চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) উপাচার্য পদে নতুন নিয়োগ পাওয়া অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমের যোগদানপত্র পাঠানোর ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র অসন্তোষ ও বিক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সাধারণ শিক্ষার্থীরা তাঁর এই যোগদান প্রক্রিয়া সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাখ্যান করে শুক্রবার বিকেলে ক্যাম্পাসে একটি বিশাল বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন। শিক্ষার্থীদের এই আকস্মিক ও জোরালো আন্দোলনকে কেন্দ্র করে পুরো বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এক থমথমে ও উত্তেজনাকর পরিস্থিতি বিরাজ করছে, যা শিক্ষক ও শিক্ষার্থী সমাজের মধ্যে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
পূর্বঘোষিত কর্মসূচি ও স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিবাদের অংশ হিসেবে আজ শুক্রবার জুমার নামাজের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক মিলনায়তনের (টিএসসি) সামনে থেকে শত শত সাধারণ শিক্ষার্থী সমবেত হন। সেখান থেকে একটি সুশৃঙ্খল অথচ স্লোগানে মুখর বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি টিএসসি প্রাঙ্গণ থেকে শুরু হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। এ সময় মিছিলে অংশগ্রহণকারী ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা ‘ভিসি হিসেবে কাকে চাই, সায়েম স্যারকেই আবার চাই’, ‘মোদের দাবি একটাই, সায়েম স্যারকে ভিসি চাই’ সহ নানা ধরনের জোরালো স্লোগানে পুরো ক্যাম্পাস মুখরিত করে তোলেন। শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে পৌঁছানোর পর একটি সংক্ষিপ্ত প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে শিক্ষার্থীরা নতুন উপাচার্যের যোগদানকে কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না বলে তাদের কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। একই সঙ্গে তারা এই আন্দোলনের পরবর্তী কর্মসূচি হিসেবে ক্যাম্পাসে ‘দেয়াল লিখন’ বা গ্রাফিতি আঁকার নতুন ঘোষণা প্রদান করেন।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম ক্যাম্পাসে সশরীরে উপস্থিত না হয়ে মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর একটি লিখিত যোগদানপত্র পাঠান। ওই যোগদানপত্রে তিনি চুয়েটের নতুন উপাচার্য হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণের কথা উল্লেখ করেন। বর্তমান উপাচার্য পদের এই যোগদানের খবর ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই ক্যাম্পাসের সাধারণ শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমাজও এই যোগদানের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন এবং উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আগামী রোববার থেকে পূর্ণাঙ্গ কর্মবিরতি পালনের কঠোর ঘোষণা দিয়েছেন। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের যৌথ এই অসত্তোষের ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রমে বড় ধরনের অচলাবস্থা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
মিছিলে জোরালোভাবে অংশগ্রহণকারী তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক কৌশল বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী আকরাম হোসেন সুজন গণমাধ্যমকে দেওয়া বক্তব্যে বলেন, গতকাল আমরা জানতে পেরেছি যে উপাচার্য পদে অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম একটি যোগদানপত্র পাঠিয়েছেন। এর তাত্ক্ষণিক প্রতিবাদেই আজ আমরা সাধারণ শিক্ষার্থীরা রাজপথে নেমে বিক্ষোভ মিছিল করতে বাধ্য হয়েছি। তিনি আরও জানান, গতকাল আমাদের শ্রদ্ধেয় শিক্ষকরা আগামী রোববার থেকে পূর্ণ কর্মবিরতির যে ঘোষণা দিয়েছেন, শিক্ষার্থীরা তার সঙ্গে পূর্ণ সংহতি প্রকাশ করছে।
আমরা কোনো অবস্থাতেই অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে দেখতে চাই না এবং আমাদের যৌক্তিক দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত এই আন্দোলন চলবে। দেশের অন্যতম শীর্ষ এই প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনিক ও একাডেমিক পদায়ন নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা চলে আসছে। সাধারণ শিক্ষার্থীরা সবসময় একটি শিক্ষার্থীবান্ধব, প্রগতিশীল এবং নিরপেক্ষ প্রশাসনিক পরিবেশ প্রত্যাশা করে আসছেন। বর্তমান পরিস্থিতিতে উপাচার্য নিয়োগ ঘিরে সৃষ্ট জটিলতা দ্রুত নিরসন না হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করছেন অভিভাবক ও সাবেক শিক্ষার্থীরাও। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষ এই সংকট সমাধানে কী পদক্ষেপ নেয়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।