ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬,  ১৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
তিন মাসেও সংস্কার হয়নি ভাঙা কালভার্ট: দুর্ভোগে পথচারীরা নেপালে নিহত বেড়ে ৩৫৯, নিখোঁজ প্রায় এক হাজার নেপালে তৈরি হয়েছে আরেক মৃত্যুফাঁদ, সতর্ক করল চীন ৮ হাজার মুসলমান হত্যার নেতৃত্ব দেওয়া ‘বসনিয়ার কসাই’ রাটকো ম্লাদিচের মৃত্যু জুলাই সনদ নিয়ে আপত্তি, সংসদ থেকে বিরোধী দলের ওয়াকআউট গত বছরের তুলনায় কমেছে খুন, ধর্ষণ ও মব সহিংসতা : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নতজানু পররাষ্ট্রনীতির কবর রচনা করা হয়েছে: পররাষ্ট্রমন্ত্রী আইন-শৃঙ্খলা ও মাদক নিয়ন্ত্রণে ৬৪ জেলার দায়িত্ব পেলেন ৩০ মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চিঠি পৌঁছে দিলেন হুমায়ুন কবির প্রযুক্তির ছোঁয়ায় বিলুপ্তির পথে গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী ঢেঁকি

ঘির নামে বিক্রি হচ্ছে পাম অয়েল, মসলায় মিলল অতিরিক্ত ছাই ও লবণ


  • আপলোড সময় : বুধবার ২৬ আগস্ট, ২০২৬ সময় : ৪:৫৩ পিএম

খাঁটি ঘির নামে মোড়কজাত হচ্ছে সস্তা পাম অয়েল, আর রান্নার মসলায় মিলছে ক্ষতিকর মাত্রার ছাই ও অতিরিক্ত লবণ। ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় নির্ধারিত গুণগত মান বজায় রাখতে ব্যর্থ হওয়ায় বম্বে সুইটসের পাঁচ ধরনের মসলা এবং ঐতিহ্যবাহী বাঘাবাড়ীসহ বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ঘি ও বাটার অয়েলসহ মোট ১০টি পণ্য বাজার থেকে তাৎক্ষণিক প্রত্যাহারের নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই)। জনস্বাস্থ্য রক্ষায় এসব নিম্নমানের পণ্য কেনা থেকে বিরত থাকতে ভোক্তাদের পরামর্শ দিয়ে সংশ্লিষ্ট প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানগুলোকে কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠিয়েছে সংস্থাটি।

বুধবার বিএসটিআইয়ের পক্ষ থেকে এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বিএসটিআই জানায়, নিয়মিত সার্ভিল্যান্স কার্যক্রমের অংশ হিসেবে সম্প্রতি বাজার থেকে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পণ্য সংগ্রহ করে নিজস্ব অত্যাধুনিক ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা করা হয়। এতে অধিকাংশ পণ্যের মান সঠিক পাওয়া গেলেও কিছু ব্র্যান্ডের ঘি, বাটার অয়েল ও মসলায় নির্ধারিত মানের ব্যত্যয় ধরা পড়ে। বিএসটিআইয়ের পরীক্ষায় বম্বে সুইটস অ্যান্ড কোং লিমিটেডের উৎপাদিত পাঁচটি মসলা বাংলাদেশ মান অনুযায়ী অকৃতকার্য হয়েছে। পণ্যগুলো হলো— কারী পাউডার হাঁসের মাংসের মসলা, তেহারী মসলা, কালা ভুনা মসলা, গরুর মাংসের মসলা এবং মাছের মসলা। এসব মসলায় মোট অ্যাশ বা ছাই ও লবণের মাত্রা নির্ধারিত সীমার চেয়ে বেশি পাওয়া গেছে।

অন্যদিকে, ঐতিহ্যবাহী বাঘাবাড়ী ব্র্যান্ডের ঘিতে ‘ঘি’ নেই বললেই চলে, পরীক্ষায় এমন প্রমাণ পেয়েছে বিএসটিআই। সংস্থাটির ভাষ্য অনুযায়ী, বাঘাবাড়ী ব্র্যান্ডের ঘির পরীক্ষায় গুরুতর অসঙ্গতি দেখা গেছে। ল্যাব টেস্টে ধরা পড়ে, পণ্যটিতে নির্ধারিত মিল্ক ফ্যাট নেই; বরং পাম অয়েল ও বনস্পতি ব্যবহার করে তা ‘ঘি’ নামে বাজারজাত করা হচ্ছিল।

বাংলাদেশ মানের সঙ্গে সামঞ্জস্য না থাকায় আরও কয়েকটি ব্র্যান্ডের ঘি ও বাটার অয়েল পরীক্ষায় অকৃতকার্য হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে— বাঘাবাড়ী প্রিমিয়াম ঘি কোম্পানির ‘বাঘাবাড়ী’ ঘি, কিশোরগঞ্জ ফুড প্রোডাক্টসের ‘অরুন বাঘাবাড়ী’ ঘি, মেসার্স মামুন ফুড প্রোডাক্টের ‘নিউ রাঁধুনী’ ঘি, মেসার্স মামুন ফুড প্রোডাক্টের ‘সিটি’ ঘি এবং এলডার্স ফুড প্রোডাক্টস অ্যান্ড প্যাকেজিং ইন্ডাস্ট্রিজের ‘এলডার্স’ বাটার অয়েল। পরীক্ষায় এসব ঘি ও বাটার অয়েলের রিফ্র্যাক্টিভ ইনডেক্স, আয়োডিন ভ্যালু, স্যাপোনিফিকেশন ভ্যালু ও পলেন্সকে ভ্যালু নির্ধারিত সীমার বাইরে পাওয়া গেছে।

এ বিষয়ে বিএসটিআই মহাপরিচালক (সচিব) কাজী ইমদাদুল হক বলেন, জাতীয় মান অনুসারে পণ্যের গুণগত মান বজায় রাখা প্রতিটি লাইসেন্সপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের আইনগত ও নৈতিক দায়িত্ব। কোনো প্রতিষ্ঠান এ দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে বিএসটিআই প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নিতে বদ্ধপরিকর। তিনি আরও জানান, পণ্যের মান সনদ দেওয়ার পাশাপাশি নকল ও ভেজাল পণ্য প্রতিরোধে সার্ভিল্যান্সের মাধ্যমে বিএসটিআইয়ের কঠোর নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।

পণ্য কেনার আগে বিএসটিআইয়ের মানচিহ্ন, লাইসেন্স নম্বর, উৎপাদনের তারিখ, মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ ও উপাদান যাচাই করতে ভোক্তাদের পরামর্শ দিয়েছেন এই মহাপরিচালক। কোনো পণ্যের মান, ভেজাল বা প্রতারণা সম্পর্কে অভিযোগ থাকলে বিএসটিআইয়ের হটলাইন ১৬১১৯-এ কল অথবা dg@bsti.gov.bd ই-মেইলে জানানোর অনুরোধ জানিয়েছে সংস্থাটি।


এ সম্পর্কিত আরো খবর