ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬,  ১৩ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

দক্ষিণ-পূর্ব ব্রাজিলে ভারী বৃষ্টিতে বন্যা, নিহত ২৩


  • আপলোড সময় : বুধবার ২৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ সময় : ৩:৪৫ পিএম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

দক্ষিণ-পূর্ব ব্রাজিলের মিনাস গেরাইস রাজ্যে টানা মুষলধারে বৃষ্টির ফলে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে অন্তত ২৩ জন নিহত হয়েছেন। নিখোঁজ রয়েছেন ৪০ জনেরও বেশি। উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়াদের খুঁজে বের করতে দিনরাত অভিযান চালাচ্ছেন।

সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে জুইজ ডি ফোরা শহরে। সেখানে অন্তত ১৮ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। Al Jazeera-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) দুর্যোগ-প্রশিক্ষিত কুকুরসহ কয়েক ডজন জরুরি কর্মী ধ্বংসস্তূপে তল্লাশি চালান। সোমবার বৃষ্টি শুরু হওয়ার পর থেকেই বহু মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা ৪৪ বছর বয়সী লিভিয়া রোজা জানান, তার কয়েকজন আত্মীয় কাদার নিচে চাপা পড়েছেন। তিনি বলেন, “গত রাত থেকে আমরা এখানে আছি—তারা বেঁচে আছে কিনা দেখার জন্য। আশাই এখন শেষ ভরসা।”

প্রাথমিক চিত্রে দেখা গেছে, শহরের বিভিন্ন এলাকা কাদা ও পানিতে তলিয়ে গেছে। একটি স্ফীত নদী গতিপথ পরিবর্তন করে নতুন নতুন এলাকায় প্লাবন সৃষ্টি করেছে। শহরটি রিও ডি জেনিরো থেকে প্রায় ৩১০ কিলোমিটার উত্তরে অবস্থিত। এ পর্যন্ত অন্তত ৪৪০ জন মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।

নিকটবর্তী উবা শহরেও কমপক্ষে সাতজন নিহত হয়েছেন। সেখানে পৃথকভাবে উদ্ধার অভিযান চলছে।

জুইজ ডি ফোরার মেয়র মার্গারিডা সালোমাও জানিয়েছেন, এলাকায় অন্তত ২০টি ভূমিধসের ঘটনা ঘটেছে এবং বহু বাড়িঘর ধসে পড়েছে। তিনি বলেন, “মাত্র চার ঘণ্টায় ১৮০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টি হয়েছে—তীব্র, ধ্বংসাত্মক ও অবিরাম। এটি আমার প্রশাসনের সবচেয়ে দুঃখজনক দিন।”

ফায়ার ব্রিগেডের মেজর ডেমেট্রিয়াস গৌলার্ট জানান, রাতের ভারী বৃষ্টির সময় অনেকেই ঘরের ভেতরে ছিলেন। “আজ সকালে আমরা ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে এক শিশুকে জীবিত উদ্ধার করেছি। এতে প্রায় দুই ঘণ্টা সময় লেগেছে,” বলেন তিনি।

কর্পো ডি বোম্বেইরোস মিলিটার ডি মিনাস গেরাইস-এর অন্তত ১০৮ জন সদস্য জুইজ ডি ফোরাতে এবং ২৮ জন উবাতে মোতায়েন রয়েছেন। তারা উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে কাজ করছেন।

ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিউ লুলা দা সিলভা এক বার্তায় জানিয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে সরকার সর্বাত্মক সহায়তা দেবে। তিনি বলেন, “আমাদের লক্ষ্য মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করা, মৌলিক সেবা পুনরুদ্ধার, বাস্তুচ্যুতদের সহায়তা এবং পুনর্গঠনে সহযোগিতা করা।”

আবহাওয়া অধিদপ্তর সতর্ক করেছে, আগামী দিনগুলোতেও ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। এতে উদ্ধার কার্যক্রম আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে এবং নতুন করে ভূমিধসের আশঙ্কাও রয়েছে।

প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে এখন সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চলছে উদ্ধার ও ত্রাণ তৎপরতা। স্বজনদের খোঁজে অপেক্ষায় থাকা পরিবারগুলোর কাছে প্রতিটি মুহূর্তই হয়ে উঠেছে অনিশ্চয়তায় ভরা।

আকাশজমিন / আরআর 


এ সম্পর্কিত আরো খবর