থাইল্যান্ডের ব্যাংককে অনুষ্ঠিত ৭৪তম মিস ইউনিভার্স প্রতিযোগিতার গ্র্যান্ড ফাইনালে বিশ্বসুন্দরীর মুকুট উঠে গেল মেক্সিকোর ফাতিমা বশ-এর মাথায়। শুক্রবার রাতের অনুষ্ঠানে ১২২ দেশের প্রতিযোগীকে পেছনে ফেলে জয় ছিনিয়ে নেন ২৬ বছর বয়সী এই তরুণী। এর মধ্য দিয়ে চতুর্থবারের মতো মিস ইউনিভার্সের শিরোপা জিতল মেক্সিকো।
তবে ফাতিমার প্রাপ্তি শুধু ৫ মিলিয়ন ডলার মূল্যের সেই দৃষ্টিনন্দন মুকুটেই সীমাবদ্ধ নয়। বিজয়ী হিসেবে তিনি যে পুরস্কার, সুবিধা ও সুযোগ-সুবিধার অধিকারী হয়েছেন, তার আর্থিক মূল্য জানলে বিস্মিত না হয়ে উপায় নেই।
মিস ইউনিভার্স অর্গানাইজেশন (MUO) আনুষ্ঠানিকভাবে ২০২৫ সালের পুরস্কারের পূর্ণ তালিকা প্রকাশ না করলেও, অভ্যন্তরীণ সূত্র বলছে—গত বছরের বিজয়ী ভিক্টোরিয়া কেয়ারের মতো প্রায় একই ধরনের বিলাসবহুল পুরস্কার প্যাকেজ থাকছে এই বছরও। জানা গেছে, নতুন বিশ্বসুন্দরী তার এক বছরের মেয়াদে আন্তর্জাতিক ভ্রমণ, সাক্ষাৎকার, মহৎ উদ্যোগে কাজ এবং বিভিন্ন গ্লোবাল প্রজেক্ট সম্পাদনের জন্য একটি প্রাথমিক তহবিল পান, সঙ্গে থাকে নির্দিষ্ট মাসিক আয়।
সূত্র বলছে, এই বছরের বিজয়ী ফাতিমার জন্য নির্ধারিত হয়েছে আড়াই লক্ষ মার্কিন ডলারের একটি বিশেষ পুরস্কার—বাংলাদেশি মুদ্রায় যা দুই কোটি সাতাত্তর লাখ টাকারও বেশি। এছাড়াও মাসিক বেতন হিসেবে তিনি পাবেন প্রায় ৫০,০০০ মার্কিন ডলার, অর্থাৎ ৫৫ লাখ টাকার বেশি।
এর পাশাপাশি থাকছে ফ্যাশন, ভ্রমণ ও সাজসজ্জার জন্য আলাদা বরাদ্দ। এই খরচ বহন করবে মিস ইউনিভার্স কর্তৃপক্ষ। বিশ্বব্যাপী ভ্রমণে বিজয়ীর পোশাক, মেকআপ, ফটোশুট এবং বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের ব্যয়ও এর অন্তর্ভুক্ত।
এবারের আসরে ফাতিমার মাথায় যে মুকুট পরানো হয়েছে—তার বাজারমূল্য পাঁচ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি। শুধু রাজকীয় নান্দনিকতা নয়, এটি বিশ্বের অন্যতম ব্যয়বহুল ও দুর্লভ মুকুট হিসেবেও পরিচিত। মূল্যবান পাথর আর বিশেষ ডিজাইনে তৈরি এই মুকুটটি বিশ্বসুন্দরীর মর্যাদা আরও উজ্জ্বল করে তোলে।
তবে এখানেই শেষ নয় ফাতিমার প্রাপ্তির তালিকা। বিজয়ী হিসেবে এক বছরের জন্য তিনি নিউইয়র্ক সিটিতে বিলাসবহুল আবাসন পাবেন, যার সম্পূর্ণ খরচ বহন করবে মিস ইউনিভার্স অর্গানাইজেশন। থাকবে সার্বক্ষণিক গ্ল্যাম স্কোয়াড, স্বাস্থ্যসেবা টিম, ব্যক্তিগত ড্রাইভারসহ প্রিমিয়াম ভ্রমণ সুবিধা এবং বিশ্বজুড়ে পাঁচ-তারকা হোটেলে থাকা-খাওয়ার সুযোগ।
পাশাপাশি যুক্ত হবে বিশ্বের শীর্ষ ব্র্যান্ডগুলোর সঙ্গে এনডোর্সমেন্টের সুযোগ, আন্তর্জাতিক রেড কার্পেট, ফ্যাশন শো ও গালা ইভেন্টে অংশ নেওয়ার সুযোগ, এবং বিভিন্ন দাতব্য সংস্থার সঙ্গে কাজ করার সম্মান।
সব মিলিয়ে দেখা যায়, মিস ইউনিভার্স শুধু একটি সৌন্দর্য প্রতিযোগিতাই নয়—বিজয়ীর জন্য এটি এক বছরব্যাপী রাজকীয় জীবনধারা আর সফল ক্যারিয়ারের দরজা খুলে দেয়।
সূত্র: গালফ নিউজ
আকাশজমিন / আরআর