ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬,  ১৪ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ঢাকা-১৪ আসন

কারচুপির অভিযোগ, ফলাফল স্থগিতের দাবি সানজিদা তুলির


  • আপলোড সময় : শুক্রবার ১৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ সময় : ৬:৩৬ পিএম

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৪ আসনকে কেন্দ্র করে নতুন করে রাজনৈতিক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। এই আসনে প্রশাসনের অসহযোগিতা ও নজিরবিহীন কারচুপির অভিযোগ তুলেছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সানজিদা ইসলাম তুলি। শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে ঢাকা-১৪ আসনের সকল নির্বাচনী ফলাফল স্থগিত করার দাবি জানান।

সংবাদ সম্মেলনে সানজিদা ইসলাম তুলি বলেন, নির্বাচনের দিন সকাল থেকেই প্রশাসনের একটি অংশ নিরপেক্ষ আচরণ করতে ব্যর্থ হয়েছে। তার অভিযোগ, ভোটগ্রহণের শুরুর সময় থেকে কেন্দ্রগুলোতে তাদের পোলিং এজেন্টদের নানা ধরনের বাধার মুখে পড়তে হয়েছে। বিশেষ করে দুপুরের পর পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়। তিনি দাবি করেন, প্রশাসনিক সহায়তায় কিছু কেন্দ্র থেকে তাদের পোলিং এজেন্টদের শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে বের করে দেওয়া হয়েছে। ফলে ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া একপাক্ষিক হয়ে পড়ে।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, নির্বাচনের আগের দিন ১১ ফেব্রুয়ারি গভীর রাতে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর (দাঁড়িপাল্লা প্রতীক) পক্ষ থেকে প্রিজাইডিং অফিসারদের সঙ্গে আর্থিক লেনদেন হয়েছে এবং ভোটারদের মাঝে অর্থ বিতরণ করা হয়েছে। এ বিষয়ে তাদের কাছে ভিডিও প্রমাণ রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। যদিও সংবাদ সম্মেলনে সেই ভিডিও প্রদর্শন করা হয়নি, তবে তিনি বলেন, প্রয়োজনে নির্বাচন কমিশনের কাছে তা উপস্থাপন করা হবে।

সানজিদা ইসলাম তুলি অভিযোগ করেন, ভোট গণনার আগেই তাদের পোলিং এজেন্টদের কাছ থেকে ফলাফল শিটে স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে, যা নির্বাচনী বিধিমালার পরিপন্থী। তার ভাষ্য অনুযায়ী, অনেক কেন্দ্রেই সঠিকভাবে গণনা সম্পন্ন হওয়ার আগেই ফলাফল প্রস্তুত করা হয়েছে। এছাড়া ঢাকা-১৪ আসনের ফলাফল প্রকাশে উদ্দেশ্যমূলক বিলম্ব করা হয়েছে বলেও তিনি অভিযোগ তোলেন। কিছু কেন্দ্রে ফলাফল প্রকাশ না করেই ব্যালট পেপার সরাসরি নির্বাচন কমিশনে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে—এমন দাবিও করেন তিনি।

তিনি বলেন, “এটি শুধু একজন প্রার্থীর প্রতি অবিচার নয়, বরং পুরো গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার প্রতি অবিচার। নির্বাচনের মৌলিক নীতি—স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা—চরমভাবে লঙ্ঘিত হয়েছে।” তিনি দাবি করেন, এমন পরিস্থিতিতে ফলাফল ঘোষণা গণতন্ত্রের চেতনার পরিপন্থী। তাই অবিলম্বে ঢাকা-১৪ আসনের ফলাফল স্থগিত করে পুনঃতদন্তের দাবি জানান তিনি।

অন্যদিকে, ঢাকা-১৪ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মীর আহমাদ বিন কাসেম বেসরকারিভাবে জয়ী হয়েছেন। দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে তিনি মোট ১ লাখ ১ হাজার ১১৩ ভোট পেয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী সানজিদা ইসলাম তুলি পেয়েছেন ৮৩ হাজার ৩২৩ ভোট। ফলাফল ঘোষণার পর থেকেই দুই পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের পর কারচুপির অভিযোগ তোলা নতুন কিছু নয়। তবে অভিযোগের সপক্ষে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ উপস্থাপন করা হলে তা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা উচিত। নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব হচ্ছে সকল অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা। কারণ নির্বাচনের প্রতি জনগণের আস্থা টিকিয়ে রাখা গণতন্ত্রের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ঢাকা-১৪ আসনটি রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ একটি আসন হিসেবে পরিচিত। এখানে ভোটারসংখ্যা বেশি এবং রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতাও তীব্র। এবারের নির্বাচনে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয় বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর মধ্যে। নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগের মধ্য দিয়ে রাজনৈতিক পরিস্থিতি কিছুটা উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।

সানজিদা ইসলাম তুলি বলেন, তারা আইনগতভাবে বিষয়টি মোকাবিলা করবেন। প্রয়োজন হলে নির্বাচন কমিশন ও সংশ্লিষ্ট আদালতে আবেদন করা হবে। তার দাবি, ভোটারদের অধিকার রক্ষার স্বার্থেই এই লড়াই চালিয়ে যাবেন। তিনি তার সমর্থক ও ভোটারদের ধৈর্য ধরার আহ্বান জানান এবং শান্তিপূর্ণ উপায়ে প্রতিবাদ চালিয়ে যাওয়ার অনুরোধ করেন।

অন্যদিকে, বেসরকারি ফলাফল অনুযায়ী বিজয়ী মীর আহমাদ বিন কাসেমের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। তবে তার সমর্থকরা ফলাফলকে জনগণের রায় হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

সব মিলিয়ে, ঢাকা-১৪ আসনের নির্বাচনকে ঘিরে ওঠা এই অভিযোগ ও দাবি-দাওয়ার বিষয়টি এখন রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। নির্বাচন কমিশন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে এখন সবার দৃষ্টি।


এ সম্পর্কিত আরো খবর