ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬,  ১৩ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

মুসলমানদের বর্তমান সমস্যার শেকড় কোথায়, সেটা কি হজের বারায়াতে?


  • আপলোড সময় : মঙ্গলবার ০৩ জুন, ২০২৫ সময় : ৪:১২ পিএম

বারায়াত পবিত্র কুরআনের একটি শব্দ। এর অর্থ মূলত মুশরিক ইসলামের শত্রুদের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করা এবং তাদেরকে অপছন্দ করা। পূর্ববর্তী জাতিগুলোর মাঝেও মুশরিকদের সঙ্গে সম্পর্কচ্ছেদেরে প্রথা ছিল, কিন্তু ইসলামের আবির্ভাব এবং মহানবী (.)' নব্যুয়তপ্রাপ্তির পর থেকে ইসলাম ধর্মে এই প্রথাটি ব্যাপকভাবে চালু হয়। পার্সটুডে এসব তথ্য জানিয়েছে। পবিত্র কুরআনের অসংখ্য আয়াতে এই শিক্ষার উপর জোর দেওয়া হয়েছে।

বারায়াত বা সম্পর্কচ্ছেদের আয়াত

সূরা তওবা বা সূরা বারায়াতের নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, মহান হজের দিনে আল্লাহ তাঁর রসূলের পক্ষ থেকে মানুষের প্রতি এক ঘোষণা যে, আল্লাহ তাঁর রসূলের সাথে মুশরিক বা অংশীবাদীদের কোন সম্পর্ক নেই। এছাড়া, সূরা ফাতহের ২৯ নম্বর আয়াতে, সূরা মায়িদার ৫১ নম্বর আয়াতে, সূরা তওবার ১১৪ নম্বর আয়াতে এবং সূরা মুমতাহিনার নম্বর আয়াতে বারায়াতের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

বারায়াতের প্রকাশ্য ঘোষণা

মুশরিকরা মহানবী (.)' সঙ্গে চুক্তি ভঙ্গ করার পর ইসলামের ইতিহাসে প্রথম মুশরিকদের সাথে সম্পর্কচ্ছেদের প্রকাশ্য ঘোষণা দেওয়া হয়। ৬৩০ খ্রিস্টাব্দে মুসলমানেরা মক্কা বিজয় করার পর মুশরিকরা মহানবী (.)-এর সাথে যে চুক্তি করেছিল, তারা তা ভঙ্গ করেছিল। চুক্তিটির বিষয়বস্তু ছিল আক্রমণ বা শত্রুতা না করা।

সেই বছরেরই দশম যিলহজ্জের বিকেলে মিনায় খুতবা দেওয়ার জন্য দাঁড়ান আমিরুল মুমিনিন হজরত আলী (.) তিনি সূরা তওবা বা বারায়াতের প্রথম কয়েকটি আয়াত উচ্চারণ করার পর মহানবী (.)' পক্ষ থেকে সম্পর্কচ্ছেদের বার্তাটি সবার সামনে তুলে ধরেন।

কেন হজের সময় বারায়াত?

যেহেতু হজের সময়ই প্রথমবার মহানবী হজরত মুহাম্মাদ (.) মুশরিকদের সঙ্গে সম্পর্কচ্ছেদের ঘোষণা দেন এবং মহানবীর (.) সুন্নত চিরন্তন, কারণে এই সুন্নত হজের সময়ই বাস্তবায়িত হয়। তবে মনে রাখতে হবে, মুশরিকদের সঙ্গে সম্পর্কচ্ছেদ কোনো অস্থায়ী বিষয় নয়। প্রত্যেক মুসলমানকে সারা জীবন মুশরিকদের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন রাখতে হবে এবং তাদের প্রতি ঘৃণা প্রকাশ করতে হবে।

বারায়াতের সুন্নতের পুনরুজ্জীবন

মুশরিকদের সঙ্গে সম্পর্কচ্ছেদের সুন্নতের পুনরুজ্জীবন এবং বর্তমান যুগে এর মৌলিক ভিত্তি নীতিমালা ব্যাখ্যা করেছেন ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের প্রতিষ্ঠাতা ইমাম খোমেনী (রহ.)  তিনি মহানবী (.) এর নির্দেশে কাবার মূর্তিগুলো ভাঙাকে মুশরিকদের সঙ্গে সম্পর্কচ্ছেদের দৃষ্টান্ত বলে মনে করেন। মুসলমানদের রক্ষা করাকেও মুশরিকদের সঙ্গে সম্পর্কচ্ছেদ বা বারায়াতেরই একটি দিক বলে গণ্য করতেন।

আয়াতুল্লাহ খামেনেয়ী' বক্তব্য

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী বলেছেন, "মুশরিকদের সঙ্গে বারায়াত বা সম্পর্কচ্ছেদ এমন কোনো বিষয় নয় যে, সেটাকে আমরা হজের মধ্যে চালু করেছি যা এর অংশ ছিল না। এটা হজেরই অংশ, এটা হজের রুহ। এই বিশাল সমাবেশের আসল মর্মার্থ এর মধ্যে রয়েছে। বারায়াতের অর্থ হলো মানুষ [হজে] একত্রিত হবে এবং ঐসব জালিম খুনিদের বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলবে যারা টাই ইস্ত্রি করা করা জামা-কাপড় পড়ে সুগন্ধি মেখে সবচেয়ে বর্বরদের মতো মানুষ হত্যা করে, একই সঙ্গে যারা তাদের সমর্থন করে এবং বিশ্ব ফোরামে তাদের পক্ষে সিদ্ধান্ত নেয় তাদের বিরুদ্ধেও আওয়াজ তুলতে হবে। 

সকল সৌভাগ্যবান হজযাত্রী বিশেষকরে এই ঐশী সমাবেশে উপস্থিত মুসলিম দেশগুলোর আলেম, খতিব এবং দুই পবিত্র মসজিদের জুমার নামাজের ইমামদের প্রতি আমার জোরালো আহ্বান হচ্ছে, আপনারা বিষয়টি সম্পর্কে সঠিক ধারণা নিয়ে বর্তমান সময়ের জরুরি দায়িত্ব-কর্তব্য চিহ্নিত করুন... আপনাদের উচিত দাম্ভিক শক্তি এবং মুসলিম উম্মাহর শত্রুদের বিরুদ্ধে বিশেষকরে ইহুদিবাদী ইসরাইল এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটানো। তাদেরকে অবশ্যই কথায় এবং কাজে উভয় ক্ষেত্রেই মুশরিকদের বর্জন করতে হবে।

এশিয়ান পোস্ট/আরজে 


এ সম্পর্কিত আরো খবর