আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু করার দায়ী করেছেন। বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ইউক্রেনের স্বাধীনতা রক্ষা করতে ভূখণ্ড ছেড়ে দেওয়া যাবে না, বরং কঠোর সামরিক ও অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগ করে রাশিয়াকে থামানো সম্ভব। যুদ্ধবিরতির নামে কোনও কৌশলগত ছাড় দিতে রাজি নন জেলেনস্কি।
কিয়েভের সুরক্ষিত সরকারি কমপ্লেক্সে অনুষ্ঠিত সাক্ষাৎকারে জেলেনস্কি স্পষ্ট করে বলেন, ইউক্রেন পরাজয়ের পথে নয়, বরং শেষ পর্যন্ত জয় নিয়ে যুদ্ধ শেষ হবে। তিনি উল্লেখ করেন, যুদ্ধবিরতির নামে রাশিয়ার শর্ত মেনে কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ এলাকা ছেড়ে দিলে সেটি ভূখণ্ড হস্তান্তরের চেয়ে বেশি অর্থ বহন করবে, কারণ এতে লাখো মানুষকে কার্যত ছেড়ে দিতে হবে এবং সমাজ বিভক্ত হয়ে পড়বে।
জেলেনস্কি বলেন, ‘আমার বিশ্বাস, পুতিন ইতোমধ্যেই তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু করে দিয়েছেন। এখন প্রশ্ন হলো, তাকে কীভাবে থামানো হবে। রাশিয়া বিশ্বের ওপর ভিন্ন জীবনধারা চাপাতে চায় এবং মানুষের স্বাধীন জীবন পরিবর্তন করতে চায়।’ তিনি আরও বলেন, ইউরোপীয় অংশীদাররা পূর্বাভাস দিয়েছেন, পুতিন পুনরায় শক্তি সঞ্চয় করতে তিন থেকে পাঁচ বছর লাগতে পারে। জেলেনস্কির মতে, সময়ের মেয়াদ কম হতে পারে, কিন্তু তিনি পুনরায় হামলা চালাতে বাধ্য হবেন।
রাশিয়া দাবি করছে, ইউক্রেন দোনেৎস্ক অঞ্চলের অবশিষ্ট ২০ শতাংশ এবং খেরসন ও জাপোরিঝিয়া অঞ্চল হস্তান্তর করুক। জেলেনস্কি বলেন, এটি কেবল ভূখণ্ড নয়, এতে সামাজিক ও ন্যায়ের ক্ষতি হবে। যদি এমন ছাড় দেওয়া হয়, সেটি পুতিনকে সাময়িকভাবে সন্তুষ্ট করতে পারে, কিন্তু মূল সমস্যা সমাধান হবে না।
জেলেনস্কি আরও বলেন, সব ভূখণ্ড পুনরুদ্ধারই বিজয় নয়, মানুষের জীবন রক্ষা এবং স্বাধীনতা টিকিয়ে রাখা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ১৯৯১ সালের সীমান্তে ফিরে যাওয়া কেবল রাজনৈতিক সাফল্য নয়, এটি ন্যায়বিচারের প্রতীক। তিনি বলেন, “মানুষ ছাড়া ভূখণ্ডের কোনো মানে নেই। আমাদের স্বাধীনতা রক্ষা করাটাই সত্যিকারের বিজয়।”
সাক্ষাৎকারে জেলেনস্কি প্রকাশ করেছেন, তিনি কখনও স্বৈরশাসক নন এবং যুদ্ধও শুরু করেননি। যুদ্ধ চলাকালীন সামরিক আইন কার্যকর থাকায় ২০২৪ সালে নির্বাচন হয়নি, তবে তিনি জানান, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ইউক্রেন সাধারণ নির্বাচন আয়োজন করবে।
উত্তরপশ্চিমে হোয়াইট হাউসে এক বছর আগে সফরের সময় ট্রাম্প ও ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সর সঙ্গে জেলেনস্কি বিতর্কে পড়েছিলেন। এরপর থেকে তিনি প্রকাশ্যে সংঘাতে না জড়ানোর কৌশল গ্রহণ করেছেন। যুক্তরাষ্ট্র সামরিক সহায়তা কমালেও গোয়েন্দা সহায়তা অব্যাহত রেখেছে। ইউরোপীয় দেশগুলোও যুক্তরাষ্ট্র থেকে অস্ত্র সংগ্রহ করে ইউক্রেনকে প্রদান করছে।
জেলেনস্কি যুদ্ধের শুরুর দায়িত্ব নিজের ওপর চাপানো নিয়ে বলেন, ‘আমি স্বৈরশাসক নই, যুদ্ধও আমি শুরু করিনি’। তার মতে, পুতিনকে এখনই থামানো হলে তা হবে বৈশ্বিক বিজয়।
আকাশজমিন / আরআর