সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি / : 85
রেজাউল করিম ঝন্টু, সিরাজগঞ্জ
সিরাজগঞ্জে আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিবর্তন আসছে সবজি চাষে। প্রচলিত চাষাবাদের পাশাপাশি মলচিং পদ্ধতিতে শসা, মরিচ ও বেগুন উৎপাদনে কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে। বিশেষ করে শসা চাষে এ প্রযুক্তি ব্যবহার করে ভালো ফলন পাওয়ায় আশাবাদী হয়ে উঠেছেন কৃষকরা। একই সঙ্গে আগাছা নিয়ন্ত্রণ, মাটির আর্দ্রতা সংরক্ষণ এবং পরিচর্যা ব্যয় কমানোর সুবিধা এ পদ্ধতিকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে সিরাজগঞ্জের নয়টি উপজেলায় প্রায় ২ হাজার ৭২৫ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষ হয়েছে। এর মধ্যে শসার আবাদ রয়েছে ১৩০ হেক্টর জমিতে। আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে জেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রদর্শনী প্লটের মাধ্যমে মলচিং পদ্ধতিতে শসা চাষ করা হচ্ছে। এর মধ্যে ৬০ শতাংশ জমিতে এ পদ্ধতিতে শসা চাষ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের হিসাবে, মলচিং পদ্ধতিতে প্রতি বিঘায় প্রায় ৪০ থেকে ৪৫ মণ শসা উৎপাদন হচ্ছে।
কৃষকদের ভাষ্য, এ পদ্ধতিতে চারা রোপণের পর অপেক্ষাকৃত কম সময়ের মধ্যেই গাছে ফলন আসতে শুরু করে। সাধারণত চারা রোপণের ৩০ থেকে ৪৫ দিনের মধ্যে শসা সংগ্রহ করা সম্ভব হচ্ছে। জমিতে প্লাস্টিক মলচ ব্যবহার করায় আগাছার বিস্তার অনেকটাই কমে যায়। একই সঙ্গে মাটির আর্দ্রতা ধরে রাখা সম্ভব হওয়ায় ঘন ঘন সেচ দেওয়ার প্রয়োজন হয় না। এতে একদিকে যেমন শ্রমিকের প্রয়োজন কমে, অন্যদিকে পরিচর্যার খরচও নিয়ন্ত্রণে থাকে।
মলচিং পদ্ধতির আরেকটি সুবিধা হলো, গাছের ফল সরাসরি মাটির সংস্পর্শে থাকে না। ফলে মাটি থেকে সবজিতে ময়লা লাগার আশঙ্কা কমে এবং উৎপাদিত শসার গুণগত মান ভালো থাকে। কৃষকদের মতে, প্রচলিত পদ্ধতির তুলনায় এসব সুবিধা তাদের নতুন প্রযুক্তি ব্যবহারে উৎসাহিত করছে।
সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার কৃষক জসিম উদ্দিন বলেন, মলচিং পদ্ধতিতে শসা চাষ করে তিনি ভালো ফলন পেয়েছেন। এ প্রযুক্তিতে জমির পরিচর্যা তুলনামূলক সহজ হওয়ায় তাঁর অভিজ্ঞতাও ইতিবাচক।
তবে উৎপাদন ভালো হলেও বাজারদর নিয়ে কিছুটা হতাশা রয়েছে কৃষকদের মধ্যে। উল্লাপাড়ার কৃষক ফজলুল হক জানান, বেগুন ও শসায় ভালো ফলন পাওয়া গেলেও বাজারে সরবরাহ বেড়ে যাওয়ায় শসার দাম কিছুটা কমেছে। বর্তমানে প্রতি মণ শসা ১ হাজার ১০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। উৎপাদন খরচের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা গেলে কৃষকদের মধ্যে মলচিং পদ্ধতিতে চাষের আগ্রহ আরও বাড়বে বলে মনে করেন তিনি।
উল্লাপাড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুবর্ণা ইয়াসমিন সুমী বলেন, মলচিং পদ্ধতিতে বেগুন ও শসার ফলন এবং মান ভালো হচ্ছে। এ কারণে কৃষকদের মধ্যে আধুনিক এ প্রযুক্তি গ্রহণের আগ্রহ বাড়ছে। কৃষি বিভাগ থেকে কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ দেওয়ার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তাও দেওয়া হচ্ছে।
সিরাজগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক এ কে এম মঞ্জুরে মাওলা বলেন, আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে কৃষকদের উৎপাদনশীলতা বাড়াতে কৃষি বিভাগ কাজ করছে। মলচিং পদ্ধতিতে শসা চাষে আশাব্যঞ্জক ফলন পাওয়া যাচ্ছে। এ পদ্ধতির সুফল আরও বেশি কৃষকের কাছে পৌঁছে দিতে প্রদর্শনী প্লট সম্প্রসারণ এবং প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
কৃষি বিভাগের এমন উদ্যোগের ফলে সিরাজগঞ্জের কৃষিতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার আরও বিস্তৃত হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। উৎপাদন খরচ কমানো, ভালো ফলন এবং বাজারে ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা গেলে মলচিং পদ্ধতিতে সবজি চাষ জেলার কৃষকদের জন্য আরও সম্ভাবনাময় হয়ে উঠতে পারে।