উত্তরাঞ্চল প্রতিনিধি : / : 11
নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলায় জমিজমা সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের একটি পারিবারিক বিরোধের জেরে এক কৃষকের বাড়ির সামনে জোরপূর্বক খলিয়ান দখল করে বাঁশের বেড়া দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এর ফলে গত এক সপ্তাহ ধরে অবরুদ্ধ হয়ে চরম মানবেতর জীবনযাপন করছেন ভুক্তভোগী কৃষক আদম আলী প্রামাণিক ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা। এ ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
নওগাঁ জেলা প্রতিনিধি মেহেদী হাসান অন্তর জানিয়েছেন, মহাদেবপুর উপজেলার মধুবন গ্রামের বাসিন্দা ইমাজ উদ্দিন ও আদম আলী প্রামাণিক সম্পর্কে আপন সহোদর ভাই। ভুক্তভোগী কৃষক আদম আলীর দাবি, তাঁদের বাড়ির পূর্ব পাশে অবস্থিত খলিয়ানটি তিনি বিগত প্রায় ২০ বছর ধরে নিরবচ্ছিন্নভাবে ব্যবহার ও ভোগদখল করে আসছেন। সম্প্রতি একটি ডুমুর (জগই) গাছ কাটা বা অপসারণকে কেন্দ্র করে দুই ভাই ও তাঁদের পরিবারের লোকজনের মধ্যে বিরোধের সূত্রপাত ঘটে। এই বিরোধের জের ধরেই ওই খলিয়ানে জোরপূর্বক গাছের চারা রোপণ করে চারপাশ বাঁশের বেড়া দিয়ে ঘিরে দেওয়া হয়।
আদম আলীর সুনির্দিষ্ট অভিযোগ অনুযায়ী, তাঁর বড় ভাই ইমাজ উদ্দিনের পক্ষের লোকজন এবং মৃত আবু সাইদের পক্ষের লোকজন যৌথভাবে এই খলিয়ানটি ঘিরে ফেলেছেন। বেড়া দেওয়ার কারণে তাঁদের বাড়ির মূল যাতায়াতের পথ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে বাধ্য হয়ে তাঁকে ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের প্রতিবেশীদের বাড়ির ভেতর দিয়ে অত্যন্ত কষ্টে ও ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে, যা তাঁদের চরম ভোগান্তিতে ফেলেছে।
এদিকে, অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করে ইমাজ উদ্দিনের ছেলে ইখতিয়ার উদ্দিন দুরন্ত দাবি করেন যে, তাঁরা বা তাঁদের পরিবারের কেউ ওই জায়গা জবরদখল করেননি। বরং মৃত আবু সাইদের পক্ষের লোকজন ওই জায়গায় এসে জোরপূর্বক বেড়া দিয়েছেন এবং তাঁরা কেবল পাশ থেকে পুরো বিষয়টি দেখেছেন। তিনি উল্টো অভিযোগ করে বলেন, তাঁর চাচার বাড়ির সামনের ডুমুর গাছের কারণে তাঁদের নিজস্ব শৌচাগারের ইটের প্রাচীর মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বারবার গাছটি সরিয়ে নেওয়ার অনুরোধ করা সত্ত্বেও তা করা হয়নি, বরং তাঁর চাচা তাঁদের বিরুদ্ধে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অভিযোগ এনেছেন।
অন্যদিকে, ভুক্তভোগী আদম আলী প্রামাণিক জানান, বাড়ির সামনের খলিয়ানটি তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহার করে আসলেও একটি গাছকে কেন্দ্র করে বড় ভাইয়ের সঙ্গে বিরোধ বাঁধার পর স্থানীয়ভাবে জমি মাপজোক করা হয়। এরপরই মৃত আবু সাইদের লোকজন সেখানে এসে বাঁশের বেড়া দিয়ে জায়গাটি সম্পূর্ণ অবরুদ্ধ করে ফেলে এবং গাছের চারা রোপণ করে। এই পুরো ঘটনায় তাঁর বড় ভাই ও ভাতিজারাও প্রত্যক্ষভাবে সহযোগিতা করেছেন বলে তিনি অভিযোগ করেন। বেড়া দেওয়ার ফলে পরিবার নিয়ে চলাচলের অবর্ণনীয় দুর্ভোগ পোহানোর কথা জানিয়ে তিনি দ্রুত এর সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রতিকার দাবি করেছেন।
এই অনভিপ্রেত ঘটনা ও অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মহাদেবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওমর ফারুক গণমাধ্যমকে জানান যে, এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখছে এবং দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।