ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬,  ১৩ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

আমি না থাকলে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী মারা যেতেন: ডোনাল্ড ট্রাম্প


  • আপলোড সময় : বুধবার ২৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ সময় : ৪:৫৬ পিএম

মার্কিন কংগ্রেসের যৌথ অধিবেশনের ভাষণে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফের ভারত ও পাকিস্তান সংঘাতের প্রসঙ্গ টানলেন। নিজের দ্বিতীয় মেয়াদে প্রথম এক বছরের কাজের খতিয়ান তুলে ধরতে গিয়ে তিনি দাবি করেন, তাঁর হস্তক্ষেপ না থাকলে প্রাণহানি ঘটতে পারত ৩৫ মিলিয়ন মানুষের। মঙ্গলবার ওয়াশিংটন ডিসিতে দেওয়া এই ভাষণে তিনি আরও বলেন, সম্ভাব্য পারমাণবিক সংঘাত এড়াতে তাঁর ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ।

ভাষণে ট্রাম্প দাবি করেন, দ্বিতীয়বার প্রেসিডেন্ট হওয়ার ১০ মাসের মধ্যে তিনি আটটি যুদ্ধ থামিয়েছেন। ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে পারমাণবিক যুদ্ধের আশঙ্কা ছিল বলেও উল্লেখ করেন তিনি। ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী, ‘পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী আমাকে বলেছেন, আমি না থাকলে ৩৫ মিলিয়ন মানুষের প্রাণ যেতে পারত।’ এমনকি তিনি না থাকলে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফও মারা যেতেন বলে দাবি করেন ট্রাম্প।

চলতি বছরের শেষে যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এর আগে ওয়াশিংটনের ক্যাপিটলে মার্কিন কংগ্রেসের যৌথ অধিবেশনে ভাষণ দিয়ে ট্রাম্প তাঁর প্রশাসনের সাফল্য তুলে ধরেন। বক্তব্যের শুরুতেই অর্থনীতির অগ্রগতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমেরিকা আবারও স্বমহিমায় ফিরে এসেছে।

গত বছর বিভিন্ন দেশের ওপর বাণিজ্য শুল্ক আরোপ করেছিলেন ট্রাম্প। সম্প্রতি তাঁর শুল্কনীতির বেশ কিছু সিদ্ধান্ত খারিজ করে রায় দিয়েছেন মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট। শীর্ষ আদালতের এই রায়কে ভাষণে ‘দুর্ভাগ্যজনক’ বলে মন্তব্য করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, ‘মাত্র চারদিন আগে আদালত যে রায় দিয়েছেন তা দুর্ভাগ্যজনক। তবে সুখবর হলো, বেশিরভাগ দেশ আমেরিকার সঙ্গে করা নতুন চুক্তি মেনে বাণিজ্য করতে চায়।’

ট্রাম্প আরও বলেন, তাঁর দ্বিতীয় দফার প্রথম বছরটি আসলে তাঁর তৃতীয় দফায় প্রেসিডেন্ট হওয়ার কথা ছিল। তবে পৃথিবীতে অপ্রত্যাশিত ঘটনাও ঘটে উল্লেখ করে তিনি রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রতি ইঙ্গিত দেন।

ভাষণে তিনি পররাষ্ট্রনীতি, বাণিজ্য, নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক নীতির নানা দিক তুলে ধরেন। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক সংঘাত নিরসনে তাঁর প্রশাসনের কূটনৈতিক ভূমিকার কথা জোর দিয়ে বলেন। তবে ভারত–পাকিস্তান উত্তেজনা প্রশমনে তাঁর দাবির বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য তিনি উপস্থাপন করেননি।

আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রাক্কালে দেওয়া এই ভাষণকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছেন। এতে নিজের নেতৃত্বের সাফল্য তুলে ধরে ভোটারদের আস্থা অর্জনের চেষ্টা করেছেন ট্রাম্প।

আকাশজমিন / আরআর


এ সম্পর্কিত আরো খবর