বিনোদন প্রতিবেদক
দেশের সিনেমা ইন্ডাস্ট্রি মূলত দুই ঈদকে ঘিরেই প্রাণ ফিরে পায়। বছরের অন্য সময় সিনেমা মুক্তির গতি ধীর থাকলেও ঈদ এলেই শুরু হয় নির্মাতাদের হল দখলের প্রতিযোগিতা। গত বছরের দুই ঈদ মিলিয়ে যেখানে ১২টি সিনেমা মুক্তি পেয়েছিল, সেখানে এবার শুধু রোজার ঈদেই মুক্তির তালিকায় রয়েছে রেকর্ড ১৬টি সিনেমা। ফলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে—শেষ পর্যন্ত কয়টি সিনেমা প্রেক্ষাগৃহে আলোর মুখ দেখবে?
প্রতিবারের মতো এবারও আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন মেগাস্টার শাকিব খান। আবু হায়াত মাহমুদের ‘প্রিন্স: ওয়ানস আপন অ্যা টাইম ইন ঢাকা’ সিনেমায় তাকে নব্বইয়ের দশকের গ্যাংস্টার রূপে দেখা যাবে। সিনেমাটিতে তার সঙ্গে আছেন তাসনিয়া ফারিণ।
অন্যদিকে বড় পর্দায় ফিরছেন আফরান নিশো। রেদওয়ান রনির ‘দম’ সিনেমায় তার সঙ্গে থাকছেন চঞ্চল চৌধুরী। অ্যাকশন ঘরানার সিনেমা ‘রাক্ষস’-এ জুটি বেঁধেছেন সিয়াম আহমেদ ও টালিউডের সুস্মিতা চ্যাটার্জি। এছাড়া রায়হান রাফীর ‘প্রেশার কুকার’-এ দেখা যাবে বুবলী ও নাজিফা তুষিকে।
এবারের ঈদে সাহিত্যানির্ভর সিনেমার সংখ্যাও চোখে পড়ার মতো। প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদ-এর গল্প অবলম্বনে তানিম নূর নির্মাণ করেছেন ‘বনলতা এক্সপ্রেস’। অন্যদিকে কবি জীবনানন্দ দাশ-এর কবিতা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে মাসুদ হাসান উজ্জ্বল নির্মাণ করেছেন ‘বনলতা সেন’। সামাজিক প্রেক্ষাপটে নির্মিত রাশিদ পলাশের ‘রঙবাজার’ এবং পোশাকশিল্পের ঝুট ব্যবসাকে কেন্দ্র করে ইফফাত জাহান মম’র ‘কাট পিস’ও মুক্তির তালিকায় রয়েছে।
তালিকায় আরও আছে আদর আজাদ ও বুবলীর ‘পিনিক’ ও ‘ট্রাইব্যুনাল’, নাবিলা ও খায়রুল বাসারের ‘বনলতা সেন’, শম্পা রেজা ও জান্নাতুল পিয়ার ‘রঙবাজার’, প্রমোদ অগ্রাহারি ও তাহমিনা অথৈয়ের ‘হাঙর’, আরিফিন শুভ ও মিমের ‘মালিক’, সজল ও অপুর ‘দুর্বার’, সিফাত আমিন ও রাফাহ তোরসার ‘কাট পিস’, পরীমণির ‘ডোডোর গল্প’, ববির ‘তছনছ’ এবং মাহিয়া মাহির ‘অফিসার’। এত বড় মুক্তির তালিকা ঘিরে সামাজিক মাধ্যমে চলচ্চিত্রপ্রেমীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া।
অনেকের মতে, এত বিপুল সংখ্যক সিনেমা একসঙ্গে মুক্তি পেলে হলসংকট প্রকট আকার ধারণ করতে পারে। বর্তমানে দেশে চালু প্রেক্ষাগৃহের সংখ্যা ১৪১টি। এর মধ্যে রয়েছে স্টার সিনেপ্লেক্স-এর ৭টি শাখা। তবে ঈদকেন্দ্রিক ব্যবসার কারণে বছরের বড় সময় অনেক হলই বন্ধ থাকে। ফলে একসঙ্গে ১৬টি সিনেমা চালানো বাস্তবসম্মত হবে কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।
তবে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে কথা বলেছেন নির্মাতা তানিম নূর। গত ঈদে ‘উৎসব’ দিয়ে সাফল্য পাওয়া এই নির্মাতা জানান, তাদের ‘বনলতা এক্সপ্রেস’-এর কাজ প্রায় শেষ। হুমায়ূন আহমেদের গল্পভিত্তিক এই সিনেমা দর্শক টানবে বলে তার বিশ্বাস। তার মতে, সিনেমা বেশি হলে দর্শকও বেশি হলমুখী হয়। গত ঈদে ছয়টি সিনেমা মুক্তি পেয়েও প্রায় সবগুলোই হল পেয়েছিল এবং দর্শক দেখেছে। এবারও তেমনটাই হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
নিজের সিনেমার প্রচারণা প্রসঙ্গে তানিম নূর বলেন, ইতোমধ্যে প্রাথমিক প্রচার শুরু হয়েছে, সামনে আরও বড় পরিসরে প্রচারণার পরিকল্পনা রয়েছে।
অন্যদিকে হল মালিকদের পক্ষ থেকে শোনা গেছে ভিন্ন সুর। বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রদর্শক সমিতির সভাপতি আওলাদ হোসেন উজ্জ্বল হোসেন বলেন, সারা বছর নীরব থাকার পর ঈদে এসে নতুন সিনেমার হিড়িক পড়ে। এতে সব সিনেমা চালানো সম্ভব হয় না। দর্শকের চাহিদা বিবেচনায় সীমিতসংখ্যক সিনেমা প্রদর্শন করা হয়; ফলে কিছু সিনেমা প্রত্যাশিত হল পায় না এবং ব্যবসায়িকভাবে পিছিয়ে পড়ে।
তবে তিনি এটাও জানিয়েছেন, এখনো চূড়ান্তভাবে নিশ্চিত নয় কতগুলো সিনেমা ঈদে মুক্তি পাবে। পরিস্থিতি স্পষ্ট হলে বিস্তারিত জানানো হবে।
সব মিলিয়ে আসন্ন ঈদ হতে যাচ্ছে সিনেমার লড়াইয়ের ঈদ। তারকাবহুল বড় বাজেটের সিনেমা থেকে শুরু করে সাহিত্যানির্ভর ও সামাজিক গল্প—সব মিলিয়ে বৈচিত্র্যময় আয়োজন অপেক্ষা করছে দর্শকদের জন্য। তবে শেষ পর্যন্ত হলসংখ্যা ও প্রদর্শন ব্যবস্থাপনার বাস্তবতা কতটা সামাল দিতে পারবে এই ‘১৬ সিনেমার ঈদ’, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।
আকাশজমিন / আরআর