ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬,  ১৪ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

১৫ বছরের দমন-পীড়নের কারণে জামায়াতের উত্থান: মির্জা ফখরুল


মির্জা ফখরুল

  • আপলোড সময় : শুক্রবার ১৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ সময় : ৩:১৩ পিএম

অনলাইন রিপোর্টার

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, গত ১৫ বছরে বিরোধী দল ও জনগণের ওপর আওয়ামী লীগের দমন-পীড়নের ফলে জামায়াতের উত্থান ঘটেছে। শুক্রবার সকালে ঠাকুরগাঁও শহরের কালীবাড়ি এলাকায় নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, দীর্ঘ ১৫ বছর ফ্যাসিস্ট শাসনের কারণে গণতন্ত্র চাপা পড়েছে। মানুষ তাদের অধিকার ও কণ্ঠ প্রকাশের সুযোগ পায়নি। এ অবস্থা থেকেই উগ্রবাদী শক্তিগুলো মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। আজকের জামায়াতের সামান্য উত্থানও এই দমন-পীড়নের ফল। জনগণ দীর্ঘদিনের দমন-পীড়নের কারণে তাদের চাওয়া-পাওয়া ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছে। বিএনপি এবার নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে এবং জনগণ আবারও সুষ্ঠু, সৎ ও জনকল্যাণমূলক রাজনীতির মাধ্যমে দেশের অঙ্গীকার ও নীতিগুলোকে বাস্তবায়িত করতে সক্ষম হবে।

মির্জা ফখরুল বলেন, জনগণ বিএনপির রাষ্ট্র সংস্কার, প্রতিশ্রুতি ও পরিকল্পনাগুলো গ্রহণ করেছে। এ কারণে এই বিজয়কে তিনি ‘ল্যান্ডস্লাইড ভিক্টোরি’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি আরও জানান, জাতীয় সরকার গঠন প্রসঙ্গে বিএনপি তাদের কমিটমেন্টে অটল রয়েছে। যেসব রাজনৈতিক শক্তি ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে বিএনপির সঙ্গে যুগপৎ আন্দোলন করেছে এবং নির্বাচনে অংশ নিয়েছে, তাদের সঙ্গে মিলিত হয়ে সরকার গঠন করা হবে।

জুলাই সনদ বাস্তবায়ন প্রসঙ্গে মহাসচিব বলেন, এই সনদের যেসব অংশে বিএনপি সই করেছে, তা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কার্যকর করা হবে। ৩১ দফা প্রস্তাব অনুযায়ী পর্যায়ক্রমে নীতিমালা ও সংস্কারগুলো বাস্তবায়ন করা হবে।

রংপুর বিভাগের জামায়াতের তুলনামূলক বেশি আসন পাওয়ার প্রসঙ্গেও তিনি মন্তব্য করেন। বলেন, বৃহত্তর দিনাজপুরে জামায়াত কোনো আসন জয় করতে পারেনি। সেখানে ৩টি জেলা ও ১১টি আসন বিএনপির দখলে রয়েছে। জনগণের সঙ্গে নিবিড় ইন্টারঅ্যাকশন ও রাজনৈতিক সংগঠন-সক্ষমতার মাধ্যমে এ ধরনের উগ্রপ্রবণতা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।

এ সময় জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলী, সাবেক সহসভাপতি আবু তাহের, পৌর বিএনপির সভাপতি শরিফুল ইসলামসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। মির্জা ফখরুলের বক্তব্য থেকে স্পষ্ট, দলের দৃষ্টিভঙ্গি এবং পরিকল্পনা অনুযায়ী আগামী সময়ে জনগণের কল্যাণমুখী নীতি কার্যকর করা হবে, যা দেশের রাজনীতিতে স্থিতিশীলতা ও গণতান্ত্রিক ধারাকে পুনরায় প্রতিষ্ঠা করবে।

ঢাকা টুডে / আরজে


এ সম্পর্কিত আরো খবর