বিনোদন ডেস্ক
বলিউড থেকে হলিউড, নিজের মেধা ও পরিশ্রমে বিশ্বমঞ্চে ভারতের জয়গান গেয়ে বিশ্বব্যাপী পরিচিতি অর্জন করেছেন প্রিয়াঙ্কা চোপড়া। তবে সম্প্রতি তিনি বিতর্কের মুখে পড়েছেন ভারতের ‘ভুল মানচিত্র’ ইস্যুর কারণে।
গত ১৭ ফেব্রুয়ারি একটি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে সাক্ষাৎকারে প্রিয়াঙ্কা তার ক্যারিয়ার ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করেন। কিন্তু দর্শকদের নজর কাড়েছে তার পেছনে থাকা ভারতের মানচিত্র, যা বিতর্কের সূত্রপাত করেছে। মানচিত্রে ভারতের সীমানা, বিশেষ করে জম্মু-কাশ্মীরের বিতর্কিত অংশ, ভারতের সরকারি মানচিত্রের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।
নেটিজেনরা মন্তব্য করেছেন যে একজন ভারতীয় অভিনেত্রী হিসেবে প্রিয়াঙ্কা কীভাবে এমন একটি ভুল মানচিত্রের সামনে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা দেখা গেছে। অনেকেই তাকে ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন’ আখ্যা দিয়েছেন। বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা মানচিত্রের কারণে প্রিয়াঙ্কা চোপড়াকে নিয়ে একটি বড় অংশ নেটিজেন সমালোচনা করছেন।
এই ঘটনায় বিতর্ক ও সমালোচনার পাশাপাশি সমর্থনও এসেছে। অনেকে বলেছেন যে প্রিয়াঙ্কা সাক্ষাৎকার দিতে গিয়েছিলেন এবং মানচিত্র সংশোধন করা তার দায়িত্ব নয়। অনেক সমর্থক মনে করছেন, বিষয়টি তার নজরের বাইরে থেকে গেছে এবং এটি তার ব্যক্তিগত ভুল নয়।
বিশ্বব্যাপী খ্যাত প্রিয়াঙ্কা চোপড়া হিন্দি সিনেমা থেকে হলিউড পর্যন্ত একাধিক প্রকল্পে কাজ করে আন্তর্জাতিকভাবে ভারতীয় সংস্কৃতিকে প্রতিনিধিত্ব করেছেন। তার সফলতা শুধুমাত্র অভিনয়েই সীমাবদ্ধ নয়, বরং সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডেও তিনি সক্রিয়। কিন্তু এই ঘটনা দেখিয়েছে, আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় উপস্থিতি ও পরিবেশের ক্ষেত্রে একটি ক্ষুদ্র ত্রুটি বা ভুলও কিভাবে দ্রুত বিতর্কের জন্ম দিতে পারে।
নেটিজেনদের মধ্যে বিতর্ক মূলত রাজনৈতিক ও ভূ-রাজনৈতিক সচেতনতার কারণে তীব্র হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, একজন বিশ্বমানের ভারতীয় তারকার কাছে এমন বিষয়গুলো নিয়ে সতর্কতা থাকা উচিত। অন্যদিকে সমর্থকরা বলছেন, প্রিয়াঙ্কা তার কাজের ওপর মনোযোগ দিয়েছেন এবং সাক্ষাৎকারের প্রেক্ষাপট অনুযায়ী তাকে দায়ী করা ঠিক হবে না।
এদিকে বিষয়টি আন্তর্জাতিক মিডিয়াতেও আলোচিত হয়েছে। বিশেষ করে সামাজিক মাধ্যমে ভিডিও ও ছবির ক্লিপ দ্রুত ভাইরাল হয়েছে। বিতর্ক ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রিয়াঙ্কার প্রতি সমালোচনা ও সমর্থন উভয়ই সমানভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
প্রিয়াঙ্কা চোপড়া নিজের ক্যারিয়ার জুড়ে বহুবার বিভিন্ন দেশ ও সংস্কৃতির সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করেছেন। এই বিতর্ক তাকে নতুনভাবে সতর্ক করেছে যে আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে উপস্থিতি শুধু ব্যক্তিগত সাফল্যের বিষয় নয়, দেশপ্রেম ও দায়িত্ববোধের সঙ্গে সম্পর্কিত।
এ ঘটনা প্রমাণ করে যে, কোনো আন্তর্জাতিক সাক্ষাৎকার বা ইভেন্টে সেটিং, ব্যাকগ্রাউন্ড ও পরিবেশের ক্ষুদ্র ত্রুটিও দ্রুত সামাজিক ও রাজনৈতিক বিতর্কে পরিণত হতে পারে। প্রিয়াঙ্কা চোপড়া অবশ্যই তার সাফল্য ও অভিজ্ঞতা দিয়ে এই বিতর্ক সামাল দিতে সক্ষম হবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
আকাশজমিন / আরআর