ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন ও চাঁদাবাজি কঠোর হাতে দমন করা হবে: আইনমন্ত্রী ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের নতুন অধ্যায় চায় বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ডেঙ্গুতে আরও ৬ প্রাণহানি, এক দিনে হাসপাতালে ১৫৬১ জন ভর্তি গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে: রাষ্ট্রপতি আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ: দুদক ‘বারবার মিথ্যা মামলা না দিয়ে আমাকে একবারে গুলি করে মেরে ফেলেন’ ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে বিনিয়োগে আগ্রহী মার্কিন কোম্পানি শেভরন পাবনায় ডিবির ওসির প্রত্যাহারে সাংবাদিকদের ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় শক্তিশালী স্থানীয় সরকারের বিকল্প নেই: ড. আবদুল মঈন খান

ইউক্রেনকে পরমাণু অস্ত্র দিলে পাল্টা পারমাণবিক হামলার হুঁশিয়ারি


  • আপলোড সময় : বুধবার ২৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ সময় : ৩:৪৮ পিএম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মস্কো সতর্ক করেছে, যদি ইউক্রেনকে পরমাণু অস্ত্র সরবরাহ করা হয়, তাহলে রাশিয়া পাল্টা পারমাণবিক হামলা চালাতে পারে। এই হুঁশিয়ারি দিয়েছেন রাশিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট ও নিরাপত্তা পরিষদের উপপ্রধান দিমিত্রি মেদভেদেভ। তুর্কি টুডের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিনি বলেন, “যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স যদি ইউক্রেনকে পারমাণবিক ওয়ারহেড সরবরাহ করে, তবে তা সরাসরি যুদ্ধরত একটি দেশের হাতে পরমাণু অস্ত্র তুলে দেওয়া সমান হবে। এমন পরিস্থিতিতে রাশিয়া ‘নন-স্ট্র্যাটেজিক’ বা কৌশলগত নয় এমন পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করতে পারে।”

মেদভেদেভ আরও উল্লেখ করেছেন, রাশিয়ার বৈদেশিক গোয়েন্দা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ব্রিটেন ও ফ্রান্স ইউক্রেনকে পরমাণু অস্ত্র দেওয়ার পরিকল্পনা করছে। যদিও পশ্চিমা দেশগুলোর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এ বিষয়ে কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। মেদভেদেভের বক্তব্যে আন্তর্জাতিক মহলে উত্তেজনা বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

রাশিয়ার ক্রেমলিনও এই বিষয়ে মন্তব্য করেছে। ক্রেমলিনের মুখপাত্র বলেন, এমন পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক পারমাণবিক বিস্তাররোধ ব্যবস্থার জন্য বড় হুমকি এবং এটি আন্তর্জাতিক আইনের সরাসরি লঙ্ঘন। তিনি আরও জানান, পারমাণবিক অস্ত্রের বিস্তার রাশিয়ার জাতীয় নিরাপত্তার জন্যও গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

উল্লেখ্য, ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়া ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরু করে। এরপর থেকে রাশিয়া ও পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যে উত্তেজনা ক্রমবর্ধমান। পশ্চিমা দেশগুলো বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স ইউক্রেনকে সামরিক সহায়তা দিয়ে আসছে। তবে ইউক্রেনকে পারমাণু ক্ষমতা সরবরাহের বিষয়টি কূটনৈতিকভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং তা সংঘাতকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইউক্রেনে পারমাণবিক অস্ত্র সরবরাহ করলে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি গুরুতর হুমকির মুখে পড়বে। এ ধরনের পদক্ষেপ সম্ভাব্য পারমাণবিক প্রতিক্রিয়া এবং আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক চাপের সৃষ্টি করতে পারে।

মেদভেদেভের হুঁশিয়ারি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে পূর্ব ইউরোপ ও ন্যাটো সদস্য দেশগুলোর নিরাপত্তা কৌশল এই পরিস্থিতিতে পুনঃমূল্যায়নের অপেক্ষায় রয়েছে। কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, পরমাণু অস্ত্র বিতরণ কোনো দেশকেই সহজে গ্রহণযোগ্য বা নিরাপদ সিদ্ধান্ত মনে হবে না।

পশ্চিমা দেশগুলো এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে ইউক্রেনকে পারমাণবিক অস্ত্র সরবরাহের বিষয়ে কিছু জানায়নি। তবে রাশিয়ার এই সতর্কতা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য একটি গুরুত্বপুর্ন বার্তা হিসেবে ধরা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ভবিষ্যতে এই হুঁশিয়ারি কূটনৈতিক আলোচনার মাত্রা এবং নিরাপত্তা কৌশলকে প্রভাবিত করতে পারে।

রাশিয়ার এই হুঁশিয়ারি এবং ইউক্রেনে চলমান যুদ্ধ উত্তেজনার মধ্যে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় যুদ্ধবিরতি ও কূটনৈতিক সমাধানের জন্য চাপ বাড়াচ্ছে। ইউক্রেন, রাশিয়া এবং পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যে এ ধরনের উত্তেজনা বৈশ্বিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

আকাশজমিন / আরআর  


এ সম্পর্কিত আরো খবর