বিনোদন ডেস্ক
বলিউডের প্রভাবশালী চিত্রনাট্যকার এবং সুপারস্টার সালমান খানের বাবা সেলিম খানের শারীরিক অবস্থা নিয়ে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বর্তমানে ৯০ বছর বয়সী এই প্রবীণ ব্যক্তিত্ব মুম্বাইয়ের লীলাবতী হাসপাতালের নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র (আইসিইউ)–তে চিকিৎসাধীন। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, তার অবস্থা আশঙ্কাজনক।
সেলিম খানের মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ (ব্রেন হেমোরেজ) হয়েছে, যা শারীরিক জটিলতা বহুগুণ বেড়ে যাওয়ার কারণ হয়েছে। বর্তমানে তাকে ‘ভেন্টিলেশন সাপোর্টে’ রাখা হয়েছে এবং চিকিৎসকেরা অবস্থা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন। সূত্রের খবর অনুযায়ী, আজ বুধবার তার মস্তিষ্কে একটি জরুরি অস্ত্রোপচার সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে।
মঙ্গলবার বাবার অসুস্থতার খবর পাওয়ার পরই সলমন খান হাসপাতালের দিকে ছুটে যান। পরিবারের অন্য সদস্যরা—আরবাজ খান, সোহেল খান এবং আলভিরা অগ্নিহোত্রীও বর্তমানে হাসপাতালে অবস্থান করছেন। রাতের বেলায় প্রবীণ চিত্রনাট্যকারকে দেখতে হাসপাতালে যান বর্ষীয়ান অভিনেতা সঞ্জয় দত্ত এবং সেলিম খানের দীর্ঘদিনের কাজের সঙ্গী জাভেদ আখতার।
পরিবারের পক্ষ থেকে এখনও আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি প্রকাশ করা হয়নি। তবে পারিবারিক একটি সূত্র জানিয়েছে, চিকিৎসকেরা সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করছেন। প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পরিবারের আশা, সফল অস্ত্রোপচার শেষে সেলিম খান দ্রুত সুস্থ হয়ে ফিরবেন।
সেলিম খানের অসুস্থতার খবর ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভক্ত ও সহকর্মীদের মধ্যে উদ্বেগের ছায়া নেমে এসেছে। বলিউডের বহু তারকা তার দ্রুত আরোগ্য কামনা করে বার্তা দিয়েছেন।
উল্লেখ্য, হিন্দি সিনেমার ইতিহাসে সেলিম খান একজন উজ্জ্বল নক্ষত্র। তিনি জাভেদ আখতারের সঙ্গে ‘সেলিম-জাভেদ’ জুটি হিসেবে নব্বইয়ের দশকে বলিউডে বিপ্লব ঘটিয়েছিলেন। তাদের যৌথ কলমে তৈরি হয়েছে ‘জঞ্জির’, ‘দিওয়ার’, ‘ডন’-এর মতো কালজয়ী ছবি। এছাড়া এককভাবে তিনি ‘নাম’, ‘কব্জা’ এবং ‘জুর্ম’-এর মতো সিনেমার চিত্রনাট্য লিখে সমালোচক ও দর্শকের প্রশংসা কুড়িয়েছেন।
বলিউডের বর্তমান প্রজন্মও সেলিম খানের অবদানকে স্বীকৃতি দিয়েছে। তার গল্প এবং সংলাপের মান এখনো চলচ্চিত্রপ্রেমীদের কাছে প্রাসঙ্গিক। সিনেমা ও চিত্রনাট্যের ক্ষেত্রে তার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা ও সৃষ্টিশীলতা বলিউডকে সমৃদ্ধ করেছে।
চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, প্রবীণ সেলিম খানের অবস্থা গুরুতর হলেও তিনি ধীর গতিতে ধীরে ধীরে উন্নতির সম্ভাবনা দেখাচ্ছেন। পরিবারের সদস্যরা এবং শিল্পী মহল উদ্বিগ্ন হলেও অস্ত্রোপচারের পর তার সুস্থতার আশাবাদ ব্যক্ত করা হচ্ছে।
ভক্ত ও সহকর্মীরা সামাজিক মাধ্যমে তাকে দ্রুত সুস্থ হওয়ার শুভকামনা জানিয়েছেন। বলিউডে তার অবদান চিরস্মরণীয়, যা নতুন প্রজন্মের চিত্রনাট্যকারদের জন্য প্রেরণার উৎস। চিকিৎসার পাশাপাশি পরিবারের সমর্থন ও ভক্তদের শুভেচ্ছা তার দ্রুত আরোগ্যকে সহায়তা করবে বলে মনে করা হচ্ছে।