ঢাকার
মিরপুরে অবস্থিত দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি কার্যালয়ে সংঘটিত বর্বরোচিত হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায়
তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্বাস্থ্যকর্মী ও উদ্যোক্তা ডা.
তাসনিম জারা। গত বৃহস্পতিবার গভীর
রাতের এই ন্যক্কারজনক ঘটনার
পর সরকারের ভূমিকা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির
অবনতি নিয়ে তিনি প্রশাসনের কাছে সুনির্দিষ্ট চারটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উত্থাপন করেছেন। বিগত পাঁচ দশক ধরে নামমাত্র খরচে এই কেন্দ্রটি মিরপুর
এলাকার গরিব মা ও শিশুদের
চিকিৎসাসেবা দিয়ে আসছিল।
হামলার
ফলে সৃষ্ট ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতির চিত্র তুলে ধরে তাসনিম জারা জানান, ফ্রিজ থেকে বের করে ফেলা বা মেঝেতে ছড়িয়ে
ছিটিয়ে থাকা টিকাগুলো নষ্ট হয়ে গেছে, যা শিশুদের দেওয়া
আর সম্ভব নয়। এছাড়া টিকাদানের গুরুত্বপূর্ণ রেজিস্টার খাতাগুলো লুট হয়ে যাওয়ায় অনেক শিশুর পরবর্তী ডোজের সঠিক হিসাব রাখা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে, যখন দেশজুড়ে হামের প্রাদুর্ভাব নিয়ে চরম উদ্বেগ চলছে এবং চলতি সপ্তাহেই এই কেন্দ্রে নতুন
করে হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচি শুরুর কথা ছিল, ঠিক তার আগের রাতেই এই প্রতিষ্ঠানটিকে গুঁড়িয়ে
দেওয়া হলো। পাশাপাশি, গর্ভবতী নারীদের ভরসা থাকা দুটি আলট্রাসনোগ্রাম মেশিনও হারিয়ে গেছে, যার ফলে অসহায় মায়েরা চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন।
এই
পরিস্থিতিতে সরকারের কাছে সরাসরি চারটি প্রশ্ন রেখে তাসনিম জারা বলেন—
প্রথমত,
থানা থেকে মাত্র এক কিলোমিটারের দূরত্বে
দুই শতাধিক লোক ভারী যন্ত্রপাতি নিয়ে প্রায় আধা ঘণ্টা থেকে এক ঘণ্টা সময়
ধরে একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্র মাটিতে মিশিয়ে দিল, অথচ পুলিশ খবর পাওয়ার পরও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নিল না কেন? আইনশৃঙ্খলা
রক্ষাকারী বাহিনীর এমন নিষ্ক্রিয়তা সাধারণ মানুষকে কার ভরসায় রাখবে?
দ্বিতীয়ত,
অতীতে এই জমি দখলের
চেষ্টা ব্যর্থ হলেও রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে কেন
পুনরায় এই অপচেষ্টা শুরু
হলো? ক্ষমতাসীন দলের কারা এই ভূমিদস্যুদের মদদ
দিচ্ছে এবং তাদের দ্রুত আইনের আওতায় না আনলে সরকারের
অন্যান্য অর্জন কীভাবে অর্থবহ হবে?
তৃতীয়ত,
মিরপুরের এই ঘটনা কি
কেবলই একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা? দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সাম্প্রতিক সময়ে দলীয় নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন জমি ও বাড়ি দখলের
যে অভিযোগ উঠছে, তাতে কি কেবল বহিষ্কারই
যথেষ্ট, নাকি এর পেছনে থাকা
বিচারহীনতার সংস্কৃতি ভাঙতে হবে?
চতুর্থত,
এই হামলা কেবল একটি বেসরকারি স্বাস্থ্যপ্রতিষ্ঠানের ওপর নয়; এটি সরকারের নিজস্ব ইপিআই টিকাদান কর্মসূচির ওপর সরাসরি আঘাত। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ
এখন এলাকার শিশুদের টিকাদান নিশ্চিত করতে কী পদক্ষেপ নিচ্ছে?