ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬,  ১৪ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

জুন না ডিসেম্বর, নির্বাচন নিয়ে কেন এই টানাটানি


  • আপলোড সময় : শুক্রবার ০২ মে, ২০২৫ সময় : ৫:১৪ পিএম


সাখাওয়াত হোসেন

ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গঠিত অন্তর্বর্তী সরকার দেশের বিভিন্ন খাতে সংস্কারের কাজ করছে। জনদাবি অনুসারে জাতীয় সংসদ নির্বাচন আয়োজনের মাধ্যমে রাজনৈতিক শক্তির কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরেরও আলাপ করছে তারা।

তবে নির্বাচন অনুষ্ঠানের সময় নিয়ে বিভিন্ন আলোচনা তৈরি হয়েছে। দেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপি চাচ্ছে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই নির্বাচন হোক। জামায়াতে ইসলামীও আগামী রমজানের আগেই নির্বাচন চায়। এছাড়া বেশিরভাগ রাজনৈতিক দল বিএনপির সঙ্গে সুর মিলিয়ে ডিসেম্বরের মধ্যেই নির্বাচন করার দাবি তুলেছে। বামপন্থী দলগুলোও দ্রুত নির্বাচনের দাবি জানাচ্ছে। জুলাই অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া সংগঠকদের নিয়ে গঠিত নতুন দল জাতীয় নাগরিক পার্টিও (এনসিপি) বলছে, ফ্যাসিবাদের নেত্রী শেখ হাসিনার বিচারসহ তাদের দাবি পূরণ হলে যে কোনো সময় নির্বাচনে তারা রাজি।

অন্তর্বর্তী সরকার বলছে, নির্বাচন হবে ডিসেম্বর থেকে জুনের মধ্যে। প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক . মুহাম্মদ ইউনূস থেকে শুরু করে অন্য উপদেষ্টাদের মুখেও এমনই কথা উঠে আসছে। যদিও নির্বাচন কমিশন বলছে, তারা ডিসেম্বরের মধ্যেই নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে।

বিএনপি মনে করছে, অধ্যাপক . মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে আগস্টে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের বয়স প্রায় নয় মাস পার হতে চললেও এখনো জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ দেওয়া হচ্ছে না। এর ফলে জনমনে সন্দেহ তৈরি হচ্ছে এবং নানা প্রশ্ন উঠছে।

যদিও নির্বাচন অনুষ্ঠানের সময় নিয়ে সরকার রাজনৈতিক দলগুলোর চাহিদার মধ্যে খুব বেশি পার্থক্য নেই। কিন্তু সুস্পষ্ট রোডম্যাপ না দেওয়ায় সরকারের কথায় আশ্বস্ত হতে পারছে না বিএনপিসহ অন্যরা।

নির্বাচন বিলম্বিত হলে ষড়যন্ত্রের সুযোগ পাবে পতিত ফ্যাসিবাদ

বিএনপি নেতাদের যুক্তি, রোডম্যাপ না দেওয়ায় নির্বাচন বিলম্বিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। নির্বাচন বিলম্বিত হলে দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির শঙ্কা বাড়বে এবং রাষ্ট্র পতিত ফ্যাসিবাদের ষড়যন্ত্রের কবলে পড়বে। কারণে বিএনপি ডিসেম্বরেই নির্বাচন চায়। জুনের মধ্যে নির্বাচনের যে সময়ের কথা বলা হচ্ছে, বিএনপি সেটাকে মনে করছে নির্বাচন বিলম্বিত করার কৌশল।  কারণে গত ১৬ এপ্রিল প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকে দলটি আবারও ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন দেওয়ার কথা বলেছে। 

কিন্তু সরকারও আগের অবস্থান জানিয়েছে অর্থাৎ চলতি বছরের ডিসেম্বর থেকে আগামী জুনের মধ্যে নির্বাচন আয়োজন হবে। এর ফলে নির্বাচন কবে হবে রকম একটা প্রশ্ন সামনে চলে এসেছে এবং এক ধরনের অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হয়েছে বলে মনে করছে বিএনপি। কারণে ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচনের দাবিতে সব দলের ঐকমত্য গড়ে তুলে সরকারের ওপর চাপ তৈরির চেষ্টা করছে বিএনপি। এরই অংশ হিসেবে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনাও শুরু করেছে দলটি।

বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব মনে করছে, অন্তর্বর্তী সরকার আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সুনির্দিষ্ট কোনো রোডম্যাপ ঘোষণা না করায় নির্বাচনের সময় নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তাদের অভিযোগ, নির্বাচনের তারিখ সম্পর্কে সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট দিকনির্দেশনা না থাকায়, নির্বাচন নিয়ে জনগণের মধ্যে সন্দেহের সৃষ্টি হয়েছে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ  বলেন, গত ১৫ বছর আমরা লড়াই-সংগ্রাম করেছি। আওয়ামী ফ্যাসিবাদের অবসানের পর জনগণের প্রয়োজনেই নির্বাচন জরুরি। দেরিতে নির্বাচন হলে সমাজে বিশৃঙ্খলা আরও তীব্র হবে, জনগণ হতাশ হবে।

তিনি বলেন, প্রয়োজনীয় সংস্কার শেষে নির্বাচনের দিকে যাওয়ার অভিপ্রায় আমাদের ছিল। দুঃখজনক হলেও সত্য, গেল আট মাসে সংস্কার প্রক্রিয়া যেভাবে এগোনোর কথা ছিল, সেভাবে এগোয়নি। এটিকে দীর্ঘসূত্রিতা এবং আমলাতান্ত্রিক জটিলতার মধ্যে ফেলে দেওয়া হয়েছে।

ফেব্রুয়ারির পর থেকেই ছুটির ফাঁদ, আবহাওয়ার চ্যালেঞ্জ

রাষ্ট্রের নিয়মিত কার্যক্রম, ক্যালেন্ডার আর আবহাওয়ার গতিবিধি অনুসারে, চলতি বছরের ডিসেম্বরে যদি নির্বাচন না হয় তাহলে আগামী বছর নির্বাচন করতে গেলে বেশ কিছু সমস্যার মুখোমুখি হতে হবে।

আগামী বছরের রমজান শুরু হবে মধ্য ফেব্রুয়ারিতে। চলবে মধ্য মার্চ পর্যন্ত। এরপর থাকবে ঈদুল ফিতরের ছুটি। এপ্রিলে এসএসসি পরীক্ষা হওয়ার কথা আছে। এই সময় নির্বাচন হলে পরীক্ষা পেছাতে হবে, যা স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রমকে ব্যাহত করবে। এপ্রিলের পর মে মাসে আবার ঈদুল আজহা। মে মাসের শেষ সপ্তাহ থেকে ঈদে কোরবানির পশুর হাটকেন্দ্রিক ব্যস্ততা, এরপরে ঈদের আনুষ্ঠানিকতা ছুটি থাকছে।

তাছাড়া সময় তীব্র গরম থাকে। জুন থেকে আবহাওয়া আরও খারাপ হতে থাকে, এরপর আছে বর্ষাকাল। আবহাওয়া আবার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসতে নভেম্বর-ডিসেম্বর সময় লেগে যাবে। 

এসব চ্যালেঞ্জ বিশ্লেষণে বিএনপির নীতি-নির্ধারকরা মনে করছেন, নির্বাচন এতদিন বিলম্বিত হলে সংকট আরও ঘনীভূত হবে।

রাজনৈতিক ঐক্যগড়ে সরকারের ওপর চাপ তৈরির চিন্তাভাবনা

দলীয় সূত্রগুলো বলছে, বিএনপি দীর্ঘদিন ধরেই ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচনের দাবি করে আসছে। কিন্তু সরকার বিষয়টিকে বা বিএনপির দাবিকে গুরুত্ব দিচ্ছে না বলে নীতি-নির্ধারকরা মনে করছেন। বরং নির্বাচনের সঙ্গে সংস্কারের শর্ত জুড়ে দিচ্ছে সরকার। এতে নির্বাচন নিয়ে কালক্ষেপণের মতো পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার লক্ষণ প্রকাশ পাচ্ছে। কারণেই নির্বাচন নিয়ে দলটির শঙ্কা তৈরি হচ্ছে। আশঙ্কা থেকেই ডিসেম্বরে নির্বাচনের জন্য রাজনৈতিক দলগুলোর ঐকমত্য গড়ে সরকারের ওপর চাপ তৈরির চিন্তাভাবনা করছে দলটি। 

এই ইস্যুটি নিয়ে সমমনা বিভিন্ন দল, বিএনপির সঙ্গে যুগপৎ আন্দোলনে থাকা দলগুলোসহ বিগত সরকারের বিরুদ্ধে যেসব দল আন্দোলনে অংশ নিয়েছিল, তাদের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছে তারা। দ্রুতই প্রক্রিয়া শেষ হবে। এরই অংশ হিসেবে শনিবার (১৯ এপ্রিল) থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা শুরু হয়েছে। এদিন ১২ দলীয় জোট এলডিপির সঙ্গে বৈঠক করে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করে বিএনপি। 

সংস্কার প্রশ্নে সরকার বিএনপির অবস্থান

দায়িত্ব নেওয়ার পর নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে সরকার যেসব সংস্কার কাজে হাত দিয়েছে, তাতে শুরু থেকে সমর্থন আছে বিএনপি, জামায়াতসহ রাজনৈতিক দলগুলোর। সরকার বলছে, রাজনৈতিক দলগুলো ছোট পরিসরে সংস্কার চাইলে নির্বাচন ডিসেম্বরে হতে পারে, তবে বৃহত্তর পরিসরে হলে আগামী বছরের জুনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আর বিএনপিসহ দলগুলো নির্বাচনের জন্য প্রয়োজনীয় সংস্কার শেষেই ভোট আয়োজনের কথা বলে আসছে। বিএনপির হাইকমান্ড বলছে, নির্বাচনের জন্য যতটুকু সংস্কার প্রয়োজন তা দ্রুত করে ফেলা সম্ভব। ফলে নির্বাচনও দ্রুত করা সম্ভব। সংস্কার একটি চলমান প্রক্রিয়া। নির্বাচিত সরকার সংস্কারগুলো সম্পন্ন করবে।

বিএনপির সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা গত মঙ্গলবার গাইবান্ধায় এক অনুষ্ঠানে বলেন, বিগত ১৫ বছরে আওয়ামী লীগ যত অপরাধ করেছে, আগামী ১০০ বছর ধরে বিচারকার্য চালিয়ে গেলেও তা শেষ হবে না। তাই সংস্কার আর বিচার শেষ করার চিন্তা থেকে বেরিয়ে এসে দ্রুত নির্বাচনের আয়োজন করতে হবে।

বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ  বলেন, সব সমস্যার সমাধান অন্তর্বর্তী সরকার করতে পারবে না। সব সংস্কার করার সমর্থনও সরকারের নেই। একটি অবাধ, সুষ্ঠু গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য যে সংস্কার প্রয়োজন, সেগুলো অতিদ্রুত শেষ করে নির্বাচনের আয়োজন করতে হবে। সংস্কার চলমান প্রক্রিয়া, এটি অব্যাহত থাকবে।

 

চীনের ওপর শুল্ক আরোপ নিয়ে সুর নরম করলেন ট্রাম্প

চীনের ওপর আরোপিত শুল্ক নিয়ে এবার সুর নরম করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, চীনের ওপর পাল্টা শুল্ক যথেষ্ট পরিমাণে কমবে।

যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প কথা জানান। এর ফলে দুই দেশের অর্থনীতিতে যে বাণিজ্য যুদ্ধ শুরু হয়েছে তাতে স্বস্তি ফিরবে বলে মনে করা হচ্ছে।

ডোনাল্ট ট্রাম্প চীনা পণ্যের ওপর ১৪৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেন। চীনও এর পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় দফায় দফায় পাল্টা শুল্ক আরোপ করেছে, যা এখন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২৫ শতাংশে।

চীনের ওপর পাল্টা শুল্ক কমানো নিয়ে হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘১৪৫ শতাংশ অনেক বেশি হয়ে যায়। এটা যথেষ্ট পরিমাণে কমানো হবে। কমিয়ে এমন একটা জায়গায় নিয়ে আসা হবে, যেটা এত বেশি হবে না। তবে সেটা শূন্যও করা হবে না।

মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্টের করা এক মন্তব্য নিয়ে সাংবাদিকেরা প্রশ্ন করলে কথাগুলো বলেন ট্রাম্প।

চীনের ওপর পাল্টা শুল্ক নিয়ে ট্রাম্পের অবস্থান বদলের ঘোষণা এবং মার্কিন অর্থমন্ত্রীর মন্তব্যের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে বৈশ্বিক পুঁজিবাজারে।

 

সাবেক যুগ্ম সচিবসহ ১৫ বিচারকের সম্পদ বিবরণী তলব দুদকের

আইন মন্ত্রণালয়ের সাবেক যুগ্ম সচিব (প্রশাসন) বিকাশ কুমার সাহা সাবেক দুই বিচারকের বিরুদ্ধে ঘুষ দুর্নীতির মাধ্যমে অঢেল সম্পদ অর্জনের অভিযোগ অনুসন্ধানে সংশ্লিষ্ট তিনজনসহ মোট ১৫ জন বিচারকের ব্যক্তিগত নথিসহ সম্পদের বিবরণী তলব করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)

দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে আইন, বিচার সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর অনুসন্ধান টিমের পাঠানো চিঠির সূত্রে বৃহস্পতিবার (২৪ এপ্রিল) এসব তথ্য জানা গেছে।

এর আগে মঙ্গলবার (২২ এপ্রিল) দুদকের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত চিঠিটি সচিবের দপ্তরে পাঠানো হয়।

অনুসন্ধান কার্যক্রমের অংশ হিসেবে সংশ্লিষ্টদের পার্সোনাল ফাইল, ডাটাশিট এবং সর্বশেষ দাখিলকৃত সম্পদ বিবরণীর অনুলিপি আগামী ২৯ এপ্রিলের মধ্যে দাখিলের জন্য অনুরোধ করা হয়েছে চিঠিতে।

দুদকের চলমান অনুসন্ধানে যেসব বিচারিক কর্মকর্তা সরকারি কর্মকর্তাদের নথি তলব করা হয়েছে তারা হলেন- আইন মন্ত্রণালয়ের সাবেক যুগ্ম সচিব বিকাশ কুমার সাহা, ঢাকার সাবেক চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) রেজাউল করিম চৌধুর, সাবেক অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (এসিএমএম) মুহাম্মদ আসাদুজ্জামান, কুষ্টিয়ার নারী শিশু নির্ঘাতন ট্রাইব্যুনালের বিচারক শেখ গোলাম মাহবুব, কিশোরগঞ্জের নারী শিশু নির্যাতন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাহবুবুর রহমান সরকার, সিলেটের সাবেক জেলা জজ মনির কামাল, সাবেক ঢাকা মহানগর আদালতের সাবেক অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট তোফাজ্জল হোসেন, মাগুরার সাবেক অতিরিক্ত জেলা জজ মুশফিকুর ইসলাম, গাজীপুরের সাবেক চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কাইসারুল ইসলাম, নরসিংদীর সবেক চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোল্লা সাইফুল আলম, ময়মনসিংহের সাবেক বিশেষ জজ ফারহানা ফেরদৌস, শেরপুরের নারী শিশু নির্ঘাতন ট্রাইব্যুনালের সাবেক জজ কামরুন নাহার রুমি, ঢাকার সাবেক অতিরিক্ত জেলা জজ শওকত হোসেন, সিরাজগঞ্জের সাবেক অতিরিক্ত জেলা দায়রা জজ মোহাম্মদ এরফান উল্লাহ হবিগঞ্জ জেলা জজ সাইফুল আলম চৌধুরী।

মূলত আইন মন্ত্রণালয়ের সাবেক যুগ্ম সচিব (প্রশাসন) বিকাশ কুমার সাহা, ঢাকার সাবেক মুখ্য মহানগর হাকিম (সিএমএম) রেজাউল করিম সাবেক অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম (এসিএমএম) মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান নূর তাদের পরিবারের অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ অনুসন্ধানের সূত্র ধরে তাদের নথিপত্র তলব করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

দুদকের সহকারী পরিচালক মুহাম্মদ মনিরুল ইসলাম উপ-সহকারী পরিচালক মো. আব্দুল্লাহ আল মামুনের সমন্বয়ে গঠিত একটি টিম অনুসন্ধানের দায়িত্ব পালন করছেন।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, ২০১৪ সালে তৎকালীন সরকারের আইন, বিচার সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান আনিসুল হক। তার সময় থেকে ধীরে ধীরে কলুষিত হতে থাকে বিচার বিভাগ। আইন মন্ত্রণালয়, ঢাকা এবং এর আশপাশের আদালতে কর্মরত বেশকিছু বিচারক মন্ত্রীর আস্থাভাজন হয়ে ক্ষমতার অপব্যবহার, নানা অনিয়ম, দুর্নীতি, প্রতারণা জালিয়াতিতে জড়িয়ে পড়েন। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন আইন মন্ত্রণালয়ের সাবেক যুগ্ম সচিব (প্রশাসন) বিকাশ কুমার সাহা, ঢাকার সাবেক মুখ্য মহানগর হাকিম (সিএমএম) রেজাউল করিম সাবেক অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম (এসিএমএম) মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান নূর। ঘুষ গ্রহণ, অপরাধমূলক অসদাচরণ বিভিন্ন অনিয়মের মাধ্যমে অর্থ উপার্জন করে তারা নিজ বা পরিবারের সদস্যদের নামে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ অর্জন করেন।

ভারত-পাকিস্তান সংঘাতের শঙ্কা

কাশ্মীরের পাহাড়ঘেরা উপত্যকা পেহেলগাম দীর্ঘদিন ধরেই পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয় স্থান। মিনি সুইজারল্যান্ডখ্যাত এই এলাকায় প্রতি বছর হাজারো পর্যটকের সমাগম হয়। তবে গত মঙ্গলবার বন্দুকধারীরা পর্যটকদের ওপর গুলি চালানোর ঘটনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। হামলার দায় স্বীকার করেছেরেজিস্ট্যান্স ফ্রন্টনামে একটি গোষ্ঠী।

তারা দাবি করেছে, অঞ্চলটিতে ৮৫ হাজার বহিরাগত বসতির প্রতিবাদে হামলা চালানো হয়েছে। তবে ভারতের পুলিশ বলছে, ভারতীয় শাসনের বিরোধী সন্ত্রাসীরা হামলার পেছনে রয়েছে। ভারতের সাবেক সামরিক গোয়েন্দা কর্মকর্তারা অভিযোগ করেছেন, পাকিস্তানের সেনাবাহিনী হামলার নেপথ্যে রয়েছে। এর বিরুদ্ধে দৃঢ় দ্রুত জবাব দেওয়ার কথা বলেছেন তারা।

এর পরিপ্রেক্ষিতে ভারত-পাকিস্তান সংঘাতের শঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে বলে মঙ্গলবার এক প্রতিবেদনে জানায় লন্ডনভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য ইকোনমিস্ট।

কাশ্মীরের পরিস্থিতি স্থিতিশীল বলে ভারত সরকার যে দাবি করে আসছিল, হামলা সেটিকে বড় ধরনের ধাক্কা দিল। ১৯৮৯ সাল থেকে শুরু হওয়া ভারতবিরোধী সশস্ত্র বিদ্রোহে পর্যন্ত কয়েক হাজার মানুষ নিহত হয়েছে। ২০১৯ সালে কাশ্মীরের স্বায়ত্তশাসন বাতিল করার পর কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে পরিণত হয় জম্মু কাশ্মীর এবং লাদাখ। সিদ্ধান্তের ফলে বহিরাগতরা এলাকায় জমি কেনা চাকরি পাওয়ার সুযোগ পেয়েছে, পর্যটনও বেড়েছে। তবে পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্কে দিন দিন অবনতিই ঘটেছে।

সম্প্রতি এক ভাষণে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনির কাশ্মীরকেপাকিস্তানের শিরার ধমনির সঙ্গে যুক্তবলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, আমরা কাশ্মীরের কথা ভুলব না এবং আমাদের কাশ্মীরি ভাইদের ন্যায়সংগত সংগ্রাম থেকে মুখ ফিরিয়ে নেব না। ভারতের সাবেক এক নিরাপত্তা বিশ্লেষক বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিদেশ সফরের সময় হামলা চালানো হয়েছে আন্তর্জাতিক নজর কাড়ার জন্য এবং কাশ্মীরের পর্যটন খাত ক্ষতিগ্রস্ত করার জন্য।

 

ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে পর্যটকদের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িত বন্দুকধারীদের খুঁজতে বুধবার সাঁড়াশি অভিযান শুরু করেছে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী। সন্ত্রাসীদের অনুসন্ধান অভিযান ত্বরান্বিত করতে হামলায় জড়িত তিন সন্দেহভাজনের স্কেচ প্রকাশ করেছে র্কর্তৃপক্ষ। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি খবর জানিয়েছে।

নিরাপত্তা বাহিনীর দাবি, হামলাকারীদের সবাই লস্কর--তৈয়বার সদস্য। ঘটনাকে ২০০০ সালের পর ওই অঞ্চলে হওয়া সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলা বলে বিবেচনা করা হচ্ছে। ভারতের সরকারি কর্মকর্তাদের বরাতে রয়টার্স জানিয়েছে, মঙ্গলবার দক্ষিণ কাশ্মীরের জনপ্রিয় পর্যটন এলাকা পেহেলগামে সন্ত্রাসী হামলায় অন্তত ২৬ জন নিহত এবং ১৭ জন আহত হয়েছে। নিহতদের মধ্যে একজন সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং একজন নেপালের নাগরিক ছিলেন। ছাড়া দুজন স্থানীয় বাসিন্দাও রয়েছেন।

হামলার দায় স্বীকার করে বিবৃতি দিয়েছে দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট নামের একটি গোষ্ঠী। এটি পাকিস্তানভিত্তিক নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন লস্কর--তৈয়বার প্রক্সি শাখা। হামলার সময় সৌদি আরবে রাষ্ট্রীয় সফরে ছিলেন ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। খবর পাওয়া মাত্রই সফর সংক্ষিপ্ত করে বুধবার ভোরে দিল্লি পৌঁছান তিনি।

মোদি বলেন, এই নৃশংস হামলার পেছনে যারা রয়েছে, তাদের বিচার হবেই। কাউকে রেহাই দেওয়া হবে না। তাদের ঘৃণ্য ষড়যন্ত্র সফল হবে না। সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে আমাদের লড়াই সবসময়ই অটুট ছিল। এখন সেটা আরও দৃঢ় হবে। এরপর জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে জরুরি বৈঠকে বসেছেন তিনি। ঘটনার পর তাৎক্ষণিকভাবে কাশ্মীরের উদ্দেশে রওনা দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। সেখানে পৌঁছে মুখ্যমন্ত্রী ওমার আবদুল্লাহ এবং লেফটেন্যান্ট গভর্নর মনোজ সিনহার সঙ্গে বৈঠক করেছেন তিনি। হামলার প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান অনুযায়ী, সন্ত্রাসীরা প্রথমে পর্যটকদের ধর্মীয় পরিচয় জানতে চায়। এরপর পুরুষদের গুলি করে হত্যা করে। নিহতদের মরদেহ যার যার বাড়িতে পাঠানোর ব্যবস্থা করেছে র্কর্তৃপক্ষ।

এদিকে পেহেলগামে হামলার ঘটনায় থমথমে হয়ে আছে কাশ্মীর। উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় কাশ্মীর ছাড়ার চেষ্টা করছেন পর্যটকরা। কাশ্মীর জুড়ে সব ব্যবসা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। বুধবার বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অনেক পর্যটকই এখন কাশ্মীর ছাড়ার চেষ্টা করছেন। একই তথ্য জানিয়েছে শ্রীনগর বিমানবন্দরের ট্যুর অপারেটররা। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করতে ভারতের ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সির (এনআইএ) একটি দল ইতিমধ্যেই শ্রীনগরে পৌঁছেছে। পাশাপাশি দেশটির শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তারাও পেহেলগাম পরিদর্শনে যাবেন। তবে বৈসরণ উপত্যকায় পর্যটকদের ওপর হামলার ঘটনাস্থলে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না সাংবাদিকদের। এমনকি ঘটনায় আহতদের সঙ্গে কথাও বলার সুযোগ মিলছে না তাদের। যেতে দেওয়া হচ্ছে না হাসপাতালে। এক প্রতিবেদনে তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি।

বুধবার বিবিসির সাংবাদিক ইউগিতা লিমায়ে বলেন, আমরা পেহেলগামে হামলার স্থান থেকে প্রায় ৬০ কিলোমিটার (৩৭ মাইল) দূরে। সাংবাদিকদের নিরাপত্তা বেষ্টনী অতিক্রম করতে দেওয়া হচ্ছে না। পুলিশ বলছে, স্থানের বাইরে মিডিয়াকে যেতে না দিতে তাদের ওপর নির্দেশ রয়েছে। যদিও এখানে বেসামরিক চলাচলের ওপর কোনো বিধিনিষেধ নেই। এর ফলে আমাদের পক্ষে আহত আক্রান্তদের চিকিৎসার জন্য রাখা হাসপাতালে পৌঁছানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে। তবে নিষেধাজ্ঞা আরোপের আগেই কিছু সাংবাদিক সেখানে পৌঁছাতে সক্ষম হন বলেও জানান ইউগিতা লিমায়ে।

অন্যদিকে পেহেলগামে সন্ত্রাসী হামলার আতঙ্কের মধ্যেই কাশ্মীরের বারমুলা জেলার উরিতে ভারতীয় সেনাবাহিনীর সঙ্গে সন্ত্রাসীদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বুধবারের ঘটনায় দুজন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস জানিয়েছে, সকালে সন্ত্রাসীরা উরিতে অনুপ্রবেশের চেষ্টা করলে সেনাবাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষ শুরু হয়। এতে দুই অনুপ্রবেশকারী নিহত হয়েছে।

ভারতীয় সেনাবাহিনী আরও স্পষ্ট করে জানিয়েছে, দুই-তিনজন সন্ত্রাসী সাধারণ এলাকা দিয়ে বারামুল্লার উরি নালায় অনুপ্রবেশের চেষ্টা করে। সময় সেনাসদস্যরা বাধা দিলে তারা গুলি ছোড়ে।

লেখক -সিনিয়র সাংবাদিক

 

 


এ সম্পর্কিত আরো খবর