সাংবাদিক আনিস আলমগীরকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। রোববার (১৪ ডিসেম্বর) রাত আনুমানিক ৮টা ৫০ মিনিটে তিনি নিজেই বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। মুঠোফোনে আনিস আলমগীর জানান, তিনি বর্তমানে ডিবি হেফাজতে রয়েছেন।
ঘটনাটি নিশ্চিত করেছেন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার শফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, সাংবাদিক আনিস আলমগীরকে ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে আসা হয়েছে এবং কিছু নির্দিষ্ট বিষয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।
তার বিরুদ্ধে কোনো মামলা রয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার বলেন, নির্দিষ্ট কিছু বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্যই তাকে ডিবিতে আনা হয়েছে। অন্য কোনো তথ্য প্রয়োজন হলে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টার থেকে জানানো হবে।
সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, রাজধানীর ধানমন্ডির একটি জিম থেকে সাংবাদিক আনিস আলমগীরকে ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে ঠিক কী অভিযোগ বা কোন ঘটনার বিষয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে—সে বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।
এ ঘটনায় সাংবাদিক মহলে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। একজন কর্মরত সাংবাদিককে ডিবি হেফাজতে নেওয়ার বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। সাংবাদিকতার স্বাধীনতা, পেশাগত নিরাপত্তা এবং গণমাধ্যমকর্মীদের অধিকার নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
এদিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এটি নিয়মিত জিজ্ঞাসাবাদের অংশ এবং তদন্তের স্বার্থে কিছু বিষয় এই মুহূর্তে প্রকাশ করা সম্ভব নয়। ডিবির দাবি, আইন অনুযায়ীই সব কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
এর আগে বিভিন্ন সময় গণমাধ্যমকর্মীদের জিজ্ঞাসাবাদের ঘটনায় স্বচ্ছতা ও স্পষ্টতার দাবি উঠেছিল। বর্তমান ঘটনাটিও সেই আলোচনাকে আবার সামনে নিয়ে এসেছে। সাংবাদিক সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।
ডিবি হেফাজতে নেওয়ার পর সাংবাদিক আনিস আলমগীরের শারীরিক অবস্থা ও আইনগত অধিকার নিয়ে পরিবারের সদস্য এবং সহকর্মীরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা আশা করছেন, দ্রুতই বিষয়টির স্পষ্ট ব্যাখ্যা পাওয়া যাবে এবং আইনানুগ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই সবকিছু সম্পন্ন হবে।
পরবর্তী সময়ে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারের পক্ষ থেকে বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
আকাশজমিন / আরআর