজার ৩৮৮ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের এ কে এম ফজলুল হক পেয়েছেন ৫৩ হাজার ৮০৭ ভোট। ফলাফল ঘোষণা করা হয় নগরের চট্টগ্রাম জেলা স্টেডিয়ামের প্রাথমিক ফলাফল সংগ্রহ ও পরিবেশন কেন্দ্রে। মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ১৬ হাজার ৩৬৩ এবং ভোট কেন্দ্র ১২১টি।

চট্টগ্রাম-১১ (বন্দর-পতেঙ্গা) আসনে জয়ী হয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি ১ লাখ ১৫ হাজার ৯৯৯ ভোট পেয়েছেন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের মোহাম্মদ শফিউল আলম পেয়েছেন ৭৬ হাজার ৬৮১ ভোট।

চট্টগ্রাম-৮ (বোয়ালখালী-চান্দগাঁও), চট্টগ্রাম-১০, এবং চট্টগ্রাম-৫ আসনে বিএনপি প্রার্থীরা এগিয়ে রয়েছেন।

নগরের বাইরে চট্টগ্রাম জেলায় ১২টি আসন রয়েছে। এর মধ্যে ৭টিতে জয়ী হয়েছেন বিএনপি প্রার্থীরা, একটিতে এগিয়ে আছেন এবং দুটি আসনে ফলাফল স্থগিত রয়েছে। জামায়াতের প্রার্থীরা চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া-লোহাগাড়া) ও চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী) আসনে জয়ী হয়েছেন।

চট্টগ্রাম-১ (মিরসরাই) আসনে বিএনপির নুরুল আমিন ১ লাখ ২৮ হাজার ৭৯৯ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের মোহাম্মদ ছাইফুর রহমান পেয়েছেন ৮৪ হাজার ৫৩৮ ভোট।

চট্টগ্রাম-৩ (সন্দ্বীপ) আসনে বিএনপির মোস্তফা কামাল পাশা ৭২ হাজার ৩৫৩ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের মুহাম্মদ আলা উদ্দীন পেয়েছেন ৩৭ হাজার ১৫৭ ভোট। পোস্টাল ভোট পড়েছে ৪ হাজার ৭৮৪টি।

চট্টগ্রাম-৬ (রাউজান) আসনে বিএনপির গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী ১ লাখ ১২ হাজার ২৩৭ ভোট পেয়েছেন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ইসলামী ফ্রন্টের মোহাম্মদ ইলিয়াছ নূরী পেয়েছেন ২৭ হাজার ১৪৬ ভোট।

চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসনে বিএনপির হুমাম কাদের চৌধুরী ১ লাখ ১ হাজার ৪৪৫ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের এ টি এম রেজাউল করিম পেয়েছেন ৪১ হাজার ৭১৯ ভোট।

চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) আসনে বিএনপির মোহাম্মদ এনামুল হক ১ লাখ ৩৪ হাজার ৮০ ভোট পেয়েছেন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বৃহত্তর সুন্নি জোটের বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের ছৈয়দ এয়ার মোহাম্মদ পেয়ারু পেয়েছেন ২৮ হাজার ৭৭৭ ভোট। ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের প্রার্থী জামায়াতের মোহাম্মদ ফরিদুল আলম পেয়েছেন ২০ হাজার ৯৪২ ভোট।

চট্টগ্রাম-১৩ (আনোয়ারা-কর্ণফুলী) আসনে বিএনপির সরওয়ার জামাল নিজাম ১ লাখ ২৫ হাজার ৪৬০ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বৃহত্তর সুন্নি জোটের এস এম শাহজাহান পেয়েছেন ৫৪ হাজার ৬২৭ ভোট। জামায়াতের মাহমুদুল হাসান চৌধুরী পেয়েছেন ৩৪ হাজার ৩৫ ভোট।

চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ-সাতকানিয়া আংশিক) আসনে বিএনপির জসীম উদ্দীন আহমেদ জয়ী হয়েছেন ৭৬ হাজার ৪৯৩ ভোট নিয়ে। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের ওমর ফারুক পেয়েছেন ৭৫ হাজার ৪৭৭ ভোট।

চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া-লোহাগাড়া) আসনে জামায়াতের শাহজাহান চৌধুরী ১ লাখ ৭২ হাজার ৬১ ভোট পেয়েছেন। বিএনপির নাজমুল মোস্তফা আমিন পেয়েছেন ১ লাখ ২৭ হাজার ২৫ ভোট। ইসলামী আন্দোলনের শরীফুল আলম চৌধুরী পেয়েছেন ২ হাজার ৮৭৩ ভোট।

চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী) আসনে জামায়াতের মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম ৯৩ হাজার ১৬৭ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। বিএনপির মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী পেয়েছেন ৮৩ হাজার ১০৫ ভোট এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ লেয়াকত আলী পেয়েছেন ৫৫ হাজার ৪৯২ ভোট।

চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড) ও চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনে আদালতের নির্দেশে ফলাফল প্রকাশ স্থগিত রয়েছে। চট্টগ্রাম-৪ আসনে বিএনপির আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা বহাল রয়েছে। চট্টগ্রাম-২ আসনে বিএনপির সারোয়ার আলমগীর প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবেন। আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত এই দুই আসনের ফলাফল প্রকাশ করা হবে না।

নির্বাচনে চট্টগ্রামের ভোটাররা শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বিতা প্রত্যক্ষ করেছেন। বিএনপি ও জামায়াতের প্রার্থীরা বিভিন্ন আসনে জয়ী হয়েছেন এবং দুইটি আসনে আপিলের কারণে ফলাফল স্থগিত রয়েছে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর